মেইন ম্যেনু

সুন্দরগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের

নুরুল আলম ডাকুয়া, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃগাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তার নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের। এ পর্যন্ত নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে ৭ শতাধিক পরিবার।

বন্যার পানি কমার সাথে সাথেই খর স্রোতে তোরে তিস্তার ভাঙ্গন তীব্রতর হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গনে ৭ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়া নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে হাজার-হাজার হেক্টর আবাদি জমি, গাছপালা, পানের বোরাজ, সবজি ক্ষেত, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাঁশঝাড়।

এতে করে নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা পবিত্র কোরবানির ঈদের আনন্দকে কেড়ে নিয়েছে। ঘরে খাবার নেই, নেই গবাদি পশুর খাদ্য, ছেলে-মেয়েদের দিতে পারেননি নতুন জামা, স্ত্রীকে দিতে পারেননি নতুন শাড়ি। সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পারায় তিন্তা নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো দারুন হতাশায় ভুগছেন।

ভেবে চিন্তে পাচ্ছেন না তারা আগামী দিনগুলো কিভাবে পাড়ি দিবেন। শুধু বাড়ি-ঘর তাদের বিলিন হয়নি। বিলিন হয়েছে দু’মুঠো ভাতের যোগানদাতা আবাদি জমিও। ভাঙ্গনে নিঃস্ব এ পরিবারগুলো কোন রকমে মাথা গোঁজার ঠাই করে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভাঙ্গনের শিকার হরিপুর ঘাটের বাসিন্দা গোলজার রহমান জানান, দু’মুঠো খেতে পাচ্ছি না সেখানে ঈদ করব কিভাবে।

ছেলে মেয়েদেক শান্তনা দেয়ার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না। উজান বুড়াইল গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার নজরুল ইসলাম জানান, একবার নদী ভাঙ্গলে যে পরিমান ক্ষতি হয় তা একশ বছরে পুরণ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু নদীর দয়া-মায়া বলতে কিছু নেই। তিনি আরও জানান, নদী ভাঙ্গনের শব্দে এবার কাটবে ঈদ।

বাদামের চরের আবুল কালাম আজাদ জানান, ভাঙ্গন প্রতিরোধে নদী শাসনসহ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমি চলে যাচ্ছে নদীর গহ্বরে। সর্বগ্রাসি তিস্তা নদীর ভাঙ্গন যেন তিস্তা পাড়ের মানুষজনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই