মেইন ম্যেনু

সোহরাওয়ার্দী শুভর ইমামতিতে টাইগারদের ঈদের নামাজ

ঈদের খুশিটাই মাটি হতে বসেছিল সপ্তাহ-দেড়েক আগে। তাসকিনের বলে আঘাত পেয়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে যেদিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন, সেদিন শঙ্কার ঘন মেঘ ঘিরে ধরেছিল সবদিক থেকে। তবে মেঘ কেটে আলোকচ্ছটা ঠিকরে পড়তেও সময় লাগেনি। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন আর কটা দিন লাগবে। অবশেষে সোমবার চিকিৎসকরা চূড়ান্তভাবেই জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দী শুভ এখন পুরো সুস্থ। চাইলে মাঠে নেমে পড়তে পারেন শিগগিরই।

আপাতত মাঠে নামার তাড়া নেই সোহরাওয়ার্দীর। লম্বা ছুটি মিলেছে। ঈদ করতে বাড়ির পথ ধরেছেন মঙ্গলবারই। এসময় দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঈদকে ঘিরে তার মজার সব স্মৃতির কথা।

সোহরাওয়ার্দীর বাড়ি রংপুর শহরের জুম্মাপাড়ায়। সেখানে পরিবারের সঙ্গে মিলে ঈদ করাই দীর্ঘদিনের রীতি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জানালেন, ‘এখন পুরোপুরি সুস্থ। স্বস্তি নিয়েই ঈদ করতে যাচ্ছি। পরিবারের সঙ্গে কয়েকটা দিন আনন্দ করে কাটাবো। আশা করছি সময়টা ভালোই কাটবে।’

ঈদের কেনাকাটা নিয়ে শুভ জানালেন, এবারের পুরো কেনাকাটাই শ্বশুর-পক্ষের। হেসে বললেন, অনেক উপহার এসেছে শ্বশুড়বাড়ি থেকে। তবে নিজেও কিছু কেনাকাটা করেছেন।

কেনাকাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বাদে ঈদে যে জিনিসটি না হলে সোহরাওয়ার্দীর একেবারেই চলে না সেটি মায়ের হাতের রান্না। জানালেন, ‘ঈদের সকালে মায়ের হাতের পায়েস, পরোটা, ফালুদা, সেমাইয়ে কাজ চলে। নামাজের পর থেকে অবশ্য গরুর মাংসের দিকে নজর চলে যায়! মায়ের হাতের পোলাও-মাংস ছাড়া খুব কম ঈদই কেটেছে।’

ঈদে বাড়ি ফিরলে মা এমনিতেই হরেক স্বাদের খাবারে শুভকে মুগ্ধ করে দেন। প্রায় সব খাবার মা নিজ হাতেই রান্না করেন। তবে ক্রিকেটারদের যেমন যাযাবর জীবন, সেখানে দু’একবার মায়ের থেকে দূরেও ঈদ করতে হয়েছে। বাড়ির বাইরে করা এমন একটি ঈদকে ঘিরেই আবার সবচেয়ে মজার ঘটনাটি ঘটেছে সোহরাওয়ার্দীর জীবনে।

শুভ বলেন, একবার ঈদের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ছিলাম। তখন ম্যাচের দিনেই ঈদ পড়ে গেলো। কিন্তু সেন্ট লুসিয়ায় ঈদের নামাজের ব্যবস্থা হবে কিভাবে! তখন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হলো আমাকেই নামাজ পড়াতে হবে। মহা-টেনশনে পড়ে গেলাম। কখনো তো নামাজ পড়াইনি। দ্রুত ঢাকায় আলেম বন্ধু মুফতি ওসামার সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। বন্ধুর কাছে ঈদের নামাজের নিয়মগুলো শিখে নিয়ে সেদিন আমিই নামাজ পড়িয়েছি। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের পরই নামাজটা সেরে নেই আমরা। সেদিন অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতাই হয়ে এসেছিল প্রবাস জীবনের সেই ঈদটি।

ঈদ নিয়ে মজার মজার সব কথা বলার ফাঁকেই এগিয়ে চলে সোহরাওয়ার্দীর গাড়ি। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই মায়ের ছায়াতলে। টাইগারদের এই তারকা ক্রিকেটারের কণ্ঠেও ফুটে ওঠে ঘরে ফেরার সেই পরিচিত আমেজ। তারপর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে আলাপ শেষ করেন শুভ।-পরিবর্তন






মন্তব্য চালু নেই