মেইন ম্যেনু

সিন্ডিকেটের কবলে ছাত্রলীগ!

সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের একটি অংশ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের বেশ কয়েকজন নেতা। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের এ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত প্রায় ১০ বছর ধরে সংগঠনটি একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক লিয়াকত শিকদারের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। এ মুহূর্তে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপন নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। এ নিয়ে দুই সিন্ডিকেটের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। যে কোনো সময় এটি প্রকাশ্য রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত নিজ নিজ ব্যক্তি-স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এ গ্রুপগুলো ছাত্রলীগকে পকেটে ভরার চেষ্টা করে থাকেন। সিন্ডিকেটের সুনজরে না থাকলে ত্যাগী ও সক্রিয় ক্লিন ইমেজের নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বঞ্চিত হন। যে কারণে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের চেয়ে নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে লবিং-তদবির নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটি দিন দিন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের তীব্রতা প্রমাণিত হয় সর্বশেষ শনিবার রাতে ঢাকা মহানগরের দুই শাখার কমিটি গঠন নিয়ে। প্রায় পাঁচ বছর পর নবগঠিত এ দুই কমিটি গঠন নিয়ে শনিবার রাতে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ব্যাপক মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কমিটি ঘোষণার জের ধরে ছাত্রলীগের আধ্যাত্মিক গুরু খ্যাত এবং সিন্ডিকেটের মূল হিসেবে পরিচিত সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের বাসায় হামলা চালিয়েছে দক্ষিণ ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিসের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় অন্তত ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, আনিসের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটলেও এর পেছনে রয়েছেন ছাত্রলীগ দখলে নিতে মরিয়া অপর সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সামনে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক আরেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। রিপনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক সভাপতিসহ (বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা কোনো সিন্ডিকেটের নির্দেশনায় চলি না। গঠনতন্ত্র এবং নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশনাই আমাদের চলার পাথেয়।

তিনি বলেন, এটা ঠিক যে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আমরা সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মতামত নেই। ঢাকা মহানগরের দুই কমিটি গঠনে সাবেক মোট ১৬ জনের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে তা সমন্বয় করে আমরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাবেকদের মতামত নেয়া এ সংগঠনে একটি রেওয়াজ। এখানে সিন্ডিকেট করার ঘটনা একেবারেই অবাস্তব ও অবান্তর।

সিন্ডিকেট ও তার নিয়ন্ত্রণ : বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক প্রতিবেদন এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী এই সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচনের মেকানিজম একটি অতি পরিচিত শব্দ। ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বত্রই এখন বদ্ধমূল ধারণা- সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে ছাত্রলীগের নেতা হওয়া যায় না।

যে দুই সিন্ডিকেট রয়েছে, তার মধ্যে দখলে থাকা সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে আছেন- ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক দফতর সম্পাদক ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকজন। বিপরীত দিকে আছেন সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন। এই দুই গ্র“পের পেছনে আবার ফরিদপুর, বরিশাল ও বাগেরহাট অঞ্চলের ছাত্রলীগেরই সাবেক কয়েকজন সহ-সভাপতিসহ প্রভাবশালী নেতারা আছেন। এদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধশত নেতা।

গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা যায়, যেহেতু ছাত্রলীগ বর্তমানে লিয়াকত সিন্ডিকেটের হাতে রয়েছে, তাই তার সুনজর পেতে তার সেগুনবাগিচার বাসায় ছাত্রলীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের অফিসের চেয়েও সংগঠনটির নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট প্রায় ১০ বছর ধরে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বিপরীত দিকে ২০১১ সালের সম্মেলন থেকে রিপন সিন্ডিকেট ছাত্রলীগ দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে।

