মেইন ম্যেনু

সেই জামায়াত ভক্তের হাতে শাহজালালের নিরাপত্তা!

২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের স্ত্রী-পুত্রকে বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকল দেন ইফতেখার জাহান হোসেন। হাইকোর্ট সে সময়ে ইফতেখার জাহান হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে রুল জারি করেন। অথচ আজ সেই কর্মকর্তাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবান্দরের চিফ সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মূলত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোপন বিষয়াদি ও তথ্য জামায়াত-বিএনপিকে পৌছে দেয়াই এই কর্মকর্তার কাজ বলে জানা যায় গোয়েন্দা সূত্রে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম সানাউল হক এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলমকে বদল করা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সিএসও ইফতেখার জাহান হোসেন।

নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো যাতায়াত বন্ধ হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

এক্সপোর্ট কার্গোর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইফতেখার জাহান হোসেন কার্গো নিরাপত্তা বিষয়ে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন মহলে। শুধু তাই নয়, এই ইফতেখার জাহান হোসেন জোট সরকারের আমলের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেনারেল সাদিক হাসান রুমির শ্যালক।

বেবিচক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করে জাহান। এরপর তৎকালীন বিমান ও পর্যটন সচিব আতাহারুল ইসলামের নির্দেশে তাকে সিভিল এভিয়েশন ট্রেইনিং সেন্টারে বদলি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন কোনো এক অজানা কারণে ফের তাকে সিএসও পদে পদায়ন করে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নানা সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধী, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিধি বর্হিভূত প্রটোকল দিয়ে আসছেন এই কর্মকর্তা।

একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্টদের কড়া নজরদাড়িতে রাখার নির্দেশ দিলেও কোনো এক অজানা কারণে বেবিচক থেকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয় ইফতেখার জাহান হোসেনকে।

তবে এসব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বেবিচকের কর্মকর্তারা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং আছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অন্যদিকে সিএসও ইফতেখার জাহান হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বেবিচকের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ২০০৪ সালে জোট সরকারের বিমান মন্ত্রী মীর নাসির ও তৎকালীন একটি গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেনারেল সাদিক হাসান রুমির বিশেষ সুপারিশে নামমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে সিভিল এভিয়েশনে যোগদান করেন ইফতেখার জাহান হোসেন।






মন্তব্য চালু নেই