মেইন ম্যেনু

সিলেটের যে জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন সহজেই

ছবির ন্যায় সুন্দর সুরমা উপত্যকায় চা বাগান ঘেরা, ঘন সবুজ ক্রান্তীয় বনাঞ্চল ও অসংখ্য নদী বেষ্টিত সিলেট জেলা বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব অংশে অবস্থিত। পার্বত্যঅঞ্চল সিলেট বাংলাদেশের একটি বিশেষ পর্যটন গন্তব্য। সিলেটের উত্তরে খাসিয়া ও জৈন্তা পাহাড় এবং দক্ষিণে ত্রিপুরা পাহাড় অবস্থিত। গাঙ্গেয় সমভূমির গতানুগতিকতা ভেঙ্গেছে সিলেট তাই প্রায়ই একে পাহাড়ের রানী বলে আখ্যায়িত করা হয়। বিস্তৃত চা বাগান, বহিরাগত প্রানী ও উদ্ভিদ, পুরু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল সিলেটের প্রাকৃতিক দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর পাশাপাশি প্রচুর নদী, প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয় লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। তাই সিলেট ভ্রমণ আপনার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে আজীবন। সিলেটের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে জেনে নিই আসুন।

১। জাফলং
চা বাগানের মনোরম দৃশ্যাবলী এবং পাহাড় ঘেরা জাফলং সিলেট শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লোকাল বাস বা ভাড়া করা গাড়ীতে চড়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় জাফলং এ। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল। প্রকৃতি কন্যা হিসেবে পরিচিত জাফলং। খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ, খাসিয়া উপজাতিদের জীবন, খাসিয়া রাজার প্রাসাদ, পাহাড়ের জলস্রোত, চা-বাগান, কমলা উদ্যান, পান বাগান, সুপারি বাগান এবং স্থানীয় বাজার জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়।

২। শ্রীপুর
একটি চমৎকার স্থান যেখানে পাহাড়ের বুক চিড়ে প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসা জলপ্রপাত দেখা যায়। তাছাড়া এই এলাকাটির ভুতুড়ে দৃশ্য, পাথরের আকর এবং সীমান্ত জুড়ে জলপ্রপাতের ঝলক আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। শ্রীপুর জাফলং থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

৩। জৈন্তাপুর
মেগালিথিক প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের জন্য সুপরিচিত জৈন্তাপুর এবং জাফলং থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে আছে মনোরম চা-বাগান। ১৮ শতকে এটি ছিলো জৈন্তা রাজ্যের রাজধানী। স্থানীয় মার্কেটের পাশেই ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজপ্রাসাদটি আছে। জৈন্তা রাজ্যের ঐতিহাসিক পটভূমির জন্যই অনেক পর্যটক এই স্থানটিতে যান।

৪। লালাখাল
জাফলং যাওয়ার পথেই জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটের কাছেই অবস্থিত লালখাল। নির্জন মনকাড়া লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌপথ ভ্রমণের স্বাদ যেকোন পর্যটকের কাছে এক দুর্লভ আকর্ষণ। এই খালের বিভিন্ন পয়েন্টে পানির বর্ণ বিভিন্ন রকম হয়।

৫। রাজা জাদুঘর
সিলেটের কেন্দ্রে এই জাদুঘরটি অবস্থিত। মহান রহস্যময় কবি হাসন রাজার সমৃদ্ধ ইতিহাস সংরক্ষণ করছে এই জাদুঘর।

৬। শ্রী-চৈতন্যদেবের মন্দির
সিলেট শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই মন্দির। ফাল্গুন মাসে পূর্ণিমার সময় এখানে মেলা বসে।

