মেইন ম্যেনু

সীমার বয়স কম তবুও স্বামীকে!

বয়স কম হওয়ায় বেতন কম। এক পর্যায়ে ছাঁটাইও হতে হয়। এরপর অন্য এক কারখানায় নিই চাকরি। কিন্তু সেখানে দেয়া হয় তিন মাস পরপর বেতন। কিন্তু স্বামীর চাই প্রতিমাসে বেতন। তাই টাকা না দেয়ায় চলে গালিগালাজ আর নির্যাতন।

এক পর্যায়ে রোববার টাকার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে লাঠি নির্মমভাবে পেটায়। গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম করে তবেই ছাড়ে। এরপর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায়।
প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করলেও মিথ্যা মামলার ভয়ে তারা কেউ আমাকে সাহায্য করতে আসেনা। অনেক কষ্টে আর কৌশলে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে নিজেই তালা খুলে বের হয়ে আসি।
স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের ১৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন শামীমা সীমা (১৮)। তার হাত, পা, বাহু, কান, মাথা, উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন।

সীমা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার লঙ্গাইর গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে। বছর তিনেক আগে একই উপজেলার নামকাইল গ্রামের আব্দুল মোতালিবের ছেলে আবুল কাশেমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্বামীর সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার ২ নং সিএন্ডবি এলাকায় ভাড়া থাকেন সীমা।
পরিবার থেকে জানা গেছে, আজ থেকে ১১ বছর আগে সীমার বাবা মারা যান। এরপর তার মা সেলিনা আক্তার জীবিকার তাগিদে তাকে নিয়ে চলে আসেন শ্রীপুর পৌরসভার ২নং সিএন্ডবি এলাকায়। এরপর স্থানীয় ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে হেলপার পদে চাকরি নেন সেলিনা আক্তার।

চিকিৎসাধীন সীমা আরো বলেন, ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী আবুল কাশেম স্থানীয় ডেনিমেক পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিয়ের সময় স্বামীকে ২০ হাজার টাকা আর বিভিন্ন সময় কিস্তিতে আরো দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। কিন্তু এরপরেও তার কাছ থেকে আরো টাকা দাবি করেন স্বামী। জোর করে কারখানায় চাকরিতে লাগিয়ে দেন।
গত ৯ মাস আগে স্থানীয় অ্যাপেক্স কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকরি করা শুরু করেন সীমা। তিন মাসের বেতনের টাকা স্বামীর হাতে তুলেও দেন। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় বেতন কম। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ তাকে ছাঁটাইও করে। পরে ফ্যাশন মেকার কারখানায় চাকরি নেন। শিক্ষানবীশ হিসেবে সেখান থেকে তাকে তিন মাস পর পর বেতন দেয়া হয়। গত তিন মাসে তার নিজের খরচ হয়ে গেছে সাড়ে চার হাজার টাকা। পরবর্তী তিন মাসের বেতন পেতে আরো সময় লাগবে।

সীমা আরো জানান, গত তিন মাসে চাকরির টাকা কম দেয়ার তার স্বামী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আর নির্যাতন করে আসছে। রোববার সন্ধ্যায় টাকার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে লাঠি দিয়ে পেটান। গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করেন। এরপর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যান। প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করা হলেও মিথ্যা মামলার ভয়ে কেউ তাকে মুক্ত করতে আসেনি। এরপর কৌশলে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে নিজেই তালা খুলে বের হন।

এদিকে, এ ঘটনায় এলাকাবাসী সীমার স্বামী আবুল কাশেমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তজমাট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এলাকার লোকজন নির্যাতনকারী আবুল কাশেমকে ধরে থানায় সোপর্দ করেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।






মন্তব্য চালু নেই