মেইন ম্যেনু

সিপি গ্যাংকে সরকারী অনুদান : ব্যবস্থাপনা পরিচালকই জানেন না কেন অনুদান!

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উদ্ভাবনী কাজের জন্য সরকারী অনুদান পেয়েছে অনলাইনে আলোচিত ও সমালোচিত ‘সিপি গ্যাং’। অনুদানপ্রাপ্তির সংবাদ প্রকাশের পরই তথ্য প্রযুক্তিখাতে সিপি গ্যাংয়ের উদ্ভাবনী কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সিপি গ্যাং এর অনুদান প্রাপ্তির সমালোচনাও করেছেন।

আর খোদ সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকই জানিয়েছেন, এই অনুদান সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ তৃতীয় পর্বের তালিকাভুক্ত হিসেবে সিপি গ্যাংকে ৪ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সিপি গ্যাংকেও অনুদান প্রদান করা হয়।

সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেড এর নামে দেওয়া এ অনুদান আসলে কি উদ্ভাবনী কাজের জন্য দেওয়া হলো এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হান্নান অনলাইনে যিনি রাসেল রহমান নামে পরিচিত বলেন- “আমি নিজেই জানি না কীসের অনুদান হইছে, আসলে আমি নিজেই অবগত না”। তারা তথ্য প্রযুক্তি খাতে কি উদ্ভাবন করেছেন জানতে চাইলেও রাসেল রহমান স্পষ্ট করে কোন উত্তর দেননি।

এদিকে সিপি গ্যাংকে এমন অনুদান দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

‘সাপ্তাহিক’ সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা এ বিষয়ে একটি ফেসবুকে লিখেছেন-

সাম্প্রতিক সময়ে কূ -রুচিপূর্ণ অশ্লীল গালাগালি এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষের চরিত্রহননমূলক প্রপাগান্ডা করে পরিচিতি পাওয়া একটি সংগঠনকেও সরকার চার লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। আইসিটি সেক্টরে অনুদান ভালো উদ্যোগ। প্রশংসা করি। কিন্তু একটি ‘অশ্লীল ‘ সংগঠনকে কেন? নতুন নতুন গালি এবং মানুষের চরিত্রহনন ফর্মূলা উদ্ভোবনের জন্যে?

সিপি গ্যাং ছাড়াও এই অনুদান পেয়েছে আরও ২০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।

তৃতীয় পর্বে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠান সূর্যমুখী লিমিটেডের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা ফিদা হক জানান, তারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি এন্ড্রয়েড গেমস তৈরির প্রজেক্ট জমা দিয়ে এই অনুদান পেয়েছেন।

ফ্রিদা হক বলেন, ” আমরা শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গেমসের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিতে একটি প্রজেক্ট তৈরি করেছি। এই প্রজেক্টি সন্তুষ্ঠ হয়ে আমাদেরকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করি এই গেমসের মাধ্যমে খেলায় খেলায় শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তোলে ধরতে পারব।”

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উদ্ভাবনী কাজ ও উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে উদ্ভাবন অনুদানের ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং শিক্ষাবৃত্তির (ফেলোশিপ) ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বিতরণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের চেক হস্তান্তর করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা: সেন্টার ফর চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (১০ লাখ টাকা), দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (১৫ লাখ টাকা), বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (২০ লাখ টাকা), বুয়েটের অধ্যাপক আবু সৈয়দ মো. লতিফুল হক (পাঁচ লাখ টাকা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজ মো. হাসান (পাঁচ লাখ টাকা), স্বদেশ উন্নয়ন কেন্দ্র (সাত লাখ টাকা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক অমিত শীল (২ লাখ ৫০ হাজার টাকা), নিকুঞ্জ নারী উন্নয়ন সংস্থা (২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) ও ফ্যালকন টেকনোলজিস (পাঁচ লাখ টাকা)। এ ছাড়া নয় বছর বয়সী কম্পিউটার প্রোগ্রামার ওয়াসিক ফারহান রূপকথাকে এ তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।

তৃতীয় পর্বের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা: মনোয়ারুল ইসলাম (চার লাখ টাকা), সিপি গ্যাং লিমিটেড (চার লাখ টাকা), চিত্তরঞ্জন সরকার (পাঁচ লাখ টাকা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ (পাঁচ লাখ টাকা), ম্যাসিভস্টার স্টুডিও (১০ লাখ টাকা), সূর্যমুখী লিমিটেড (পাঁচ লাখ টাকা), অমিত কুমার দাস (২ লাখ ৫০ হাজার টাকা), অ্যাপরম্ব টেক বিডি (পাঁচ লাখ টাকা), মো. রঞ্জু ইসলাম (পাঁচ লাখ টাকা) এবং ডি-আইটি ইন্টেলিজেন্স লিমিটেড (চার লাখ টাকা)। বিশেষ এককালীন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াড কমিটি।

তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবন তহবিল থেকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের অনুদান দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরে আবেদনকারীদের উদ্ভাবনী তহবিল কমিটির সামনে ধারণা উপস্থাপন করতে হয়।






মন্তব্য চালু নেই