তবে ২০১১ সালের জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান দুটি পদ দখলে নিতে না পারায় এই সিন্ডিকেট ছাত্রলীগও দখল করতে পারেনি। সূত্র জানায়, তাই বলে এ সিন্ডিকেট হাল ছাড়েনি। ২৫-২৬ জুলাইয়ের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে এ সিন্ডিকেট আবার মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লিয়াকত শিকদার বলেন, বিদায় নেয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার সামাজিক সম্পর্ক ছাড়া আর কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। সিন্ডিকেটের যে কথা বলা হচ্ছে তা অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত। আর মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, কয়েকজন নেতা ছাত্রলীগকে কুক্ষিগত রেখেছে। তারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করছে। তবে নিজে সিন্ডিকেট করে ছাত্রলীগ দখলের প্রচেষ্টা করছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, আমার বাসা সেগুনবাগিচা এলাকায়। ঘটনাক্রমে কাছাকাছি ঠিকানায় সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের বাসাও। শনিবার রাতে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সাংগঠনিক কাজে আমার বাসায় গিয়েছিলেন। এজন্য কেউ কেউ মনে করছেন, তারা লিয়াকত শিকদারের বাসায় গিয়েছেন। দলীয় অফিস বাদ দিয়ে লিয়াকত শিকদারের বাসায় নেতাকর্মীদের হাজিরা দেয়ার অভিযোগও সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে : নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি ধাপে সিন্ডিকেট থেকে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রথম ধাপে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক লিয়াকত শিকদারের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। এক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন লিয়াকত শিকদারের ঘনিষ্ঠরা। পরিচিতির একপর্যায়ে তারা নিয়মিত লিয়াকত শিকদারের বাসায় আসা-যাওয়া করেন। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন করা হয় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রকদের জন্য পরিচিতদের মধ্যে নেতা হলে কে বেশি সহায়ক হবে, সেই বিষয়টি। সিন্ডিকেটের সম্মতিক্রমে নির্বাচন করা হয় পরবর্তী নেতৃত্ব। সেই অনুযায়ী গঠিত হয় ছাত্রলীগ কমিটি।

এক্ষেত্রে কখনও ইলেকশন (নির্বাচন), কখনও সিলেকশন (বাছাই) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দুটি পদ্ধতিতেই নেতৃত্ব নির্বাচনে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। সিলেকশন পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচনের সুযোগ থাকলে সাধারণত অযোগ্যদেরই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। যাতে নেতা হলে তাদের নিজেদের করায়ত্তে রাখা যায়। আর ইলেকশন হলে মাঠে অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং সিন্ডিকেটের অনুগতদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। যাতে কাউন্সিলররা ভোট প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন না করেন।

সর্বশেষ ঢাকা মহানগরে দুটি শাখায় সিলেকশন পদ্ধতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সিলেকশনের বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে হয় ক্যাডার, তা নাহলে শান্ত ও অনুগত- এ দুটি দিক খেয়াল করে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের দুই সভাপতিকে (মো. মিজানুর রহমান ও মো. বায়েজিদ আহম্মেদ খান) ক্যাডার এবং দুই সাধারণ সম্পাদককে (মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও মো. সাব্বির হোসেন) শান্ত ও অনুগত বিবেচনায় নিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর ফলে বাদ পড়েন ছাত্রলীগের দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্র নেতারা। জানা যায়, ৩০ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের মাত্র ৮ দিন আগে ২২ মে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ ২২ বছর বয়সে বংশাল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে মূলত তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনীতি করতেন। এ বিষয়টিকে নেতাকর্মীরা উড়ে এসে জুড়ে বসার সঙ্গে তুলনা করেন।

এর ফলে মহানগরের রাজনীতিতে ব্যাপক অসামঞ্জস্য তৈরি হবে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি আগামীতে সিন্ডিকেট টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে অতি সহজেই তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি বায়েজিদ রাজনীতিতে নতুন না হলেও সিন্ডিকেটের একান্ত অনুগত বলে জানা গেছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মো. সাব্বির হোসেন বলেন, কোনো সিন্ডিকেটের হয়ে তারা নেতৃত্ব পাননি। যোগ্যতা-দক্ষতার ভিত্তিতেই নেতা হয়েছেন। তাদের আনুগত্য দলের গঠনতন্ত্রের প্রতি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

মহানগর উত্তরের কমিটিতে মিজানুর রহমানকে ক্যাডার হিসেবে পদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তেজগাঁও এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত মিজান বিভিন্ন সময়ে কারওয়ান বাজার, ঢাকা ওয়াসা ও রেলওয়ে কলোনিতে টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজিতে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, নির্ধারিত ২৯ বছর বয়স না থাকলেও ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে তাকে নেতৃত্বে আনা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদকে শান্ত ও অনুগত হিসেবে নেতা বানানো হয়। ইতিপূর্বে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকলেও মহানগরের রাজনীতিতে তার উল্লেখযোগ্য কোনো অবস্থান ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, অবাস্তব ও অসত্য অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

বিশৃংখলার আশংকা জাতীয় কাউন্সিলে : ২৫-২৬ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন এবং ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের বিশৃংখলার আশংকা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানিয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপনসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই জোটবদ্ধ হয়েছে সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে তাদের অনুসারীদের ছাত্রলীগের পরবর্তী কমিটিতে আনতে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার বাসায় অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গেছে। কারণ গত মেয়াদে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের অনুসারীদের রেখে যেতে পারেননি। তাই এবার তাদের চেষ্টা থাকবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারের।

সৌজন্যে: যুগান্তর






মন্তব্য চালু নেই