মেইন ম্যেনু

সুসন্তান গঠনে পিতা-মাতার দায়িত্ব

একটি ছোট্ট হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করতে চাই, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের তিনটি কাজ ব্যতিত সকল আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এ তিনটি মধ্যে একটি হলো- নেক সন্তান রেখে যাওয়া। মৃত্যুর পর যদি সন্তান পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে, তবে এ সৎ সন্তানের দোয়া পিতা-মাতার আমলের সঙ্গে যোগ হয়।

তাই সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। হজরত ইবরাহিম ও ইসমাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে যে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি শিখিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তুলে ধরা হলো সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত রূপ-

প্রত্যেক পিতা -মাতার উচিত সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে উত্তম পদক্ষেপ নেয়া। তারা যেন আল্লাহ তাআলার বিধানের আনুগত্য করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। পিতা-মাতা সন্তানকে যে বিষয়গুলোর প্রতি জোর তাগিদ দিবেন, তা হলো-

ক. সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ;
খ. দুনিয়ার জীবন-যাপনে নীতি-নৈতিকতার সঠিক পন্থাসমূহ শিক্ষা গ্রহণের তাগিদ দেয়া;
গ. পরকালীন চিরস্থায়ী জিন্দেগির সাফল্যের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা;
ঘ. আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার মানসিকতা গঠনের প্রতি তাগিদ দেয়া। কারণ যার মধ্যে ক্ষমার মানসিকতা গড়ে ওঠে, সে হয়ে ওঠে বিনয়ী। বিনয়ী ব্যক্তির দ্বারা ইহ ও পরকালীন জীবনের কোনো বিষয়ে অন্যায় সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

পরিতাপের বিষয়-
বর্তমান যুগে সন্তান-সন্তুতির দুনিয়ার স্বল্পকালীন জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে পিতা-মাতা চিন্তায় অস্থির, পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের সাফল্য লাভের বিষয়ে কোনো চিন্তা-চেতনাই পরিলক্ষিত হয় না। যা মানুষকে চূড়ান্ত ক্ষতির দিকেই ধাবিত করে। অথচ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিজের এবং উম্মতে মুসলিমার জন্য দোয়া করেছিলেন- رَّبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَ مِنْ ذُرِّيَّتِنَا اُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াঝআ’লনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিং জুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা’। হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে আপনার পূর্ণ এবং প্রকৃত অনুগত করে নিন। আর আমাদের বংশধরদের মধ্যেও একটি দলকে আপনার অনুগত করে দিন।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাদের সন্তানের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কুরআনে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।






মন্তব্য চালু নেই