মেইন ম্যেনু

সেই সাহসী কন্যা শতাব্দীর জন্য এলো বিআরটিসি বাস

মন্ত্রী ভাবতেই পারেননি ওইটুকু একটি ছোট মেয়ে অমন সাহস নিয়ে তার কাছে চলে আসতে পারে, তাও আবার দাবি নিয়ে। সাহসী কন্যা শতাব্দী, দশম শ্রেণীর এই ছাত্রী স্কুলের যাতায়াতে নিদারুণ কষ্টের কথা খুব সাহস করেই গতকাল তুলে ধরেছিলো মন্ত্রীর কাছে।

শনিবার দুপুরে মহানগরীর গণপরিবহনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে ঝটিকা সফরে কুড়িল বিশ্বরোডের পাশে শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে যান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানেই সাহস নিয়ে বহু কষ্টে মন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজের এবং বন্ধুদের স্কুলে যাতায়াত পরিবহনের দাবি তুলে ধরে শতাব্দী। কথা দিলেন মন্ত্রী, তার ও সহপাঠীদের কষ্ট লাঘবের।

সাধারণত এই দেশে কেউ কথা রাখে না, মন্ত্রী কি মনে রেখেছেন? সন্দেহ ছিলো মিডিয়ার, সন্দেহ ছিলো ওই ছোট মেয়ের সাহসিকতার সাক্ষীদেরও।

রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রীর নাম শামসুন্নাহার শতাব্দী। মন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী সে ও তার অনেক বন্ধু হাজির। চলে অপেক্ষার পালা। না, কথা রাখলেন মন্ত্রী, ঠিক সকাল ৬টায় বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস এসে হাজির।

সকাল সোয়া ৬টার দিকে পায়ে হেঁটে মায়ের সাথে বাসের দিকে এগিয়ে আসে সাহসী কন্যা শতাব্দী। আসতে থাকে তার সহপাঠীরাও। একে একে অভিভাবকসহ তার সহপাঠীরা বাসে উঠে আসনে বসে পড়ে।

সকাল সাড়ে ৬টায় গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। উচ্ছাস তখন শতাব্দীসহ সব শিক্ষার্থীর মাঝে। শতাব্দীর ভাষায়, ‘আমার বন্ধুদের জন্য উচ্ছাসটা অনেক বেশি। আমি আমার বন্ধুদের জন্যই কাজটা করেছি। কারণ তারা অনেক কষ্ট করে স্কুলে যায়। সেজন্য আমার কাছে এই বাস পাওয়ার আনন্দ অনেক।’

নিজের সাহসিকতাকে বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় শতাব্দীর।

বন্ধুর এমন কর্মে তার প্রতি শুভকামনা জানালো তার সহপাঠী এবং বন্ধুরাও। এই বাসের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন আর তাদের স্কুলে যেতে দেরি হবে না, শিক্ষকের কাছে শাস্তিও পেতে হবে না। তাই ভবিষ্যতে শতাব্দী যেনো আরো ভালো কিছু করতে পারে এই কামনা বন্ধুদের।

শতাব্দীর মা-ও নিজ সন্তানের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। বলেন, শতাব্দী মেয়েদের কল্যাণে একটা কাজ করেছে। তাই মা হিসেবে তিনি গর্বিত।

এমন উদ্যোগে সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

ঢাকা মহানগরীতে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির সাড়ে ৬শ’ পরিবহনের মধ্যে মাত্র ১৯টি বাস চলে শুধু নারীদের জন্য। কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য শহরে মহিলা বাস সার্ভিস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নারী যাত্রীরা।






মন্তব্য চালু নেই