মেইন ম্যেনু

স্বামীকে প্রায়ই পেটান হিলারি!

যার নামটি শুনলেই একটি লাস্যময়ী চেহারা সামনে ভাসে সেই হিলারি ক্লিন্টনের একটি বিষয় হয়তো আপনার অজানাই। তার লাস্যময়ী চেহারার পেছনে আছে আরেকটি চেহারা। বেশ বদমেজাজি তিনি, রেগে গেলে নাকি তার মাথা ঠিক থাকে না। হোয়াইট হাউসের কর্মী থেকে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা এমনকি খোদ তার স্বামী আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনই তার মেজাজকে সমীহ করে চলেন।

বাইরে থেকে তার বন্ধু স্বভাবপন্ন ব্যক্তিত্ব তা প্রকাশ না ঘটলেও চার দেয়ালের ভেতরে ঢুকলেই নাকি এমনটাই ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য ক্লিন্টনস ওয়ার অন ওমেন’ বইয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারির এই ‘গুণ’ সম্পর্কে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। বইয়ে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে হিলারির এই ‘হিংস্রতার’ শিকার হতে হয়েছে বেশ কয়েকবার।

বইটিতে এমনটা লিখেছেন লেখক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রজার স্টোন। তার কথায়, ‘হিলারি ক্লিন্টনের হাতে বিল ক্লিন্টনের পিটুনি খাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। নানা সময়ে হিলারি বিলকে শক্ত জিনিস ছুঁড়ে আহত করেছেন, আঁচড়ে-কামড়ে রক্তাক্ত করার ঘটনাও প্রচুর ঘটেছে।’

রজার স্টোন আমেরিকার রাজনীতিতে বেশ পরিচিত একটি নাম। তাকে ঘিরেও আছে নানান বিতর্ক। তিনি সম্প্রতি আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দলছাড়া হয়েছেন। রাজনীতি নিয়ে বেশ অভিজ্ঞ এই স্টোনের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্কটাও দীর্ঘ দিনের। বাংলাদেশের নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বন্ধু এই দম্পতির সঙ্গে স্টোনেরও ঘনিষ্টতা ছিল বেশ। আর সেই সুবাদেই তার লেখা বইয়ে ক্লিন্টন দম্পতির বেশ কিছু অজানা তথ্য উঠে এসেছে। আর এসব ঘটনা শুধু বহির্বিশ্বের কাছেই বিস্ময়কর লাগেনি, শোর ফেলেছে খোদ আমেরিকাতেই!

স্টোন লিখেছেন, ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে মৃত্যুশয্যার পাশে উপস্থিত থাকতে লিটল রক, আর্ক-এ উড়ে যেতে হয় হিলারিকে। ঠিক সেই সময় হোয়াইট হাউসে অতিথি হয়ে আসেন বিখ্যাত আমেরিকান গায়িকা-নায়িকা বারবারা স্ট্রেইস্যান্ড, যিনি আবার বিল ক্লিন্টনের একনিষ্ঠ ভক্ত। রাতে প্রেসিডেন্টের আতিথ্য গ্রহণ করে হোয়াইট হাউসে থেকে যান তিনি। এই খবর শুনে রাগে ক্ষোভে পরদিনই ফিরে আসেন হিলারি। এর ফলাফল বিল ক্লিন্টনের গলায় দীর্ঘ আঁচড়ের দাগ নিরাপত্তাকর্মী ও মিডিয়ার ক্যামেরার নজর এড়ায়নি। ব্যাপার ধামাচাপা দিতে সে সময় বিল ক্লিন্টনের প্রেস অফিসার ডিডি মায়ার্স বিবৃতি দিয়েছিলেন, ‘দাড়ি কামাতে গিয়ে গলায় আঁচড় লেগেছে প্রেসিডেন্টের।’ সেই ডিডি মায়ার্সই ১৯৯৯ সালে তা স্বীকার করেন এক লেখকের কাছে।

আরকানসাস-এর গভর্নর থাকাকালীন ক্লিন্টনদের ঘরোয়া মারপিট চরম আকার নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আর এক মার্কিন লেখক ক্রিস অ্যান্ডারসন। তার মতে, একবার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে স্বামীকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের তাকে খুঁজতে পাঠান। বিল ফিরে এলে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে কাচ ভাঙার শব্দ এবং হিলারির চিত্‍কার করে গালাগালির শব্দ। সকালে পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে ভাঙা কাপ-ডিশের সঙ্গে পান কাবার্ডের পাল্লাও।

এছাড়াও নানা সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়িতেও ক্লিন্টন দম্পতির ঝগড়া আর লড়াই চলতো বলেও জানিয়েছেন স্টোন। গাড়িতে হাতের সামনে যা পেতেন তা-ই স্বামীর দিকে ছুড়ে মারতেন হিলারি। হোয়াইট হাউসের তত্‍কালীন এক গাড়িচালক জানিয়েছেন, পরস্পরের উদ্দেশে জঘন্যতম ভাষায় অভিযোগ ছুড়ে দিতেন ক্লিন্টন দম্পতি।

তবে অনুষ্ঠানে তারা যোগ দিতেন বেশ স্বাভাবিকভাবেই, আর এ ক্ষমতারও বেশ প্রশংসা করেন। তাদের এই বিরল ক্ষমতায় এমন ‘যুদ্ধগুলো’ টেরই পেতেন না ‘গোয়েন্দা’ মিডিয়াগুলোও!






মন্তব্য চালু নেই