মেইন ম্যেনু

সিনিয়রদের দুষলেন নারী ক্রিকেট দলের কোচ

পাকিস্তান থেকে বুধবার খালি হতে দেশে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ওই সফরে দুটি টি২০ এবং দুটি ওয়ানডে ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে সালমা খাতুনের দল। নারী দলের এমন ভরাডুবির পেছনে সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংকে দায়ী করেছেন দলের প্রধান কোচ চাম্পিকা গামাগে।

আগেরদিন বিমান বন্দর থেকে সরাসরি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে সফরের ব্যর্থতার গল্প বলতে গিয়ে ক্যাপ্টেন সালমা ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করেছিলেন। বৃহস্পতিবার নারী দলের প্রধান কোচ চাম্পিকা গামাগেও সালমার সুরেই কথা বলেছেন। তবে এমন বাজে সফরের পেছনে অনুশীলনে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন এই লংকান কোচ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ নারী দলের পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চাম্পিকা গামাগে। সালমা খাতুনদের এমন হতাশজনক পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে নারী দলের প্রধান কোচ বলেন, ‘বাজে ব্যাটিংয়ের জন্যই দলের এমন পারফরম্যান্স। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেনি। যদিও আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভালো ছিল। পাকিস্তানে যাওয়ার আগে এখানে অনুশীলন হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা অনুশীলন ম্যাচও খেলেছি। ব্যাটিং নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করাও হয়েছে। তবে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টটা ইউনিট হিসেবে ভালো করতে পারেনি।’

পর্যাপ্ত অনুশীলনের পরও কেন এমন ব্যাটিং হলো। এমন প্রশ্নের জবাবে গামাগে বলেন, ‘ দলের সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারেনি। তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করেছে। এজন্যই ব্যাটিংয়ের এমন নাজুক অবস্থা। তবে দলে থাকা নতুন দুইটা মেয়ে ভালোই করেছে। কিন্তু সিনিয়র ব্যাটসম্যনাদের নিয়ে আমি খুশি নই। ওরা দায়িত্বহীন ব্যাটিং করেছে।’

তবে এই পারফরম্যান্সই দলের সামর্থ্য মানতে নারাজ গামাগে। তাই মেয়েদের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে লংকান কোচের কন্ঠে ঝড়েছে আক্ষেপ, ‘এটাই সামর্থ্য নয়, মেয়েরা আরও অনেক ভালো ব্যাটিং করতে পারে। অনুশীলনে ও ম্যাচে তো ভালো ব্যাটিং করে। পাকিস্তানের বোলিংও এমন ভালো কিছু ছিল না। একটা বাঁহাতি স্পিনার ছিল শুধু ভালো। আর ওদের পেসাররা তো অনেক কম গতিতে বোলিং করে। উইকেটও অনেক ভালো ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। আমাদের ভালো ব্যাটিং করতে না পারার কারণ নেই। আমি তো জানি মেয়েদের সামর্থ্য, অনেক ভালো করতে পারে ওরা। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারেনি দুই একজন ছাড়া।’

পাকিস্তান সফরে ব্যাট-বলে আলো ছড়াতে পারেনি দলনায়ক সালমা খাতুন। পুরো সফরে নারী দলের অধিনায়হ ছিলেন নিস্প্রভ। সালমার পারফরম্যান্স না করতে পারায় তার প্রভাব পড়েছে পুরো দলের ওপর।

এ বিষয়ে গামাগে বলেন, ‘ সালমা টি২০-এর এক নাম্বার অলরাউন্ডার। অনেক দিন ধরে খেলছে। ভাল ক্রিকেটার সে। কিন্ত তার মতো একজন ক্রিকেটারের আরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা উচিত ছিল। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের কেউই উইকেটে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। শেষ ওয়ানডেতে তো সবাই বাজে শট খেলে আউট হয়েছে। তাই পুরো দলের ব্যাটিং নিয়ে আমি খুবই হতাশ।’ পাকিস্তান সফরে নতুনদের মধ্যে নাহিদা ও উইকেটকিপার জ্যোতির প্রশংসা করেন নারী দলের কোচ।

বুধবার বোর্ড সভায় লংকান এই কোচের চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছে বিসিবি। তাই নারী দলের প্রধান কোচের লক্ষ্য দলটাকে র‌্যাংকিংয়ে আরও উপরে তোলা। এ বিষয়ে গামাগে বলেন, ‘ দায়িত্ব নিয়েই বলেছিলাম আমার টার্গেট আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে দলকে ওপরে তুলে আনা। এখন মেয়াদ বেড়েছে আমার, লক্ষ্যটা আমার ওটাই আছে। আর নিকট ভবিষ্যতে লক্ষ্য দলকে টি২০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানো।’

পাকিস্তনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে নারী দলের এই কোচ বলেন, ‘নিরাপত্তার কোনো সমস্যা ছিল না। বাংলাদেশের মতোই নিশ্চিন্তে খেলেছি আমরা। সমস্যা কিছুই অনুভব করিনি। খুব ভাল আয়োজন ছিল। সবাই আমাদের দারুণ সমাদর করেছে।’






মন্তব্য চালু নেই