মেইন ম্যেনু

স্তন ক্যানসার নিয়ে ঠাট্টার প্রতিবাদে যা করলেন এই পাকিস্তানি তরুণী…

ইসলামাবাদের এক কলেজ পড়ুয়া ফামা হাসান। কলেজ শেষে সেদিনও বাড়ি ফিরছিলেন রোজের মতোই। হঠাৎই তাঁর কানে আসে একদল ছেলের গলা, যাঁরা কোনও একটি বিষয় নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছেন। বিষয়টি বোধগম্য হতেও খুব বেশি দেরি হয় না ফামার। স্তন ক্যানসার। সেদিন তাঁদের কলেজে স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি প্রচার চালানো হয়েছিল। কলেজের পরে জনা তিন-চার যুবক সেইটা নিয়েই মজা করছিলেন।

ঘটনায় অসম্ভব অবাক ও মর্মাহত হন ফামা। বাড়ি ফিরে তাঁর সমস্ত ক্ষোভ উগরে দেন স্যোশাল মিডিয়ায়, যা আজকের প্রতিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর পোস্ট।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, প্রথমে একটি ছেলে আর একজনকে জিজ্ঞেস করে, ‘কী নিয়ে ওরা কথা বলছিল জানিস?’ জবাবে অন্যজন উত্তর দেয় ‘স্তন ক্যানসার নিয়ে।’ ‘স্তন’ শব্দটির উল্লেখ হওয়ামাত্র একে অন্যকে ইঙ্গিত করে হাসতে থাকে। খানিক বাদে তাঁরা হাসিতে ফেটে পড়়ে।

ফামার বর্ণনায়, ‘ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাস্তা আমি কুঁকড়ে গিয়েছিলাম এক হীন মানসিকতার সাক্ষী থাকার ফলে। এখন এটা লেখার সময়ও কুঁকড়ে রয়েছি। এমন একটা সমাজে আমরা বাস করছি, যেখানে মানবদেহের মৌলিক অঙ্গগুলিকে এমন মাত্রায় যৌনায়িত করা হয় যে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যানসারও ঠাট্টা তামাশার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।’

ফামা আরও লিখেছেন, পাকিস্তানে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মহিলার মৃত্যু হয় স্তন ক্যানসারে। এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সে দেশেই স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তাঁর আক্ষেপ , এই বিষয়টি নিয়ে মজা-করা ছেলেগুলি সম্ভবত এই তথ্য সম্বন্ধে অবগত নয়।

‘ওরা জানতেই পারে না, ঠিক এ হেন সামাজিক পরিস্থিতির কারণেই মহিলারা সহজে চিকিৎসকদের কাছে যেতে চান না। এমনকী, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও খোলাখুলিভাবে কথা বলতে চান না। এই নিয়ে এবার মানসিকতা বদলানোর সময় এসেছে, এমনটাই আর্জি এই তরুণীর।






মন্তব্য চালু নেই