মেইন ম্যেনু

স্বামীকে ঔষুধ খাওয়াতে পারলেন না আয়শা

স্বামীকে পেইনকিলার (ব্যথার বড়ি) খাওয়াতে পারলেন না আলজেরিয়ান হাজী আয়শা লিয়াদাহ। স্বামীর প্রতি আনগত্যের কারণে মিনার পদদলন থেকে নিজে বেঁচে গেলেও বাঁচাতে পারেননি প্রিয় স্বামীকে। এখন স্বামীকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় তিনি ও তার পরিবার।

দুই চোখে অঝোর অশ্রু ঝরছে ৬২ বছর বয়সী আয়শার। আল-হায়াত পত্রিকাকে বলেছেন তার ট্র্যাজেডির কথা। ৭৩ বছর বয়সী স্বামী মোহাম্মাদ রাজিসহ এবার পবিত্র হজ পালন করতে যান তিনি।

আয়শা বলেন, যখন তারা মুজদালিফায় তখন তার স্বামীর ব্যাপক পেট ব্যাথা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় যখন তারা মিনায় উপস্থিত হন এবং শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে অগ্রসর হন তখন রাজির (স্বামী) ব্যথা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে।

আয়শা তার স্বামীকে বলেন, সে যেন ওই স্থানেই থাকেন। তিনি (আয়শা) ক্যাম্পে গিয়ে পেইনকিলার নিয়ে ফিরবেন। আয়শা বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে যেতে দিতে চাননি। তিনি পাথর নিক্ষেপ শেষ করেই ক্যাম্পে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি ছিলাম নাছোড়বান্দা।’

Stampede2

আয়শা লিয়াদাহ ক্যাম্পে ফিরে ওষুধ নিয়ে যতক্ষণে ফেরেন ততক্ষণে ভীড়ের মধ্যে চলে গেছে তিন ঘণ্টা। সেইসঙ্গে ঘটে গেছে এক মহাবিপর্যয়। সেটা তিনি জানতেও পারেননি। আয়শা বলেন, ‘আমি যখন সেই রাস্তায়, যেখানে স্বামীকে রেখে গিয়েছিলাম, পৌঁছি তখন নিরাপত্তাবাহিনীর অনেক সদস্য এবং বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স দেখে বিস্মিত হই। কিছু হাজি আমাকে মর্মান্তিক সেই ঘটনার (পদদলন) কথা বলেন।’

আয়শা আরও বলেন, ‘আমার ১০ সন্তান। তারা বারবার ফোন করে পিতাকে অভিনন্দন (হজ পালন করায়) জানাতে চেয়েছে। কিন্তু আমি বারবারই বলেছি, তিনি ঘুমাচ্ছেন।’ ‘ঘটনার (বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর) দিন রাত যখন ১০টা তখন আমার বড় ছেলে বেলকাসিম (৩৫) আমাকে ফোন করে বলে, সে পদদলিতের খবর শুনেছে। তখন আমি আর স্বামীর মৃত্যুর কথা চেপে রাখতে পারিনি।’ বলেন ওই স্বামী ভক্ত নারী।

‘আমি ঈমানদার ও ধৈর্য্শীল। ফলে বিষয়টি আমি মেনে নিয়েছি। এখন আমরা সবাই দাফনের আগে শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।’ বলেন আয়শা লিয়াদাহ।






মন্তব্য চালু নেই