মেইন ম্যেনু

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা : আধুনিকায়নের পরই ‘ছাদ ফুটা’

মাত্র দুই মাস হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বৃহত্তম এ রেলওয়ে কারখানার ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে। একটুখানি বৃষ্টি হলেই অঝোরে পানি পড়তে থাকে কারখানার যন্ত্রপাতির ওপর। এতে এসব যন্ত্রপাতি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সৈয়দপুরে ১১০ একর জায়গার ওপর এ রেলওয়ে কারখানাটি গড়ে তোলে। গত প্রায় দেড়শ বছরো এই কারখানাটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১২ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ১৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের এ আধুনিকায়ন কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০১৪ সাল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন সময় বাড়িয়ে গত ২৫ জুন তা হস্তান্তর করে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ২৮টি উপকারখানার (শপ) শেডের অধিকাংশেরই ছাদের মটকায় মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ছাদে তৈরি হয়েছে বড় বড় ছিদ্র। বৃষ্টি হলেই অঝোরে পানি পড়ছে কারখানার মেঝে ও যন্ত্রপাতির ওপর। এতে করে যেমন কাজে বিঘ্ন ঘটছে, যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিদ্যুতায়িত হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, এক সপ্তাহের বর্ষণে কারখানার ব্রয়লার শপ, ক্যারেজ হেভি রিপেয়ার শপ, জেনারেল ওভারহোলিং শপ, ওয়াগন শপ, ক্যারেজ শপ, ওয়েল্ডিং শপ, কামারশাল, মিলরাইট, ইলেকট্রিক শপসহ ২৮টির মধ্যে ২৬টি উপকারখানার ছাদে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে প্রকৌশলী বলেন, আধুনিকায়নের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় শেডে টিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ ব্রিটিশ আমলে কারখানার শেডে ব্যবহার করা টিন এখনো অক্ষত।

কারখানার ওয়েল্ডিং শপের ফার্স্ট গ্রেড শ্রমিক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমরা কাজ বন্ধ রাখছি। বৃষ্টির পানি মেশিনে পড়ায় তা বিদ্যুতায়িত হয়ে শ্রমিকেরা কাজ করতে পারছেন না।’ আধুনিকায়নের কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ক্যারেজ হেভি রিপেয়ারিং শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী দ্বিজয় কুমার সিংহ বলেন, এভাবে পানি পড়লে কারখানার ৭৪২ ধরনের মেশিন নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে শ্রমিকের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

এ নিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর আহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনিও পানি পড়ার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই