মেইন ম্যেনু

সেপ্টেম্বরের পোস্টারেও বদরুল শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কৌশলে দায় এড়াতে চাইলেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়নি ছাত্রীকে কোপানো ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে। তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস ও প্রচার করা পোস্টারই বলছে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ছাত্রলীগ কমিটির একজন নেতা।

ঘটনার পর সাময়িকভাবে বদরুলের ছাত্রত্ব বাতিল করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে শাবি কর্তৃপক্ষ। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কাগজে-কলমে বহিষ্কার করা হয়নি বদরুলকে। বরং উল্টো বলা হয়েছে বদরুল ছাত্রলীগের কেউ না।

ছাত্রীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় সিলেটসহ পুরো দেশে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই দায় এড়ানো বক্তব্য দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আহত কলেজছাত্রী খাদিজাকে দেখতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত বদরুল আলম এখন ছাত্রলীগের কেউ নয়। কারো ব্যক্তিগত দায় ছাত্রলীগ নেবে না।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত বদরুল শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলো। কিন্তু সে ছাতকের আলহাজ আয়েজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চাকরি করতো। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেউ চাকরি অথবা বিয়ে করলে দলে থাকতে পারবে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পদ এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং সে এখন ছাত্রলীগের কেউ নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদরুল শিক্ষকতায় যোগদান করলেও ছাত্রলীগের মিটিং-মিছিলে নিয়মিত যোগদান করতেন। শাবি ছাত্রলীগের বড় কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি ছিলো। গত সেপ্টেম্বরেও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে সর্বস্তরের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারের ছবি পোস্ট করেছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে দেয়া ওই পোস্ট আপলোড করার আগে থেকেই স্কুলের চাকরিতে বহাল ছিলেন। নিজেকে ছাত্রলীগের পোস্টধারী দাবি করে আপলোড করা ওই পোস্টের মাস না পেরোতেই ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছেন বদরুল আলম। এরপরও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দাবি তিনি ছাত্রলীগের কেউ না।

উল্লেখ্য, সোমবার (৩ অক্টোবর) সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার সময় তার ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা করে বদরুল। গুরুতর অবস্থায় খাদিজাকে প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।






মন্তব্য চালু নেই