মেইন ম্যেনু

সেই বন্য হাতিটি উদ্ধারে ব্যর্থ ভারতের বিশেষজ্ঞরা ফিরে যাচ্ছেন

ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে ভেসে আসা সেই বন্য হাতিটি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে দেশটির তিন বিশেষজ্ঞ ফিরে যাচ্ছেন। এখন হাতিটি উদ্ধারে বাংলাদেশের বন্য প্রাণী বিভাগের বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন।

রোববার সকালে ভারতের তিন বিশেষজ্ঞ জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে ঢাকায় এসেছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা ভারতে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্য আসামের প্রধান বন কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত) রীতেশ ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, উৎসুক মানুষের ঢল আর বন্যার পানির কারণে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে হাতিটিকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। শুকনো এলাকায় না আসা পর্যন্ত হাতি উদ্ধার করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

রীতেশ ভট্টাচার্য বলেন, রোববারও একাধিকার চেষ্টা করেও হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করতে পারেনি। তাই এখন আমরা বাংলাদেশের বন্য প্রাণী বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে দ্বায়িত্ব বুঝে দিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

এদিকে এখনো হাতিটি উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোববার সকালে হাতিটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের মুজাটা গ্রামে দুটি বাড়ি ভাংচুর করেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বাড়ি ভাংচুরের পর হাতিটি সেখান থেকে ফের সরিষাবাড়ি উপজেলার দিকে চলে যায়। সর্বশেষ হাতিটি সরিষাবাড়ির ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের নদীর পাড়ে অবস্থান করছে। তবে হাতিটিকে বিরক্ত করা ও ধাওয়া না দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে জনসাধারণকে অবহিত করছে।

হাতি উদ্ধার অভিযানের ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান আসাম কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজ অব ভেটেরিনারি সার্জন বিভাগের প্রধান, কুশল কনওয়ার শর্মা আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, হাতিটি উদ্ধারে প্রধান সমস্যা উৎসুক জনতা। তাদের তাড়া খেয়ে শুকনো এলাকায় আসতে পারে না হাতিটি। চারদিকের রাস্তায় জনতা আর জনতা। জনতার অত্যাচার না কমলে হাতি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, হাতিটি উদ্ধারের সুন্দরবন থেকে ও কক্সবাজার থেকে দু’জন বিশেষজ্ঞ এসেছেন। আমি তাদের সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে ঢাকায় এলাম। এখন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি বুঝে হাতিটি উদ্ধার করবেন। আমরা দেশে ফিরে যাচ্ছি।

এদিকে ভারতের বন্য হাতি উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আরো দুজন পশু চিকিৎসক যোগ হচ্ছেন। কক্সবাজার ও সুন্দরবনের দুইজন পশু চিকিৎসক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ভারতের তিন বিশেষজ্ঞ ফিরে যাচ্ছেন। এখন আমাদের দেশীয় বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা হাতিটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবেন।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিশষেজ্ঞরা ফিরে যাওয়ায় কক্সবাজার থেকে একজন পশু চিকিৎসক উদ্ধার অভিযানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগ দিবেন। আর অভিযানে থাকা একজন পশু চিকিৎসক ফিরে আসবেন।

গত ২৭ জুন হাতির পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসামের বন্য হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে ভেসে সীমান্ত পার হয়ে কুড়িগ্রামসহ চারটি জেলা ঘুরে এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ির ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের নদীর পাড়ে অবস্থান করছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা ভারতীয় বুনো হাতিটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বন্য প্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা।






মন্তব্য চালু নেই