মেইন ম্যেনু

সুস্থ থাকুন মেনোপোজের পরেও

জীবনের চক্রে প্রত্যেক নারীই একটি বয়সে মেনোপোজের মুখোমুখি হন। এ সময় শরীরে এস্ট্রোজেন কমে যায়, ফলে দেখা দেয় নানা রকম শারীরিক সমস্যা। সাধারণ কিছু সাবধানতায় সহজেই এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ফেলা যায়। মেনোপোজ যেহেতু স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়া, তাই এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আসুন জেনে নেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মত আর সেই সাথে কী কী খাবার আমাদের সুস্থ রাখবে এ সময়টায়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল হতে এম বি বি এস ডিগ্রী ধারী মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা দাস মেনোপোজের শারীরিক সমস্যা বিষয়ে বলেন, “মেনোপোজের সময় অত্যধিক গরম লাগে, রাতে প্রচুর ঘাম হয়, যোনীপথ শুষ্ক হয়ে যায়। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি স্বাভাবিক”।
মেনোপোজের সময় সম্পূর্ণ রুপে ফিট থাকতে এই খাবার গুলো নিয়মিত খান-

১। পানি
অবশ্যই প্রচুর পানি পান করবেন। এর কোন বিকল্প নেই। এতে অতিরিক্ত গরম লাগা বা ভীষণ ঘামতে থাকা কমে যাবে।

২। সয়া
মায়ো ক্লিনিকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে সয়া প্রোটিন মেনোপোজের সময় খুবই উপকারী একটি খাবার। দৈনিক ২৫ গ্রাম সয়া লো ফ্যাট ডায়েট হিসেবে খুবই ভাল। এটি মেনোপোজ স্টেজের নারীদের শরীরের ক্ষতিকর এল ডি এল কোলেস্টরল কমায় এবং একই সাথে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে।

৩। গাজর
ইপিডেমিওলজি সংক্রান্ত আমেরিকান জার্নালের একটি প্রকাশনায় বলা হয় মেনোপজের সময় নিয়মিত গাজর খাওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। গাজর একটি সহজলোভ্য খাবার, সহজেই এটি যোগ করতে পারেন রোজকার সালাদে বা সকালের নাস্তায়।

৪। বাদাম
একটি স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা যায়, মেনোপোজের পরবর্তীতে যে নারীরা নিয়মিত বাদাম খান তদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তাই বিভিন্ন রকম বাদাম রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায়। ডায়াবেটিস প্রতিরোধের পাশাপাশি বাদাম আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা দেবে।

৫। তিসির দানা
অবস্টেট্রিকস এবং গাইনোকলজির একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৪০ গ্রাম তিসি নিয়মিত খেলে মেনোপোজ পরবর্তী শারীরিক সমস্যা কমে যায়, শরীরের গ্লুকোজ এবং ইন্সুলিন নিয়ন্ত্রণে থাকে। মিষ্টি জাতীয় খাবারে, পাউরুটির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন উপকারি এই খাবারটি।

৬। শসা

শসা খুবই পরিচিত একটি খাবার। শসায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, সাথে থাকে ফাইটোস্ট্রোজেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার নাস্তায় শসা অতিরিক্ত গরম লাগা বা ঘেমে যাওয়া থেকে মুক্তি দেবে।

৭। শিম এবং শিমের বীচি
সহজলভ্য এই সবজিটি প্রচুর পরিমাণে ফাইটোস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ একটি খাবার। সাথে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও আছে। মেনোপোজ পরবর্তী সময়ের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার।
ডাক্তার প্রিয়াংকা দাস আরো বলেন, “খাবারের পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম স্বাস্থ্যকে ভাল রাখে। মেনোপোজ স্টেজে মেজাজ খিটখিটে থাকে, কোন কিছু ভাল লাগে না। এসময় প্রচুর বিশ্রাম প্রয়োজন। আর মেনোপোজ মানেই যে যৌনজীবন শেষ, এটি একটি ভুল ধারণা।” এসময় পরিবারের অন্য সকলের মানসিক সমর্থন থাকাও দরকার বলে মনে করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই