মেইন ম্যেনু

সৌদিতে নিহত আ.রহমানের বাড়িতে শোকের মাতম

ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরে এসেছে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর পাগলা গ্রামের আবদুর রহমান (৪২)। তার লাশ আসার পর পরই নিহতের বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সৌদি আরব থেকে লাশ আসার পর বুধবার সকালে জানাজা শেষে নিহতের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহতের চাচাতো ভাই নুর মোহাম্মদ জানান, গত ২৬ আগস্ট বুধবার সৌদি সময় বিকেল ৩টার দিকে রহমান একটি পিকআপ চালিয়ে হাইল এলাকায় বাসায় আসার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক ধাক্কা দিলে পিকআপভ্যানসহ সেই পাশে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাইল এলাকার মোস্তাফা গেদেন হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস পর কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ থেকে আর্থিক কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

নিহতের স্ত্রী শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত ৮ বছর আগে তার স্বামী সৌদি আরব যায়। পরে ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর দেশে আসে। ৬ মাস ছুটিতে থাকাকালে বাড়িতে একটি পাকা ঘর বিল্ডিং নির্মাণ করে। মাত্র ১টি রুমের কাজ শেষ করে ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল সৌদি আরব চলে যায়।

সর্বশেষ ২৩ আগস্ট রোববার রাতে মোবাইলে কথা হয়। এ সময় আবদুর রহমান তাকে বলেন, ‘ঈদের পর দেশে এসে ঘরের কাজ শেষ করবে। কিন্তু এখন তার মৃত্যু কিছুতেই মেনে পারছি না। ৪ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, স্বামীর দেনা ৪ লাখ টাকা কীভাবে পরিশোধ করবো, সন্তানদের কীভাবে মানুষ করবো?’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন রাজু জানান, সৌদি আরবে রহমান নিহত হওয়ার আড়াই মাস পর লাশ দেশে ফিরে এসে বুধবার সকালে লাশ দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় কান্নার রোল পড়ে গেছে।






মন্তব্য চালু নেই