৭। হযরত শাহজালাল (রা) এর মাজার
সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে হযরত শাহজালাল (রা) এর মাজার অবস্থিত। মাজার কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলেই শুরুতে দেখা মিলবে দরগাহ মসজিদ। মসজিদটি বর্তমানে আধুনিক রূপ নিলেও এটি প্রথম তৈরি হয়েছিলো ১৪০০ শতকে। মসজিদের পাশেই রয়েছে মাজারে উঠার সিঁড়ি। উপরে উঠে মাজারে প্রবেশ করতে হয় গম্বুজবিশিষ্ট একটি হল ঘরের মধ্য দিয়ে। এই হল ঘরের ঠিক পশ্চিমের ভবনটি ঘড়ি ঘর। ঘড়ি ঘরের আঙ্গিনার পূর্বদিকে যে ৩টি কবর রয়েছে তা হযরত শাহজালাল (রা) এর ঘনিষ্ঠ ৩জন সঙ্গীর। এর দক্ষিণ পাশে গ্রিল ঘেরা ছোট্ট ঘরটি হযরত শাহজালাল (রা) এর চিল্লাখানা। ২ফুট চওড়া এই চিল্লাখানায় তিনি জীবনের ২৩টি বছর ধ্যানমগ্ন কাটিয়েছেন বলে কথিত আছে। চিল্লাখানার উত্তরের প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে উঁচু ইটে বাঁধানো হযরত শাহজালাল (রা) এর সমাধি। এটি নির্মাণ করা হয় ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে। এর পাশেই রয়েছে ইয়েমেনের রাজা শাহজাদ আলীর কবর এবং সিলেটের শাসনকর্তা মুক্তালিব খান উজিরের কবর। মাজার কমপ্লেকের পূর্ব পাশের পুকুরে দেখা মিলবে বহুকালের ঐতিহ্য গজার মাছের। শত শত জালালী কবুতরও রয়েছে এখানে। মাজার কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশের একটি ঘরে এখনো সংরক্ষিত আছে হযরত শাহজালাল (রা) এর ব্যবহৃত তলোয়ার, প্লেট, বাটি ইত্যাদি।

৮। হযরত শাহ পরান (রা) এর মাজার
হযরত শাহ পরান (রা)ছিলেন হযরত শাহজালাল (রা) এর ভাগ্নে। সিলেট শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে দক্ষিণগাছের খাদিম পাড়ায় রয়েছে এই মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তির মাজার। বিশাল বট গাছের ছায়াতলে অবস্থিত এই মাজারে উঠতে হয় সিঁড়ি বেয়ে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো মাজার এলাকা।
এছাড়াও সিলেট শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টিলাগড় ইকোপার্ক, উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো চা-বাগান মালনিছরা চা-বাগান সিলেট শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত, বেশিরভাগ চা-বাগান গুলো এবং সবচেয়ে বড় চা-বাগান শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত এজন্যই একে “দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ” বলা হয়, লাউয়াছরা রেইন ফরেস্ট, মাধবকুন্ড, নাজিমগড় রিসোর্ট, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

৯। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র জলারবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। চারদিকে নদী ও হাওড় বেষ্টিত এ বনের বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা হিজল-করচ গাছ।

যাতায়াত :
সড়ক, রেল ও আকাশ পথে ঢাকা থেকে সরাসরি সিলেট যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে গ্রিনলাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহনের এসি বাস যায় সিলেটে। ভাড়া ৮০০-১০০০টাকা। এছাড়াও ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর, সায়েদাবাদ প্রভ্রিতি জায়গা থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া পরিবহন ইত্যাদি সংস্থার নন-এসি বাস ও সিলেটে যায়। ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা।

থাকা-খাওয়া :
সিলেট শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল আছে। শহরের পাশে খাদিম নগরে আছে শুকতারা প্রকৃতি নিবাস। শাহজালাল উপশহরে আছে হোটেল রোজ ভিউ, নাইওরপুল এলাকায় হোটেল ফরচুন গার্ডেন, জেল সড়কে হোটেল ডালাস, শহরের বাইরে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল আছে।






মন্তব্য চালু নেই