মেইন ম্যেনু

‘স্ত্রী স্বামীর কথা না শুনলে তাকে অল্প-স্বল্প পেটানো যাবে’

পাকিস্তান ইসলামি আদর্শ পরিষদ (সিআইআই) প্রস্তাবিত নারী সুরক্ষা বিলে বলেছে, প্রয়োজনে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের অল্প-স্বল্প পিটুনিতে দিতে পারবে। তারা আরো বলেছে, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও অফিসে নারী-পুরুষ আলাদা থাকতে হবে।

কাউন্সিল অব ইসলামি আইডোলজি (সিআইআই) অর্থাৎ পাকিস্তান ইসলামি আদর্শ পরিষদ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ইসলামি আইন-কানুনের বিষয়ে সরকার ও পার্লামেন্টকে পরামর্শ দেওয়া এ প্রতিষ্ঠানের কাজ। ১৯৬২ সালে স্বৈরশাসক আয়ুব খানের আমলে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়।

সিআইআই তাদের প্রস্তাবিত বিলে বলেছে, শরিয়্যাহর অধীনে নারীদের সব অধিকার দিতে হবে। তবে বিনোদনমূলক স্থানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকতে পারবে না। শিল্পের নামে ‘নৃত্য, সংগীত এবং ভাস্কর্য’ এ বিলে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বছরের শুরুতে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার একটি নারী সুরক্ষা বিল পাস করে। সিআইআই এবং ইসলামপন্থি দলগুলো এ বিলকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অইসলামি’ বলে উল্লেখ করে।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার নারী সুরক্ষাসম্পর্কিত একটি বিল পর্যালোচনার জন্য সিআইআইয়ের কাছে পাঠায়। কিন্তু এ বিলকেও তারা অইসলামি উল্লেখ করে এবং তারা একটি বিল প্রস্তাব করার কথা বলে।

সিআইআইয়ের প্রস্তাবিত বিলে ১৬৩ দফা যুক্ত হয়েছে। বিলটি প্রাদেশিক সরকারগুলোর কাছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিলে সিআইআইয়ের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ খান শেরানির স্বাক্ষর রয়েছে।

কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও মানবাধিকারকর্মী ফারজানা বারি বলেছেন, সিআইআইয়ের প্রস্তাবিত বিল অসাংবিধানিক। যেকোনো উপায়েই হোক, স্ত্রীদের পেটানের অনুমতি দেওয়া পাকিস্তানের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক যেসব চুক্তিতে পাকিস্তান স্বাক্ষর করেছে, তার পরিপন্থি। এই পরিষদ (সিআইআই) পাকিস্তানের করদাতাদের ওপর একটি বোঝা এবং বিশ্বের মুসলিমদের জন্য বদনাম বয়ে আনছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের বাইরে কাজ করতে না দিয়ে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, নারীদের শিশুর মতো অথবা সম্পত্তির মতো বিবেচনা করা। এতে করে পাকিস্তান আবারো অজ্ঞতার মধ্যে চলে যাবে।

তবে বেশ কিছু দফায় নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ‘অনার কিলিং’ নিষিদ্ধ করা। অনার কিলিং অর্থাৎ পরিবারের অনুমতি ছাড়া কাউকে বিয়ে করলে কিছু কিছু পারিবার তাদের ছেলেমেয়েকে হত্যা। এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও সাংবিধানিকভাবে অনার কিলিং নিষিদ্ধ।

তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে, স্ত্রীদের পেটানোর অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করার বিষয়টি।






মন্তব্য চালু নেই