মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসুচীতে পুলিশের বাধা

সিলেবাস বাতিল না করলে ২৭ মে’র পরে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী সুকৌশলে নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ঈমান বিধ্বংসী সিলেবাস প্রণয়ন করে আমাদের সন্তানদের ঈমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অবিলম্বে বিতর্কিত সিলেবাস এবং শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি বাতিল না করলে আমাদের ঈমান রক্ষায় যে ধরণের কর্মসুচীর প্রয়োজন তা-ই গ্রহণ করতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন, বিতর্কিত শিক্ষানীতি ২০১০এর আলোকে বাংলাদেশের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জন্যে প্রনীত নতুন সর্বনাশা সিলেবাস প্রমাণ করে এ শিক্ষানীতির মতলব জঘন্য। এটা বাংলাদেশ ধ্বংসের শিক্ষানীতি। দেশের মুসলমান ও ইসলাম শুন্য করার রণকৌশল। ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা স্থাপন করার পর সরকারের মদদে কতিপয় হিন্দু ও নাস্তিক সিলেবাসে পরিবর্তন এনে মুসলমানের ঈমানে আঘাত করেছে।

সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান পূর্ব বিশাল জমায়েতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, বীল মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা নাযীর আহমদ শিবলী, সৈয়দ ওমর ফারুক, মুফতী ফরিদুল আলম প্রমুখ।

সমাবেশশেষে একটি বিশাল মিছিল তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে কদম ফোয়ারা পৌঁছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে। পরে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আলমাদানীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মু. আব্দুর রাজ্জাক স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন,নগরনেতা আলতাফ হোসেন, ছাত্রনেতা মাহবুব আলম। মাওলানা মাদানী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ধর্মপ্রাণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে কোন নীতি বা আইন প্রণয়ন করা হলে, তার দায়ভারও তাদেরকেই নিতে হবে।

সম্প্রতি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। দেশের সর্বজন গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও শীর্ষ ইসলামিক স্কলারদের কোন প্রকার মতামত না নিয়ে চরম বিতর্কিত এই আইনটি প্রকাশ করে দেশের জনগণকে ও অভিভাবকদেরকে কঠিন হতাশায় ফেলে দিয়েছে। এই ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’-এর প্রায় ৩২টি ধারা-উপধারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বোধ-বিশ্বাস, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এই আইন দেশপ্রেমিক কোন নাগরিক মেনে নিতে পারে না। এই আইন ধর্মপ্রাণ কোন মুসলমান বরদাশত করতে পারে না। এই ‘শিক্ষা আইন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলে দেশ সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে বলে আমাদের আশংকা।

ইতোমধ্যে ‘শিক্ষানীতি ২০১০’ ও খসড়া ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’ বাতিলের দাবিতে দেশের বুদ্ধিজীবী শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, অভিভাবক ও শীর্ষ ওলামাদের নিয়ে আমাদের বক্তব্য মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। দেশব্যাপী মতবিনিময়, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, মিছিল সহ নানা কর্মসূচী পালন করছি। এরপরও কানে পানি না ঢুকলে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসুচী ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে ২০ মে শিক্ষক সমাবেশ, ২১ মে উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন, ২৭ মে জাতীয় মহাসমাবেশ-এর কর্মসুচী সফলের আহ্বান জানানো হয়।

মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন ও বিতর্কিত সিলেবাসের মাধ্যমে আমাদের ঈমান নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। কোন মানুষ এমতাবস্থায় নিরব বসে থাকতে পারে না। গরুকে মা সম্বোধন করে গরু জবেহ করা ঠিক নয় এমন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, দেবদেবির নামে বলি দেওয়া পাঠা খাওয়া হালাল শিখানো হয়।

শিক্ষার সকলস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ধর্মীয় পটভূমিকে স্মরণে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সিলেবাস প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। পাঠ্যপুস্তকে ইসলামি ভাবধারার মুসলিম লেখকদের প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গল্প-কবিতা সংযোজনের দাবি জানান।






মন্তব্য চালু নেই