মেইন ম্যেনু

স্ট্রোকসহ নানান রোগের ঝুঁকি কমায় বিড়াল

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পোষা প্রাণী মনে হয় বিড়াল। সুন্দর টলটলে মন ভোলানো চোখের আরামপ্রিয় এই প্রাণী সহজেই জায়গা করে নেয় আমাদের ঘরে। হয়ে ওঠে পরিবারেরই অপরিহার্য সদস্য। এমন অনেক পরিবার আছে যারা নিজেদের সন্তানের সংখ্যা বলেন বিড়াল সহ, মানে বিড়ালকেও তারা তাদের সন্তান হিসেবে গণ্য করেন। এর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন, আয়োজন করেন আলাদা ঘরের, বিছানার। কিন্তু আমরাই কি শুধু বিড়ালের জন্য এত কিছু করি? বিড়াল কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারি। তারা মনের শান্তি বজায় রাখে, আপনাকে আত্মতৃপ্ত রাখে যা আপনার অনেক চিকিৎসা খরচ বাঁচিয়ে দেয়! আসুন জেনে নিই বিড়ালের আরও নানান স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা।

অটিজম
গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়াল অটিস্টিক শিশুদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি শুধু তার ভাল বন্ধু নয়, হতে পারে অসুস্থতার সময়ে মুড ভাল রাখার উপাদান। ওষুধের চেয়েও কি এটি কার্যকরি নয়? কারণ প্রাকৃতিক ভাবেই আপনার শিশু সন্তুষ্ট থাকছে, তার সর্বোক্ষণের একটি সঙ্গী পাচ্ছে। আর বিড়াল যেহেতু হিংস্র প্রাণী নয়, বরং তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক কিছু শেখানো যায় তাই একটি বিড়ালের সংগ আপনার শিশুর জন্য হতে পারে আশির্বাদ।

মন ভাল করে
বিড়াল এত সুন্দর আর আদুরে একটি প্রাণী যে একে দেখলে মন ভাল হয়ে যায় অচীরেই। যখনই আপনার মন খারাপ বা সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরেছেন, আপনার ক্লান্তি এক ঝলকে দূর করে দেবে মায়াবী চোখের বিড়ালটি। বিড়ালের সাথে ভাল থাকার এই অনুভূতির কারণ শরীরে সেরটনিনের নিঃসরণ। এটি একটি ভাল রাসায়নিক যা শরীরকে তরতাজা করে এবং মন ভাল রাখে।

স্ট্রেস মোকাবেলা করে
বিড়ালের অনেক উপকারিতার মাঝে এটি একটি যে, বিড়াল শরীরের করটিসল লেভেল ঠিক রাখে। এই রাসায়নিক স্ট্রেসের সময় নিঃসৃত হয়। যখন এর লেভেল নামতে থাকে তখন নিশ্চিতরূপেই আপনি শান্তি বোধ করতে থাকেন। এর কারণে শরীর নানান সমস্যায় পরে। যেমন, হৃদরোগ, মাথা ব্যাথা, বিষন্নতা, এমনকি অকাল মৃত্যু। স্ট্রেস থেকে দূরে থাকে সুস্থ্য জীবনের জন্য অপরিহার্য।

থেরাপীর কাজ করে
বিড়াল কাছে থাকলে আমাদের শরীর অক্সিটোসিন নিঃসরণ ঘটায়। এটি এক প্রকারের হরমোন যা ভালবাসা এবং বিশ্বাসজণিত আবেগের জন্য দায়ী। যখন আপনি হতাশ এবং অসহায় বোধ করছেন, বিড়ালের সাথে সময় কাটানো বা কথা বলা আপনাকে ভাল থাকতে সাহায্য করবে। কারণ আপনি এখানে সম্পূর্ণ নিজের মত নিজের অনিভূতি প্রকাশ করছেন। কেউ আপনাকে বিচার করতে আসবে না। হীনমন্যতায় ভুগতে থাকা একজন মানুষের এই তো চাই।

কলেস্টরল কমায়
কলেস্টরল যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা আমরা সবাই জানি। স্ট্রোক, হার্ট এটাক সহ অনেক সমস্যার মূলে থাকে শরীরের অধিক কলেস্টরলের মাত্রা। আপনার শারীরিক গঠন একটু মোটা ধাচের হলেই এপনি আছেন এই স্বাস্থ্যঝুকিতে। তবে আশার কথা হল, গবেষণা বলছে, একটি বিড়াল পোষা আপনার কলেস্টরলের মাত্রা কমাতে অভূতপূর্ব সহায়তা করে।

রক্ত চাপ কমায়
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিড়াল পোষেন তারা বিড়াল না পোষা মানুষের চেয়ে অনেক কম উচ্চ রক্তচাপ জণিত সমস্যায় ভোগেন। আপনি যদি খুব স্বাস্থ্যবান হয়ে থাকেন,উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা থাকে তাহলে বিড়াল হবে আপনার জন্য আশির্বাদস্বরূপ। পরিবারে নতুন অতিথি হিসেবে একটা বিড়াল এনেই দেখুন। নানান রকম মন ভাল করা কাজে মাতিয়ে রাখবে সে আপনাকে। স্ট্রেসই থাকবে না, তো কিসের উচ্চ রক্তচাপ? এমনকি বিড়াক সংগ মেডিটেশনের চেয়ে ভাল।

হৃৎপিন্ডের যত্নে
যদি আপনার একটি পোষা বিড়াল থাকে তাহলে অন্যদের তুলনায় আপনার স্ট্রোক করার ঝুকি কম। আপনি বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু সত্য যে, এই স্বাস্থ্যঝুকি অন্তত ৩০% কমে যায়। কারণ, বিড়াল তার স্বভাবসুলভ বাৎসল্যে আপনার স্ট্রেস কমায় এবং আপনার নার্ভকে রিল্যাক্স করে। হার্টের সমস্যার জন্য উদ্বেগ অনেক বড় এবং সাধারণ একটি কারণ। সারা বিশ্বে অসংখ্য মানুষ প্রতি বছর হৃদরোগে মারা যায়। এই বিশাল ঝুকি আপনি এড়াতে পারেন মিষ্টি একটি বিড়াল পুষে।






মন্তব্য চালু নেই