মেইন ম্যেনু

সিনেমার কাহিনী হলেও সত্যি

সিনেমার গল্প মানেই যে কাল্পনিক তা কিন্তু নয়। সিনেমা জীবনেরই একটি প্রতিচ্ছবি। বলা হয়, আশপাশে যা ঘটে তাই উঠে আসে সেলুলয়েডে। বইয়ের পাতা থেকেও উঠে আসে। কমার্শিয়াল ব্যাপার সিনেমায় থাকে বটে। আইটেম ডান্স, রোম্যান্স, প্রেমে ধাক্কা খেয়ে কান্নাকাটি… কিন্তু এ সব বাদ দিলে এমন অনেক সিনেমা আছে যা একেবারে বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জেনে নিন বলিউডের তেমন কিছু সিনেমার খবর।

নো ওয়ান কিলড জেসিকা

জেসিকা লালকে নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছিলেন রাজকুমার গুপ্তা। সিনেমার টাইটেল ২০০৬ সালের একটি খবরের হেডলাইন থেকে নেওয়া হয়। জেসিকার বোন সাবরিনা লাল জেসিকার হত্যাকারীর শাস্তির দাবিতে সরব হন। মামলাটি নিয়ে তখন সরগরম ছিল মিডিয়া। বলা ভালো, জোসিকা লাল হত্যাকাণ্ডে সংবাদমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা ছিল। শেষ পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত মনু শর্মার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। সিনেমায় সাবরিনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালান। রানি মুখার্জি এক সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেন।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে

হুসেন জ়াইদির উপন্যাস ‘দ্য ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ অবলম্বনে সিনেমাটি বানিয়েছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ব্লাস্ট ও তার পরের অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছিল সিনেমাটি। ব্ল্যাক ফ্রাইডে-কে প্রথমে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত সরকার। পরে অবশ্য সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। সিনেমায় পবন মালহোত্রা টাইগার মেমন ও ইমতিয়াজ় আলি ইয়াকুব মেমনের চরিত্রে অভিনয় করেন। দাউদ ইব্রাহিমের চরিত্রে ছিলেন বিজয় মৌর্য। ডিসিপি রাকেশ মারিয়া হয়েছিলেন কে কে মেনন।

ম্যাড্রাস ক্যাফে

ম্যাড্রাস ক্যাফে একটি পলিটিকাল থ্রিলার। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ ও রাজীব গান্ধি হত্যা নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছিলেন সুজিত সরকার। সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন জন আব্রাহাম ও নার্গিস ফখরি। সিনেমাটি বক্স অফিসে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল।

দ্য স্টোনম্যান মার্ডারস

আটের দশকে বম্বেতে এক সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব হয়। পাথরের আঘাতে সে রাস্তার ঘুমন্ত লোকের মাথা থেঁতলে দিত। সেই সময়কার সেই ঘটনাকে পর্দায় তুলে এনেছিলেন মণীশ গুপ্তা।

স্পেশাল ২৬

ইনকাম ট্যাক্সের রেইড পড়েছিল মুম্বাইয়ের একটি জুয়েলারি হাউজ়ে। কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট সত্যিই সেই রেইড করেনি। ইনকাম ট্যাক্স অফিসারদের বেশে একদল ডাকাত লুট করেছিল অপেরা হাউজ়। সেই মামলার সমাধান আজও হয়নি। ১৯৮৭ সালে অপেরা হাউজ়ের এই ডাকাতি নিয়ে স্পেশাল ২৬ তৈরি করেন নীরজ পান্ডে।

গুলাব গ্যাং

বুন্দেলখণ্ডের গুলাব গ্যাং ছিল এই সিনেমার ইন্সপিরেশন। সম্পত পাল দেবীর এই গ্যাং ঘরোয়া হিংসার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছিল। সেই গল্পটিকেই সেলুলয়েডে তুলে ধরেছিলেন সৌমিক সেন।

ওয়ানস আপন আ টাইম ইন মুম্বাই

হাজি মাস্তান। একসময় গোটা মুম্বাই শহরে রাজ করতেন এই গ্যাংস্টার। তার সঙ্গে ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। দু’জনে ত্রাস ছিলেন বাণিজ্যনগরীর। সেই সময়কার গল্প নিয়েই মিলন লুথরিয়া তৈরি করেছিলেন ওয়ানস আপন আ টাইম ইন মুম্বাই। সিনেমাটিতে হাজি মাস্তানের জীবনকে ধরা হয়েছিল। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন। দাউদের জীবনও খানিকটা উঠে এসেছিল সিনেমাটিতে।

ব্যানডিট কুইন

একসময় চম্বলজুড়ে রাজত্ব ছিল ফুলন দেবীর। তার জীবন নিয়ে শেখর কাপুর বানিয়েছিলেন ব্যানডিট কুইন। সিনেমায় ফুলন দেবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সীমা বিশ্বাস। ডাকাত বিক্রম মল্লার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নির্মল পান্ডে। ফুলন দেবীর ছোটোবেলা থেকে আত্মসমর্পণ পর্যন্ত পুরো গল্পটাই সিনেমাটিতে তুলে ধরা হয়।

গ্যাংস অব ওয়াসেপুর

ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এলাকার কোল মাফিয়াদের নিয়ে সিনেমা তৈরি করেছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। গ্যাংস অব ওয়াসেপুর। সিনেমাটি দু’টি ভাগে রিলিজ় করেছিল। প্রথমটিতে মনোজ বাজপেয়ি ও দ্বিতীয়টিতে নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকি লিড রোলে অভিনয় করেন।

গুরু

কখনো অফিসিয়ালি এ কথা বলা হয়নি। কিন্তু বলা হয় ধীরুভাই আম্বানির জীবন নিয়েই তৈরি হয়েছিল গুরু। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন মণিরত্নম। গুরুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিষেক বচ্চন।






মন্তব্য চালু নেই