মেইন ম্যেনু

স্কুল পালানো ২১ বছরের এক কোটিপতির গল্প

ফিরোজ আলম | ধরুন ব্যাচেলর হিসেবে যে বাড়িটিতে আপনি ভাড়া থাকেন সেটির আইন খুব কড়া। জোরে হাসি দেওয়া যাবে না, সিঁড়িতে কাশি দেওয়া যাবে না টাইপের অনেক নিয়মের মধ্যে রাত ১১ টার পর বাসায় ঢোকা যাবে না অন্যতম।

তবুও দারোয়ান মামাকে ম্যানেজ করে নাইট লাইফ ভালোই এনজয় করেন। তো হঠাৎ একদিন রাতে বাড়ি ফিরে দেখলেন সিস্টেমকৃত মামা আজ গেটে নেই। বাড়িতে ঢোকার আর কোনো উপায় না পেয়ে বন্ধুবান্ধবকে ফোন করলেন। কারো বাড়িতেই তেমন সুবিধা করতে পারলেন না। অগত্যা একটি স্থানীয় হোটেলে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। গিয়ে দেখলেন হোটেল মালিক মশা আর ছারপোকার খামার করেছে আর আপনি হয়েছেন তার আদর্শ খাবার। পরদিন আপনি কি করবেন? হোটেল মালিকের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে রাতটাকে একটা দুর্ঘটনা মনে করে ভুলে যাবেন। গড়পড়তা আমরা সবাই আপনার মতই করবো। কিন্তু যাদের ভেতর আছে নতুন কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছা তারা এসব বাজে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে যান সফল কেউ। আমার আপনার মত অনেককেই চাকরি দিয়ে হয়ে যান উদ্যোক্তা। আপনি যদি ভাবেন যারা এই অভিজ্ঞতা থেকে উদ্যোক্তা হয় তারা লেখাপড়ায় খুব ভালো অথবা অনেক বড়লোকের সন্তান। তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। এখানে যে ছেলেটির গল্প হচ্ছে সে স্কুল থেকে ড্রপ-আউট মধ্যবিত্ত এক তরুণ।

বলছি অয়ো রুমস (OYO Rooms) এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রিতেশ আগরওয়ালের কথা। এক রাতে এমন একটি হোটেলে থাকতে বাধ্য হন তিনি। তার ভাষায় ‘স্থানীয় ওই হোটেলে গিয়ে দেখি অভ্যর্থনাকারী ঘুমিয়ে আছে। এরপর রুম বরাদ্দ পেলে গিয়ে দেখি রুমের সকেটগুলো কাজ করছে না। তোষকটাও ছেড়া। বাথরুমের কল থেকে টুপটাপ পানি পড়ছে। আর বিল দিতে গিয়ে দেখলাম ওরা ক্রেডিট কার্ড নিচ্ছে না। আমি ভাবলাম, এগুলোতে যদি আমার সমস্যা হয় তাহলে অন্যদেরও এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ভারতে কেন অল্প খরচে ভালো হোটেল পাওয়া যাবে না?’

রিতেশের যখন এই অভিজ্ঞতা হয় তখন বয়স ছিল মাত্র সতের। এর ঠিক চার বছর পর ২০১২ সালে তার প্রথম স্টার্টআপ ওরাভেল স্টেইস প্রাইভেট লিমিটেড (Oravel Stays Pvt. Ltd.) নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। আর ২০১৩ সালে ভারতের গোরগাঁওয়ে মাত্র একটি হোটেল দিয়ে অয়ো রুমস (OYO Rooms) এর যাত্রা শুরু হয়। ছোট সেই উদ্যোগ মাত্র চার বছরে কোন অবস্থায় পৌঁছেছে তা একটু বলি। বর্তমানে ভারত ও মালয়েশিয়ার ২৫০টির বেশি শহরজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার হোটেলের একটি নেটওয়ার্ক বানিয়েছে অয়ো রুমস (OYO Rooms)। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতেও তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাসিক আয় এখন কোটি কোটি টাকা। যেখানে ভালো একটা কাঁথা না হলে আমাদের লাখ টাকার স্বপ্ন দেখারও অনুমতি নেই সেখানে কোটি কোটি টাকা! কি স্বপ্ন দেখতেও ভয় লাগছে? এই ভয়টাই আমাদের আজন্ম বেকার অথবা চাকরিজীবী বানিয়ে রাখে। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে সাহস পাই না আমরা। আর যারা পারেন তাদের লাগে না বড় বড় কাগুজে ডিগ্রি অথবা ব্যবসা করার জন্য অনেক অনেক মূলধন।

ভাবছেন কাজটা কি করে এই অয়ো রুমস নামের প্রতিষ্ঠানটি? সহজভাবে ভাবলে তেমন কঠিন কিছু না। এরা প্রথমে মোটামুটি ছোট হোটেল বেছে নেয়। এরপর ছোটখাটো প্রয়োজনীয় মেরামতি করে কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করে। আশানুরূপ পরিবর্তন করার পর অয়ো রুমস (OYO ROOMS) নাম ও লোগো ব্যবহার করতে দেয় এবং বদলে অয়ো রুমস ওই হোটেলটির আয়ের একটা অংশ নেয়। মোটামুটি এটাই হল ‘ওয়ো রুমসের’ কাজ ও আয়ের পদ্ধতি।

এই কাজটি সহজ করতে মি. আগরওয়াল একটি অ্যাপও তৈরি করেছেন যেটি ব্যবহার করে অতিথিরা হোটেলের কামরা বরাদ্দ নিতে পারবেন। পাবেন হোটেলে যাবার পথে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। সেই সাথে হোটেলে থাকার সময় রুম সার্ভিসের মতো সেবাগুলোও এই অ্যাপের মাধ্যমেই পেতে পারেন।






মন্তব্য চালু নেই