মেইন ম্যেনু

সোয়াইতপুরের বখাটে আবদুল্লাহ এখন এসআই মাসুদ শিকদার

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতন করে পুলিশ বাহিনীতেই এখন সমালোচিত এসআই মাসুদ শিকদার। পুলিশের এ কর্মকর্তা নিজ গ্রামেও বিতর্কিত নানা কর্মে। ‘পর্যটন লীগ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোক্তা বলেও প্রচার রয়েছে এলাকায়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সোয়াইতপুরে এসআই মাসুদ পরিচিত আবদুল্লাহ নামে। বখাটে ও মাদক ব্যবসায়ীদের ‘বড় ভাই’ হিসেবেই তাঁকে চেনে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশে কনস্টেবল থেকে এসআই হওয়ায় গ্রামের বাড়িতেও তাঁর দাপট বেড়েছে, টিনশেড পৈতৃক বাড়ি রেখে স্থানীয় বাজারে করেছেন প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ি। এলাকাবাসী ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রাম। সেখানকার সিরাজ আলী শিকদারের ছেলে মাসুদ আলী শিকদার। ডাকনাম আবদুল্লাহ। এ নামেই পরিচিত তিনি এলাকায়। ইউনিয়ন পর্যায়ে বখাটে হিসেবে দুর্নাম কুড়ানো আবদুল্লাহ পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি পেলে গ্রামে স্বস্তি নামে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পুরনো বন্ধুদের সহায়তায় গড়ে তোলেন বিশেষ সিন্ডিকেট। গ্রামে গেলেই আড্ডা জমান মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেদের সঙ্গে। আবদুল্লাহকে ঘিরেই মহড়া দেয় এলাকার দুষ্কর্মের হোতারা। মাঝিরঘাট বাজারে মাদক আখড়া পরিচালনায় তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী ও আত্মীয়দের অভিমত, মাসুদ শিকদার ওরফে আবদুল্লাহ এর আগেও অনেক বিতর্কিত কাজ করলেও বড় শাস্তি হয়নি। পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি গ্রামেও তাঁর প্রভাব বেড়েছে দফায় দফায়। তাঁর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তরাও ভয়ে মুখ খুলতে রাজি নন এলাকায়। মাসুদের পরিবারসহ আত্মীয়রা রাজনৈতিকভাবে বিএনপির লোক হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু তারাই আবার গঠন করেছে ‘পর্যটন লীগ’। এনায়েতপুর ইউনিয়নে পর্যটন লীগ নামের সংগঠন বেশ পরিচিত। আর সেটি গঠনে এসআই মাসুদের ভূমিকা আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তিনি যে পরিবারে বিয়ে করেছেন সে পরিবার নিয়েও রয়েছে নানা কথা। পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে যোগদানের সময় মাসুদের গ্রামের বাড়িতে টিনের ঘর থাকলেও এখন সোয়াইতপুর বাজারে উঠেছে পাকা বাড়ি। আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব তাঁর ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করে সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

এনায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মুন্নাফ বলেন, ‘মাসুদ ঢাকায় চাকরি করে বলে জানি, তার ব্যাপারে বেশি কিছু জানা নেই। তবে তার ভাই-ভাতিজা মিলে পর্যটন লীগ নামে সংগঠন করেছে বলে শুনেছি। এ নিয়েও বিস্তারিত জানি না।’

গত শনিবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে আটক করে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ে ব্যাপক নির্যাতন করেন এসআই মাসুদ শিকদার। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হলে পুলিশ বিভাগ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর নির্যাতনের শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

আইজিপিকে গভর্নরের চিঠি : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী পরিচালক গোলাম রাব্বিকে হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হককে চিঠি দিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এ এফ এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এস এম মোকাম্মেল হোসেন ও উপমহাব্যবস্থাপক সাইদা খানম, গভর্নর সচিবালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জি এম আবুল কালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা গতকাল বিকেলে রাব্বিকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। উপমহাব্যবস্থাপক সাইদা খানম বলেন, রাব্বি শারীরিকভাবে যতটা না অসুস্থ তার থেকে বেশি মানসিকভাবে। একই কথা বারবার বলছেন। ঘুমের মধ্যে হঠাত্ হঠাত্ আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠছেন। চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধ দিয়েও ঘুম পাড়ানো যাচ্ছে না তাঁকে।-কালের কণ্ঠ






মন্তব্য চালু নেই