মেইন ম্যেনু

সুফল মিলছে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে

সুফল মিলছে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে। এটি বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্পভুক্ত ঢাকা ও খুলনা এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। এমনই চিত্র তুলে ধরেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

সংস্থাটি সম্প্রতি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আহসান হাবিব শনিবার (১৩ আগস্ট) বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন হচ্ছে। শহরের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য সহজেই শহরে নিয়ে আসা যাচ্ছে। এরকম অনেক সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।

আইএমইডি বলছে,প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নতি সাধিত হয়েছে, ঢাকা ও খুলনা নগর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে প্রশমিত হয়েছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা হয়েছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অফগ্রীড এলাকায় ওয়ার্ড দুটি যেমন গাছা ও পূবাইলে সোলার লাইটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে, খুলনা ও মংলা নগর সমূহ লবণাক্ততার প্রভাব থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছে এবং যাতায়াত ও যানবাহন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণের ফলে স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সময় কমে এসেছে।

খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, আগে মংলা বন্দরে নৌপথ ছাড়া যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। আর খুলনা থেকে মংলা যেতে ৬-৭ ঘন্টা সময় লাগত। কিন্তু বর্তমানে রুপসা ব্রিজ হওয়ায় খুলনা থেকে অনেকেই মংলা গিয়ে অফিস করেন। এরকমভাবে সিটি করপোশেনের অবকাঠামো উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের সুবিধা ভোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ মনে করেন তাদের এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়ার ফলে উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণে সুবিধা হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন তাদের এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়াতে এলাকার কৃষকরা কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন।

দূর গ্রামাঞ্চল থেকে বড় বড় শহরে অফিস আদালতে যাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে ঢাকা অঞ্চলের সবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের প্রায় ৭৭ শতাংশ অংশগ্রহনকারী মনে করেন তাদের এলাকাতে ব্রিজ কালভার্ট হওয়াতে দূর গ্রামাঞ্চল থেকে বড় বড় শহরে অফিসে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।

স্থাস্থ্য সেবার জন্য বড় শহরে যাওয়ার সুযোগ ক্ষেত্রে ঢাকা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন তাদের এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়াতে জনস্থাস্থ্য সেবার জন্য বড় বড় শহরে যেতে পারছে।

রাস্তার দুই পাশে দোকান পাট এবং শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ঢাকা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের ৮০ শতাংশ অংশগ্রহনকারী মনে করেন তাদের এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়াতে রাস্তার দুই পাশে দোকানপাট এবং শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে ঢাকা অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৭৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন তাদের এলাকায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হওয়াতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

বাস টার্মিনাল, ঢাকা অঞ্চলে সুবিধাভোগী সর্বমোট ৩৫ জনের নিজ নিজ এলাকার বাস টার্মিনাল নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং খুলনা অঞ্চলের সুবিধাভোগীর সর্বমোট ৫০ জনের কাছ থেকে তাদের নিজ নিজ এলাকার বাস টার্মিনাল নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা বলেছে বাস টার্মিনাল হওয়ায় তাদের এলাকায় পরিবর্তন এসেছে।

সূত্র জানায়, নগর অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৩৯৫ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০১১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, আঞ্চলিক নগর পরিকল্পনায় ঢাকা নগর অঞ্চল ও খুলনা নগর অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং পরিবেশের টেকসই উন্নতি সাধন করা। নগর অঞ্চলের উন্নয়ন তথা পরিবেশ ও স্থানীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধান প্রধান নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন এবং কার্যকর এবং টেকসই নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌরসভাসমূহের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।-দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই