মেইন ম্যেনু

স্পাইনাল স্টেনোসিসের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

মেরুদন্ডের হাড় যখন সরু হয়ে যায় তখন স্নায়ুরজ্জু ও স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে, একেই স্পাইনাল স্টেনোসিস বলে। প্রায় ৭৫ শতাংশ স্পাইনাল স্টেনোসিসই পিঠের নীচের অংশে লাম্বার স্পাইনে হয়ে থাকে। স্পাইনাল স্টেনোসিস হলে স্নায়ুমূলে চাপ সৃষ্টি হয় বলে পায়ের পেছনের অংশেও ব্যথা হতে পারে। কেন হয় স্পাইনাল স্টেনোসিস সে সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

১। বয়স

বয়সের সাথে সাথে শরীরের লিগামেন্টগুলো মোটা হতে থাকে। মেরুদন্ডের হাড়গুলোর মাঝখানে যে সংযোজক কলা থাকে তাকে লিগামেন্ট বলে। মেরুদন্ডের হাড়গুলোর মধ্যে বা নালীর মধ্যে স্পার গঠিত হলে কশেরুকাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে যে ডিস্ক থাকে তাকে তা ক্ষয় হতে শুরু করে। এজন্যই মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া সরু হয়ে যায়।

২। আরথ্রাইটিস

অষ্টিওআরথ্রাইটিস ও রিওমাটয়েড আরথ্রাইটিস হলে মেরুদন্ডের উপর প্রভাব পড়ে।

৩। বংশানুক্রম

যদি জন্মের সময়ই স্পাইনাল ক্যানেল অনেক ছোট থাকে তাহলে তরুণ অবস্থাতেই স্পাইনাল স্টেনোসিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কশেরুকার গঠনগত বিকৃতির কারণেও মেরুদন্ডের নালী সরু হতে পারে।

৪। মেরুদন্ডের অস্থায়িত্ব বা স্পন্ডাইলোলিস্থেসিস

যখন মেরুদন্ডের একটি কশেরুকা অন্যটির থেকে আগে চলে যায় তখন স্পাইনাল ক্যানেল সরু হয়ে যায়।

৫। টিউমার হলে

নরম টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে স্পাইনাল ক্যানেলে প্রদাহ হয়। টিস্যুর বৃদ্ধির ফলে হাড়ের ক্ষয় হয় বা হাড়ের স্থানচ্যুতি ঘটে।

৬। ট্রমা

দুর্ঘটনা বা আঘাতের ফলে মেরুদন্ডের হাড় স্থানচ্যুত হতে পারে।

স্পাইনাল স্টেনোসিসের লক্ষণ :

স্পাইনাল স্টেনোসিসের ফলে পিঠের নীচের অংশে এবং পায়ে ব্যথা হয়। স্টেনোসিসের ফলে যে নার্ভ পেশীর শক্তি ও পায়ের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই নার্ভের উপর চাপ পড়ে। এছাড়াও আরো যে লক্ষণঙ্গুলো দেখা যায়

– ঘন ঘন পড়ে যাওয়া ও জড়তা

– হাঁটার সময় ব্যথা হয়

– পায়ে গরম বা ঠান্ডা অনুভব করা, অসাড়তা এবং পায়ে ঘাই দেয়ার মত অনুভূতি হওয়া

স্পাইনাল স্টেনোসিসের নির্ণয় :

স্পাইনাল স্টেনোসিসের নির্ণয় করা একটু কঠিন কারণ এর লক্ষণগুলো অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। সাধারণত যাদের স্টেনোসিসের সমস্যা আছে তাদের পিঠে ব্যথা বা সাম্প্রতিক কোন আঘাতের ইতিহাস থাকেনা। পায়ের অস্বাভাবিক লক্ষণগুলোই স্পাইনাল স্টেনোসিসের বিদ্যমানতার সূত্র।

যদি সাধারণ চিকিৎসা যেমন বসার- ভঙ্গির পরিবর্তন অথবা নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ ব্যবহার করার পরেও সমস্যা না যায় তাহলে MRI ও CT Scan করাতে হবে। এছাড়া মায়েলোগ্রাম ও করা যেতে পারে।

স্পাইনাল স্টেনোসিসের চিকিৎসা :

বিভিন্ন উপায়ে স্পাইনাল স্টেনোসিসের চিকিৎসা করা হয় যেমন-

ভঙ্গিরপরিবর্তন – স্পাইনাল স্টেনোসিসের রোগীদের হাঁটার সময় দেহকে বাঁকা করলে বা নোয়ালে উপশম লাভ করা যায়। এছাড়াও শোয়া অবস্থায় হাঁটু দুটিকে ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসলেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এই ভঙ্গিটি করলে নার্ভের স্থান সংকুলান বৃদ্ধি পায় এবং স্টেনোসিসের রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটাকে সহজ করে।

ঔষধ – কিছু ক্ষেত্রে প্রদাহজনক ফোলার কারণে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে। নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ যেমন- এস্পিরিন বা ইবোপ্রুফিন উপসর্গ কমতে সাহায্য করে।

বিশ্রাম – বিশ্রাম নিলে এবং আস্তে আস্তে সক্রিয়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করার যেমন- সাইকেল চালালোর পরামর্শ দেয়া হয়।

সার্জারি – যদি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা না যায় তাহলে আক্রান্ত স্নায়ুর চাপ কমাতে সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই