মেইন ম্যেনু

সোনাগাছির যৌনপল্লিতে ক্লাস নাইনের দুই পড়ুয়া! অতঃপর…

ক্লাস নাইনের দুই পড়ুয়া৷ তারা পৌঁছে গিয়েছে সোনাগাছিতে৷ কারণ, প্রেমের সম্পর্কে তারা জড়িয়ে পড়েছে৷ এবং, তার-ই জেরে যৌন সুখের উল্লাসে মেতে উঠতে চাইছে ওই দুই পড়ুয়া৷ কিন্তু, যৌনপল্লিতে কেন!!

কারণ, ‘খোঁজখবর’ নিয়ে তারা এমন জানতে পেরেছে, সোনাগাছিতে ঘর ভাড়া পাওয়া যায়৷ এবং, সেখানে তারা ‘নিরাপদে’ মেতে উঠতে পারবে যৌনতায়৷ তেমনই, দুই কলেজ পড়ুয়াও৷ ‘খোঁজখবর’ নিয়ে তাঁরাও এমন জানতে পারেন, যৌনতা উপভোগের জন্য অন্য কোনও জায়গার বদলে তুলনামূলক ভাবে বেশি ‘নিরাপদ’ হবে সোনাগাছির কোনও ঘর৷

তবে, যৌন সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার জন্য কোনও যৌনপল্লির কোনও ঘর-ই যে ওই ধরনের কোনও কিশোর-কিশোরী অথবা তরুণ-তরুণীর ক্ষেত্রে আদৌও ‘নিরাপদ’ কোনও স্থান-ই নয়, সেই বিষয়টি জানতেও তাঁদের খুব বেশি সময় নষ্ট হয়নি৷ কেননা, যৌনতা উপভোগের জন্য সোনাগাছির কোনও ঘর সাধারণত এই ধরনের কাউকে ভাড়া দেওয়া হয় না৷ এবং, কোনও ভাবে ভাড়ায় ঘর মিলে গেলেও, থেকে যায় অন্য বিভিন্ন সমস্যাও৷ যেমন, কোনও যৌনপল্লিতে কোনও সমাজবিরোধীর আনাগোনা অসম্ভব নয়৷ তেমনই, যে কোনও যৌনপল্লিতে যে কোনও সময়েই হতে পারে পুলিশি হানা৷

কিন্তু, শুধুমাত্র যেমন এমন দুই ঘটনাও নয়৷ তেমনই, ওই কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণীর কাহিনিও আবার বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনাও নয়৷ কেননা, বিভিন্ন সময় এই ধরনের বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী থাকতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিকে৷ শুধুমাত্র যে সাক্ষী থাকতে হচ্ছে, তাও নয়৷ বরং, আগের তুলনায় এই ধরনের আরও বেশি ঘটনার এখন সম্মুখীন হচ্ছে ওই সংগঠন৷ তেমনই, শুধুমাত্র যে নিজেদের ইচ্ছায় যৌন সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার জন্য সঙ্গীর সঙ্গে কোনও কিশোরী অথবা তরুণী সোনাগাছি অথবা এ রাজ্যের কোনও যৌনপল্লির ঘর খোঁজ করছেন, তাও নয়৷

কেননা, বিভিন্ন সময় দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিকে অন্য বিভিন্ন ঘটনারও সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ সে সবের মধ্যে এমনও হয়: কোনও কিশোরী অথবা তরুণীকে সেখানে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেলেন তাঁদের-ই নিকট কোনও আত্মীয় অথবা পরিচিত৷ ওই কিশোরী অথবা তরুণীর সঙ্গে ওই আত্মীয় অথবা পরিচিতর প্রেমের সম্পর্ক যে থাকতে পারে না, তাও নয়৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি সূত্রের খবর, এমনও হচ্ছে যে, কোনও কিশোরী অথবা তরুণীকে এই শহর দেখাবেন বলে কলকাতায় নিয়ে এলেন তাঁর কোনও আত্মীয় অথবা পরিচিত৷ কিন্তু, ওই কিশোরী অথবা তরুণীকে সোনাগাছিতে নিয়ে গেলেন তাঁর ওই আত্মীয় অথবা পরিচিত৷ কারণ, শহর দেখানোর নাম করে ওই কিশোরী অথবা তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়তে চান নিকট ওই আত্মীয় অথবা পরিজন৷

