মেইন ম্যেনু

সেই গমের আটা-ময়দা বাজারে

পুলিশের পর এবার ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিতে আপত্তি জানাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এই গম নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গম না নিতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

তবে এই নির্দেশনা আসার আাগে এরই মধ্যে নানা প্রক্রিয়ায় গম ভাঙিয়ে আটা-ময়দা বাজারে চলে এসেছে। আর মান নিশ্চিত না হলেও সাধারণ মানুষ সেসব খাচ্ছে।

কেবল ছোটখাট আটা-ময়দার মিল না, সরকার নিতে রাজি হয়নি এমন ৫০ হাজার টন গম কিনে নিয়েছে নামী ব্র্যান্ডের বেশ কয়েকটি আদা-ময়দা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও। খাদ্য অধিদপ্তরে গম সরবরাহের টেন্ডার পেয়েছিল নেদারল্যান্ডসের গ্লেনকো কোম্পানি। তাদের স্থানীয় এজেন্ট ইমপেক্সের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারওয়ানবাজারে আটা কিনতে এসেছিলেন সবুজ নামে এক ক্রেতা। সব জানার পর তিনি আটা না কিনেই বাড়ি গেলেন। জাহিদ নামে আরেক ক্রেতা কারওয়ানবাজার থেকে গম কিনে নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘এলাকায় মেশিন আছে, ভাঙিয়ে নেবো’।

টিআর-কাবিখা প্রকল্পের ববাদ্দকৃত গম খাওয়ার অনুপযোগী কি না তা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত গ্রহণ না করতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া ৪০ হাজার ৪৪২ মেট্রিকটন গমের বেশির ভাগই ব্রাজিল থেকে আমদানি করা। মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেয়া এই গম আছে এখনও আছে উপজেলা খাদ্য গুদামে। প্রকল্পের অধীনে এখান থেকে স্থানীয় কর্মকর্তারা গম সংগ্রহ করে। পরে তা বিক্রি করা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে। সেই গম ভাঙানোর পর সরাসরি বাজারে ছাড়া হয়। এ ছাড়া কিছু গম ভাঙানোর পর সরকারিভাবে খোলাবাজারে (ওএমএসের মাধ্যমে) বিক্রি হয়।

বরাদ্দ দেয়া গমের একটি অংশ ভাঙানোর পর আটা-ময়দা বাজারে চলে আসলেও আর যেন এটি না হয়, সে ব্যবস্থা নিচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এই গম খাওয়ার অনুপযোগী বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এজন্য আমরা সব জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি, এ ধরনের গম গ্রহণ করা যাবে না’।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কারিখা) কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের অনকূলে ৪০ হাজার ৪৪২ টন গম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে জামালপুরে ৭৩৩ টন, শেরপুরে ৪৩৮ টন, ময়মনসিংহে ১৬০৬ টন, নেত্রকোণায় ৭৩০ টন, কিশোরগঞ্জে ৮৭৬ টন, টাঙ্গাইলে ১১৬৮ টন।

এছাড়া ঢাকায় ৭৩০ টন, নরসিংদীতে ৭৩০ টন, মুন্সীগঞ্জে ৪৩৮ টন, মানিকগঞ্জে ৪৩৮ টন, ফরিদপুরে ৫৮৪ টন, রাজবাড়ীতে ২৯২ টন, মাদারীপুরে ৪৩৮ টন, গোপালগঞ্জে ৪৩৮ টন, শরীয়তপুরে ৪৩৮ টন, কুমিল্লায় ১৬০৬ টন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮৭৬ টন, চাঁদপুরে ৭৩০ টন, নোয়াখালীতে ৮৭৬ টন, লক্ষ্মীপুরে ৫৮৪ টন, ফেনীতে ৪৩৮ টন, চট্টগ্রামে ১৮৯৮ টন, কক্সবাজারে ৫৮৪ টন, রাঙামাটিতে ১৭৬ টন, খাগড়াছড়িতে ১৭৬ টন, রাঙামাটিতে ১৭৬ টন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আরও বরাদ্দ দেওয়া হয় নাটোরে ৫৮৪ টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩৮ টন, পাবনায় ৭৩০ টন, সিরাজগঞ্জে ৮৭৬ টন, বগুড়ায় ১০২২ টন, রাজশাহীতে ৭৩০ টন, নওগাঁয় ৮৭৬ টন, কুষ্টিয়ায় ৫৮৪ টন, চুয়াডাঙ্গায় ২৯২ টন, মেহেরপুরে ২৯২ টন, যশোরে ৮৭৬ টন, ঝিনাইদহে ৫৮৪ টন, মাগুরায় ২৯২ টন, নড়াইলে ২৯২ টন, খুলনায় ৫৮৪ টন, বাগেরহাটে ৫৮৪ টন, বরিশালে ৮৭৬ টন, পিরোজপুরে ৪৩৮ টন, ভোলায় ৫৮৪ টন, পটুয়াখালীতে ৫৮৪ টন, বরগুনায় ২৯২ টন,

সিলেটে ৮৮৬ টন, মৌলভীবাজারে ৫৮৪ টন, হবিগঞ্জে ৫৮৪ টন, সুনামগঞ্জে ৭৩০ টন, দিনাজপুরে ৮৭৬ টন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৩৮ টন, রংপুরে ৭৩০ টন, লালমনিরহাটে ৪৩৮ টন, নীলফামারীতে ৫৮৪ টন, কুড়িগ্রামে ৫৮৪ টন, গাইবান্ধায় ৭৩০ টন ও পঞ্চগড়ে ২৯২ টন গম বরাদ্দ করা হয়।

এসব গমের বেশিরভাগই ব্রাজিল থেকে আমাদানি করা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমদ বলেন, ব্রাজিলের গমের মান নিয়ে পুলিশ প্রশ্ন তোলায় তাদের আর ওই গম দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মসূচিতে বণ্টনের জন্য এগুলো দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খাদ্য সচিব বেগম মুশফেকা ইকফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘অনেক জেলায় গমের বদলে চাল বিতরণ করা হযেছে। বিষয়টি মূলত আমাদের নয়। এরপরও আমরা ভালো করার জন্য প্রতিটি জেলায় বরাদ্দকৃত গম পরীক্ষা করে দেখার জন্য বলেছি’।






মন্তব্য চালু নেই