মেইন ম্যেনু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে তনু হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি সুপারিশ করে তাহলে তনু হত্যায় দায়েরকৃত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তিন দিনব্যাপী জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং কোর্সের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, ‘এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এটা জনগণের মনকে যথেষ্ট বিচলিত করেছে। জনগণ এটার একটা সুষ্ঠু বিচার চান। এসব প্রেক্ষিত বিচার করে যদি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কোনোভাবে পাঠানো যায়, তবে নিশ্চয়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা বিবেচনা করবে।’

এ ঘটনার ময়নাতদন্তের দুটি প্রতিবেদন ভিন্ন হওয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এ সম্পর্কে মন্তব্য করাটা ঠিক নয়। তবে এতটুকু বলব ময়নাতদন্তের রিপোর্টগুলো তদন্তের অংশ। এগুলি যখন পুলিশ আদালতে তার প্রতিবেদন সাবমিট করবে, তখন এই দুটো প্রতিবেদন সম্পর্কে পুলিশের একটা মন্তব্য থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন আদালতে যদি কোনো অ্যাপ্লিকেশন করা হয়, তাহলে এটা সম্পূর্ণ আদালতের ক্ষমতা, তারা কী নির্দেশনা দেবেন।’

গত ২০ মার্চ কুমিল্লার সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় কালভার্টের পাশে ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। হত্যার পর দুই মাস হতে চললেও এ পর্যন্ত জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, তনুকে ধর্ষণ শেষে খুন করার প্রমাণ মিলেছে। খুনের আগে তাকে তিন পুরুষ ধর্ষণ করেছে, ডিএনএ পরীক্ষায় এমনটাই আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান জানান, তনুর পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর আলামত মিলেছে। সোমবার রাতে মুঠোফোনে বাংলামেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ড. নাজমুল করিম খান বলেন, ‘তনু ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, আমরা ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়টি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি।’

সিআইডি সূত্র জানায়, তনুর মৃতদেহে মোট চার জনের ডিএনএ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি তনুর নিজের রক্তের, অন্য তিনটি তিন পুরুষের। সংস্থাটির ঢাকার পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে এই আলামত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার তনু হত্যা মামলার বিষয়ে সিআইডি কুমিল্লা বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, ‘আসামি শনাক্ত করতে আমরা মোটামুটি কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের এসএমএস, বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে আমরা ওই কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত হতে আমরা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। ফ্লুইড-এর নমুনা হিসেবে আমাদের পরীক্ষাগারে পাঠানোর জন্য তাদের কাছে লিখিত চেয়েছিলাম। তারা আমাদের জানান, পরীক্ষায় তারা আলামত পাননি। তাই নমুনা সংরক্ষণ করা হয়নি। এতে আমরা তনুর মরদেহে থাকা পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠাই।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার কাছে তনুর লাশ পাওয়া যায়। প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি এবং হত্যার কারণ খুঁজে পাওয়া পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের পর ৩০ মার্চ দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়।

থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সিআইডি কয়েক দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।






মন্তব্য চালু নেই