মেইন ম্যেনু

সেদিন অস্ট্রেলিয়ায় উড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য নাকি কখনই অস্তমিত হয় না। অথচ কথাটাকে প্রমাণ করতেই হয়তো ১৭৯৫ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেপটাউন শহরটা দখল করে নেয় ব্রিটিশরা। এরপরই তথাকথিত সভ্যতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করে অন্ধকারের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। নিজেদের প্রযোজনে ইংলিশ বাবুরা এখানে গড়ে তোলেন ক্রিকেট ক্লাব। দাসদের দিয়ে ক্রিকেট খেলাটা আফ্রিকা মহাদেশে ছড়িয়ে দেয় ইংরেজরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের একটি দল খেলতে আসে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১৯১১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যাডিলেডে টসে জিতে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ৪৮২ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে অসিদের সংগ্রহ ৪৬৫ রান। ১৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়ারা করল ৩৬০ রান। অসিদের সামনে তখন টার্গেট ৩৭৮ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ক্লেমেট হিল-স্যামি কার্টাররা প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলেন। তবে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না অসিদের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩৮ রানের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।

১৩ জানুয়ারি আজকের দিনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্রিকেটের অপর জনক রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই প্রথম জয় প্রোটিয়াদের। এই ম্যাচে প্রোটিয়াদের প্রাপ্তির পরিমাণটাও কম ছিল না। প্রথম ইনিংসে বিলি জুল্চের ১০৫ ও টিপ স্নোকের ১০৩ রানের সেঞ্চুরি, বল হাতে ওয়ার্কউইক আর্মস্ট্রংয়ের ১০৩ রানে ৪ উইকেট। আর দ্বিতীয় ইনিংসে অব্রে ফকনারের ১১৫ রানের এক লম্বা ইনিংস। রেগি সোয়ার্জ ৪৮ রানে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসটা বেশ লম্বা ও বিতর্কিত। প্রোটিয়ারা টেস্ট মর্যাদা পায় ১৮৮৯ সালে এবং ওই বছরের ১২-১৩ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা অভিষেক টেস্ট খেলে। সে সময় তারা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই বেশি ক্রিকেট খেলত। ১৯৩০ সালে আপার্টহাইট নীতি ঘোষণা করে আফ্রিকা সরকার ঘোষণা করল যে তাদের ক্রিকেট দল কেবল শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকান সরকারের এ ঘোষণার সঙ্গে একমত হতে পারেনি আইসিসি। যার ফলে ১৯৭০ সালে বর্ণবাদ নীতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ প্রদান করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। এ সময় পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে আফ্রিকার ক্রিকেট। পরে ২১ বছর পর ১৯৯১ সালে আইসিসি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার কর্তৃক দেশ পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে দলটির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। ১৯৭০ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০ নভেম্বর, ১৯৯১ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে কলকাতায় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে প্রোটিয়ারা।

২০০৩ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্বাচিত করে আইসিসি। কিন্তু বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, গ্যারি কারর্স্টেন এবং হ্যান্সি ক্রোনিয়ের মতো স্বীকৃত খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও চোকার্স হিসেবে দলটি আখ্যায়িত হয়। বিশ্বকাপে তিনবার দলটি সেমিফাইনালে খেললেও ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়।

১৯৯০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যেকোনো দলের বিপক্ষে জয়ের দিক দিয়ে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ গড়ের অধিকারী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তা সত্ত্বেও দলটি ১৯৯৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়। ২০০৩ সালে শিরোপাপ্রত্যাশী দলের একটি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলটি ১ রানের জয়ের ভুল বোঝাবুঝিতে গ্রুপ পর্যায় উতরাতে পারেনি।

বিতর্ক তখনো পিছু ছাড়েনি প্রোটিয়াদের। অ্যালান ডোনাল্ডের অবসর, হ্যান্সি ক্রোনিয়ের পাতানো কেলেঙ্কারি ও শন পোলকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের প্রেক্ষাপটে দলটি আরো একবার পরিবর্তনের ধাক্কায় পড়ে। ১২ জুলাই, ২০০৬ তারিখে ২৯ বছর বয়সী অ্যাশওয়েল প্রিন্স অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব আসেন। বর্ণ কোটার প্রেক্ষাপটে তাঁকে দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে এ নীতিটির পরিবর্তন এনেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার।






মন্তব্য চালু নেই