কিন্তু, যৌন সুখের উল্লাসে নিশ্চিন্তে মেতে ওঠার জন্য এ ভাবে কেন-ই-বা ‘নিরাপদ’ স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে সোনাগাছি অথবা অন্য কোনও যৌনপল্লিকে? দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি সূত্রের খবর, যৌনপল্লি সম্পর্কে অনেকের-ই সেভাবে ধারণা নেই৷ যে কারণে, ওই সংগঠনকে এই ধরনের বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ তবে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনও মতেই সমর্থন করে না পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ ওই সংগঠনের সচিব ভারতী দে বলেন, ‘‘দুর্বারের কোনও মেয়ে বাদে অন্য কেউ এখানে ঘর ভাড়া নিতে পারে না৷’’ তবে, একই সঙ্গে তিনি অবশ্য বলেছেন, ‘‘কোনও কোনও সময় বাইরের কেউ ঘর ভাড়া পেয়ে যায়৷ যে যা যাঁরা এ ভাবে ঘর ভাড়া দেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিই৷’’

কিন্তু, সোনাগাছি অথবা কলকাতা সহ এ রাজ্যের অন্য কোনও যৌনপল্লিতে কেন ঘরের খোঁজে আসছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মহিলা-পুরুষরা? কারণ, দুনিয়া ক্রমে আরও বদলে চলেছে৷ আর, তার সঙ্গে বদলে চলেছে যৌনতার সংজ্ঞাও৷ অন্যদিকে, যৌনতা যে জীবনের কতটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, সেই বিষয়েও চিন্তা-ভাবনায় ক্রমে আরও পরিবর্তন ঘটছে৷ আর, এমনই নানা কারণে, যৌন সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার জন্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ’ স্থান মনে করে বেছে নেওয়া হচ্ছে যৌনপল্লির কোনও ঘর৷ তবে, ভারতী দে বলেন, ‘‘দুর্বারের ফিল্ড ওয়ার্কাররা সতর্ক রয়েছেন৷ বাইরের কেউ যদি এখানে কখনও ঘর ভাড়া পেয়ে যান, তা হলে আমাদের কাছে খবর চলে আসে৷ নাবালক কোনও মেয়ের জন্য কোনও ঘর যদি কেউ ভাড়া দেন, তা হলে, আমরা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দিই৷’’

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘ক্লাস নাইনের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে কিছুটা সময় ওরা একসঙ্গে কাটাতে চেয়েছিল৷ এত কম বয়স৷ তাই ওদেরকে পুলিশের কাছে তুলে না দিয়ে, ওদের অভিভাবকদের খবর পাঠানো হয়৷ তার পর, অভিভাবকদের বুঝিয়ে, তাঁদের সঙ্গে ওদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷’’ সেভাবে না বুঝে ক্লাস নাইনের ওই দুই পড়ুয়া সোনাগাছি পৌঁছে গিয়েছিল৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি এমনই মনে করে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওই দুই পড়ুয়াকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হলে, তাদের ভবিষ্যতের বিষয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ যে কারণে, তাদের অভিভাবকদের কাছেই ওই দুই পড়ুয়াকে তুলে দেওয়া হয়৷ কিন্তু, কলেজ পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে? ভারতী দে বলেন, ‘‘প্রাপ্তবয়স্ক হলেও, ঘর ভাড়া নিয়ে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য জায়গা নয় সোনাগাছি অথবা অন্য কোনও যৌনপল্লি৷ এ কথা কলেজের ওই ছাত্র-ছাত্রীকে বোঝানো হয়েছিল৷ পুলিশ হানা দিলে তাঁরা যে সমস্যায় পড়তে পারেন, সেই বিষয়টিও বোঝানো হয়েছিল৷’’

তবে, স্কুল-কলেজের ওই ধরনের পড়ুয়াদের থেকেও দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির কাছে অনেক বেশি চিন্তার কারণ কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক মহিলা এবং তার সঙ্গীর বিষয়টি৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘কলকাতা দেখাবে বলে নাবালিকা একটি মেয়েকে সোনাগাছিতে নিয়ে এসেছিল ওর কাকা৷ বিষয়টি আমাদের নজরে আসতেই আমরা পুলিশের সহায়তা নিয়েছি৷ কারণ, কিছু সময়ের জন্য এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে তার কাকা যৌন সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিল৷’’ একই সঙ্গে ভারতী দে বলেন, ‘‘আত্মীয় অথবা পরিচিত কেউ, এ ভাবে অনেক সময় কোনও নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে অথবা তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এখানে আসে ঘর ভাড়া নিয়ে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটাবে বলে৷ এ সব ক্ষেত্রে আমরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিই৷’’






মন্তব্য চালু নেই