মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও পুলিশ মহা-পরিদর্শকের হস্তক্ষেপ কামনা

সেই ইতালী প্রবাসী লকিয়ত উল্যা গংদের সন্ত্রাসী বাহিনী কি আইনের উর্দ্ধে?

প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী ইতালী প্রবাসী লকিয়ত উল্যা গংদের সন্ত্রাসী বাহিনী কি আইনের উর্দ্ধে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। কথায় বলে, চোরের মার বড় গলা। ঠিক তেমনই একজন ব্যক্তি এই লকিয়ত উল্যা। তাকে নিয়ে গত ১ মার্চ-২০১৬ আওয়ার নিউজ বিডি’তে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের।

নোয়াখালী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ফতেপুর গ্রামের প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী ইতালী প্রবাসী লকিয়ত উল্যা গংদের সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক হত্যা ও অপহরণের হুমকির কবল হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভুগী।

জানান, ১৯ মার্চ ২০১৬ ইং রোজ শনিবার নোয়াখালী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ফতেপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী ইতালী প্রবাসী লকিয়ত উল্যা, তার ছেলে আনোয়ার হোসেন ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কিছু বিবরণ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে বলেন রহমত উল্যা একজন ইতালী প্রবাসী। ১৯৯৭ ইং সালে ইতালীতে বাংলাদেশী নাগরিক রহমত উল্যা মহসিন, বাবুল, মাহমুদ উল্যা, কাদের, আবুল হাশেম, মমিন উল্যা, লকিয়ত উল্যা, বাচ্চু মিয়া ও অজি উল্যাহ সহ আমরা আইনগতভাবে রেজিস্ট্রেশনকৃত সুচিয়েতার মাধ্যমে একটি দোকান ঘর ক্রয় করিয়া বিজুত্তোরিয়ার (আল্-আমিন কো-অপারেটিভ ামে) ব্যবসা শুরু করি। লকিয়ত উল্যা ব্যবসা পরিচালনা করেছিলেন। আড়াই থেকে তিন বছর ব্যবসায় করার পর বিভিন্ন সমস্যা দেখাইয়া লকিয়ত উল্যা তাহার ছেলে আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় আমাদেরকে ব্যবসা হইতে বাহির করিয়া দেয়। আমাদেরকে দোকান বিক্রি করিয়া বিনিয়োগকৃত টাকা ও লভ্যাংশ ফেরৎ দিবে বলে আশ্বাস দেয়। লকিয়ত উল্যা আমার আত্মীয় হওয়ায় এবং ইতালীতে কোন চুক্তিপত্র হয় নাই বিধায় আমি কোন প্রকার চুক্তিপত্র করি নাই। তাছাড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের নামে কিছুই হয় না। ইতালীর নাগরিকদের নামে হয়। লকিয়ত উল্যা দ্রুত দোকান বিক্রি করিয়া আমাদের টাকা পরিশোধ করিবেন বলিলেও সে ২০১৩ ইং সাল পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করেন। ২০১৩ ইং সালে উক্ত দোকানটি চায়না কোম্পানীর নিকট ৪ লক্ষ ইউরো অর্থাৎ বাংলাদেশী প্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশী টাকায় বিক্রি করেছিল। আমার ও আমার স্ত্রীর বড় ভাই রহমত উল্যা মহসিনের ৩ শেয়ারের এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা ফেরত না দিয়া দিব দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করেন।

পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে লকিয়ত উল্যা জানায় যে, ২০১৬ ইং সালের জানুয়ারি মাসে দেশে আসিয়া সব টাকা পরিশোধ করিবে। ইতোমধ্যে আমি জানতে পারি যে, লকিয়ত উল্যা ইতালীতে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করায় তার বিরুদ্ধে ১৫/২০ টি মামলা হয়।২০১৬ ইং জানুয়ারি মাসে লকিয়ত উল্যা বাংলাদেশে আসিলে আমি এলাকার গণ্যমান্য লোকজন নিয়া ২৭ জানুয়ারি তার সাথে দেখা করি। সে এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ০৫ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং তারিখে আমার পাওনাকৃত ১ কোটি বিশ লক্ষ টাকা পরিশোধ করিবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আমি এলাকার লোকজন নিয়া লকিয়ত উল্যার বাড়িতে যাইয়া বসত ঘরে তালা দেখতে পাইয়া প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করিয়া জানতে পারি তারা পালিয়ে ঢাকায় যাইয়া আত্মগোপন করে।

উক্ত ঘটনায় পুলিশ সুপার, নোয়াখালীতে একটি অভিযোগ দায়ের করি। তার স্মারক নং-৮২৪ প্রতারক, বিশ্বাসভঙ্গকারী, অর্থ-আত্মসাৎকারী লকিয়ত উল্যা আমার পাওনাকৃত টাকা না দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। কতেক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার হুমকি ধমক দিচ্ছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আমাকে হত্যা, গুম সহ নানা রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে। বিগত ০১ মার্চ ২০১৬ ইং রাত আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকার সময় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি মাইজদী বাজারে আমাকে একা পাইয়া বলে যে, আমি যদি লকিয়ত উল্যার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিই এবং আমার পাওনা ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দাবী করি তাহলে আমার ও আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে হত্যা কিংবা অপহরণ করে গুম করে ফেলবে। উক্ত হুমকিতে আমি ভয় পাইয়া সুধারাম মডেল থানায় একটি জি.ডি এর আবেদন করি আমি পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ এবং সুধারাম থানায় জি.ডি করার পর হইতে লকিয়ত উল্যা, তার ছেলে আনোয়ার এবং স্ত্রী মনোয়ারা আরও হিংস্র হয়ে উঠে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার হয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে একের পর এক হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে। একদিকে আমার ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, না পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের প্রাণ নাশের হুমকির ভয় ভীতি যাহা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন বিষিয়ে তুলছে।

DCIM100MEDIA

এছাড়াও লকিয়ত উল্যা দীর্ঘদিন হইতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার সহজ-সরল লোকজন হইতে ভিসা দিবে বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তৃতীয় শ্রেণি পাশ লকিয়ত উল্যা ছুটিতে দেশে আসিয়া সহজ-সরল বেকার লোকদের ব্যাংকে চাকুরি দিবে বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমতাবস্থায় এ প্রতারক লকিয়ত উল্যা, তার ছেলে আনোয়ার ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে পাওনা টাকা উদ্ধার ও কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহা-পরিদর্শক ও দেশ জাতির নিকট তুলে ধরা একান্ত আবশ্যক। সমাজের অনেক মানুষের চেয়েও আপনারা অনেক বেশী জান্তা ও বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি। আপনারা আপনাদের ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে প্রতারক, বিশ্বাস ভঙ্গকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, হত্যা, অপহরণ ও গুমের ষড়যন্ত্রকারী লকিয়ত উল্যা, তার ছেলে, স্ত্রী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহা-পরিদর্শক ও দেশ জাতির নিকট তুলে ধরার বিনীত অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে অর্থ আত্মসাৎকারী ইতালী প্রবাসী লকিয়ত উল্যাকে নিয়ে গত ১মার্চ ২০১৬ আওয়ার নিউজ বিডি’তে “ইতালি প্রবাসী ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা, আত্মগোপনে প্রতারক চক্র” শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।






মন্তব্য চালু নেই