মেইন ম্যেনু

সিল্কে তৈরি বিস্ময়কর উপাদান…

সিল্কের জন্য বিখ্যাত প্রাচ্যের দেশ চীন। এই সিল্ক কবে এবং কার হাত ধরে তৈরি হলো তা এখন আর কেউ বলতে পারে না। তবে এর উৎপত্তি নিয়ে গল্পের শেষ নেই। চীন দেশে সিল্ক নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো এক সম্রাটের সিল্ক আবিষ্কারের গল্প।

কথিত আছে, এক সম্রাট গাছের তলায় বসে চা পান করছিলেন। আর তখনই একটি কুকুন তার কাপে এসে পরে এবং চায়ের গরমে সেই কুকুন সিল্কে রুপান্তরিত হয়। যদিও এই গল্পের সত্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়। তবে যাই হো, আজকের দুনিয়ায় সিল্ক হলো আভিজাত্যের প্রতীক।

একটা সময় ছিল যখন চীন দেশ থেকে বিশ্বের নামি-দামি সব রাজা-বাদশারা সিল্ক সংগ্রহ করতো। কিন্তু এখনতো আর সেই রাজা-প্রজার দিনে সেই সরাসরি, তবে সিল্ক দ্বারা এমন অনেককিছুই তৈরি করা হচ্ছে যা এক কথায় বিস্ময়কর। জরুরী ওষুধ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র তৈরিতেও আজকাল সিল্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন আর সিল্ক শুধু পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এবারের ফিচারে এমনই কিছু বিস্ময়কর উপাদানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে, যেগুলো মূলত সিল্ক থেকে তৈরি।

চামড়ার নিচে প্রতিস্থাপনকারী ‘মাইক্রোচিপ’
চামড়াএক সেন্টিমিটার আয়তনের একটি বর্গাকার সিল্কের টুকরোর কথা ভাবতে পারেন। দেখতে অনেকটাই ইলেকট্রনিক সার্কিট বোর্ডের মতো দেখতে লাগবে। মানবশরীরে ক্ষত সারাতে চামড়ার নিচে এই মাইক্রোচিপটি প্রতিস্থাপন করা হয়। সিল্ক আর ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই চিপ। চামড়ার নিচে রেখে একটা ব্যান্ড এইড দিয়ে ঢেকে রাখলে দু সপ্তাহ পরেই দেখা যাবে ক্ষতটি আর নেই। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে এই চিপ ব্যবহার করার প্রবনতা সবচেয়ে বেশি।

জীবাণুবিয়োজ্য কফি কাপ
গ্লাসসিল্ক যে শুধু মাইক্রোচিপ তৈরিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে তা নয়। জীবণুবিয়োজ্য কফিকাপ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। এই কাপ সহজেই পচনশীল হলেও যতক্ষন কাপে কফি থাকবে ততক্ষণ কফির গুনাগুন ঠিক থাকবে। যে কোনো আয়তনেই এই কাপকে আকৃতি দেয়া যায় বিধায় সহজেই ভিন্ন উপাদানও রাখা যায় এতে। দূরের যাত্রায় গেলে এই কাপ সঙ্গে রাখলে রান্নার কাজও হয়ে যায়।

ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিতকারী গ্লভস
গ্লাভসএই প্রথমবারের মতো অমেনেত্তোর দল সিল্ককে প্রিন্টেবল ইঙ্কজেট ফর্মুলার মধ্যে ফেলেছেন। উদাহরনস্বরূপ, হাসপাতালের জন্য একটি ল্যাটেক্স গ্লভ দরকার হলে সেটা প্রিন্ট করে বের করা যাবে। এই গ্লভ পরে কোনো জীবাণু ধরলে গ্লভটি নিজের রং পরিবর্তন করে ফেলবে। শুধু তাই নয়, জীবাণুর মাত্রা অনুযায়ী রংও গাড় থেকে হালকা হতে শুরু করবে। অর্থাৎ যে কাজটি এতোদিন গবেষণাগারে করা হতো এবং অনেকটা সময় লাগতো, এখন সেটা মাত্র একটি গ্লভস দিয়েই সহজে করা যাবে।

খাবার প্রিজারভার
কৌটাঅমেনেত্তো স্বীকার করেছেন যে, সিল্কের স্বাদ আসলে অন্য কোনো উপাদানের মতো নয়। এর স্বাদ কিছুটা মাটির মতো, যা চাইলে কুকুন থেকেও পাওয়া যায়। এই স্বাদটি খাবারকে পচনশীলতা থেকে দূরে রাখতে পারে। খাবারের উপর সিল্কের এই বিশেষ প্রলেপ দেয়া থাকলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাবার ভালো থাকবে। কক্ষের তাপমাত্রার সঙ্গে ওই সিল্কজাত প্রলেপটিও নিজেকে পরিবর্তিত করে নেয়। এই প্রিজারভেটিভ বৃহৎ পরিসরে চালু হলে বাজারে এখন যে সস্তা প্রাণঘাতী প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, তার প্রভাব কমে যাবে এবং মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।






মন্তব্য চালু নেই