মেইন ম্যেনু

স্বাভাবিক হয়নি রাজশাহী নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ : চরম দুর্ভোগে মানুষ

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : এখনো স্বাভাবিক হয়নি রাজশাহী মহানগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। কাটাখালী গ্রিডের ডিপ ইনস্যুলেটর ও পোর্টেনশিয়াল ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণে চরম বিদ্যুত বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে নগরবাসীর মাঝে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে।

পুরো নগরীর বিভিন্ন এলাকাবাসী ২৪ ঘন্টা পরে বিদ্যুতের দেখা পেলেও প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পরে শুক্রবার সকালে বিদ্যুতের দেখা পান সাহেব বাজারসহ মূল শহরের বাসীন্দারা। তবে ঘন্টা খানেক পরে আবার হাওয়া হয়ে যায় বিদ্যুৎ। এতে সাহেবাবাজার, হেতেম খাঁ, ষষ্ঠিতলা, নিউমার্কেট, রানীবাজার, গণকাপাড়াসহ মূল শহরের হাজার হাজার বাসীন্দা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিরা গরমের মধ্যেই মসজিদে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেন। মসজিদে আগত মুসল্লিদের একটু স্বস্তি দিতে জেনারেটর চালাতেও দেখা যায়।

নগরীর কাদিরগঞ্জের আজগর আলী বলেন, কোনো ঝড়-ঝাপটা ছাড়ায় এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা থেকে দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে বিদ্যুৎহীন অবস্থায়। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম এর ওপর নাই বিদ্যুতের দেখা। কী যে অসহনীয় হয়ে পড়েছে জীবন-তা বলার যেন ভাষা নাই।

নগরীর নিউমার্কেট মসজিদের মুসল্লি আকরাম হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফলতির কারণেই এমন বিপর্য পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। না হলে রমজান মাসে এসে এমন কষ্টে পড়তে হবে কেন? এখানে নিশ্চয় কোনো দক্ষ লোক নাই। থাকলে এমন কষ্টে পড়তে হত না নগরবাসীকে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার।

এর আগে বুধবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিট থেকে গোটা রাত অন্ধকারে ঢেকে ছিলো পুরো মহানগরী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্তও বিদ্যুৎ ছিল না অধিকাংশ এলাকায়। এতে চরম ভোগান্তি নামে গোটা নগরবাসীর মাঝে।

রমজান মাসে স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গোটা রাজশাহীর মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বুধবার এবং গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারে আযানও শোনা যায়নি বেশিরভাগ এলাকায়। সাহরীতেও একই অবস্থা গেছে। এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহীর সব ধরণের কল-কারখানা বন্ধ ছিল।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ঈদের বাজারে কেনাকাটাও লাটে উঠেছে। রাজশাহী থেকে কেবলমাত্র দুইটি সংবাদপত্র বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। বেশিরভাগ পত্রিকাই আজ প্রকাশ হয়নি। তবে সন্ধ্যার পরে নগরীর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে। এসময় থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের আলো জ্বলতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার ইফতারের আগ মুহূর্তে রাজশাহীর কাটাখালি গ্রিডে ডিপ ইনস্যুলেটর ও পোর্টেনশিয়াল ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ ঘটে। এর পর পরই বিদ্যুৎ বিপর্য নেমে আসে রাজশাহীতে।

রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী বলেন, বুধবার ইফতারের আগে কাটাখালি গ্রিডের পাশে বজ্রপাত হয়। এতে ডিপ ইনস্যুলেটর ও পোর্টেনশিয়াল ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরিত হয়ে পুড়ে যায়। মূল ওই ট্রান্সফরমারটি দিয়েই গোটা রাজশাহীর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সেটি পুড়ে যাওয়ায় গোটা রাজশাহীর বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

এখনও কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হচ্ছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

অপরদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক সূত্র জানায় অদক্ষ জনবলের কারণে একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হলেও সেটি সচল করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্দে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।






মন্তব্য চালু নেই