মেইন ম্যেনু

স্বামীর কাটা মুণ্ডু ২৯ বছর সোনার থালায়!

হিস্ট্রি অব ওয়ার্ল্ড বইয়ের লেখক স্যার ওয়ালটার র‌্যালে। ইতিহাসের পাঠক মাত্রই বইটির নাম জানেন। ১৫৫২ খ্রিস্টাব্দে এই মহান লেখকের আবির্ভাব। তবে তিনি শুধু নামকরা সাহিত্যিক ছিলেন তা নয়। তিনি সেই সময়ের ব্রিটিশ রাজকীয় বাহিনীর একজন জাদরেল জেনারেল, বীরযোদ্ধা ও অভিযাত্রী ছিলেন।

তার স্ত্রী এলিজাবেথ থ্রগমর্টন। রূপবতী এই নারীর স্বামী র‌্যালের প্রতি ছিলেন আজীবন বিশ্বস্ত। স্বামীকে ভালোবাসার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কোনরকম কমতি ছিল না তার। স্বামীভক্ত এই নারীর কথা আজো রূপকথার মতো ছড়িয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডের অলিগলিতে। রাজা জেমসের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় বাহিনীর জেনারেল ছিলেন স্যার ওয়াল্টার র‌্যালে। তবে র‌্যালের এই শৌর্য বীর্য খুব একটা ভালো চোখে দেখতেন না রাজা। সত্যিকথা বলতে তিনি জেনারেলকে ঈর্ষা করতেন। জগতজোড়া তার এই খ্যাতির কথা শুনলে রাজার গা জ্বালা করতো। যা কিনা তিনি রাজা হিসেবে পাননি। তিনি র‌্যালেকে ফাঁসানোর বিভিন্ন কৌশল করতে নেমে পড়লেন। কোন কারণ ছাড়া তাকে সরাসরি পদচ্যুত করা যাবে না। এটা রাজা ভালোমতনই বুঝতে পেরেছিলেন। অবশেষে একটি উপায় বের করলেন রাজা জেমস। ইংরেজদের সঙ্গে তখন স্পেন সম্রাটের সম্পর্ক তেমন ভাল যাচ্ছিল না। সুযোগ সন্ধানী জেমস তখন র‌্যালেকে শায়েস্তা করার মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে গেলেন। ষড়যন্ত্রের জাল চারিদিকে রাখলেন বিছিয়ে। এরপর অভিযোগ আনলেন জেমসের বিরুদ্ধে।

তিনি বললেন, জেমস স্পেনের গুপ্তচর। টাকা খেয়ে তিনি নাকি দেশের সব গোপন তথ্য ফাঁস করছেন স্পেন সেনাপতির কাছে। সেকালে দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতকের শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডই তার প্রাপ্য। তবে কারো বুঝতে বাকি ছিল না, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিন্তু কারো কিছু করার ছিল না। কারণ স্বয়ং রাজা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন। দেশদ্রোহীর দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা ও বিচারকার্য চালানো হল। বিচারের রায় সবারই জানা ছিল। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল জেনারেল স্যার ওয়াল্টার র‌্যালেকে। গিলোটিনে হত্যা করে তার বিচারকার্য সম্পন্ন হল।

মূলত এখান থেকে করুণ কাহিনির শুরু। র‌্যালের স্ত্রী এলিজাবেথ থ্রগমর্টন স্বামীর মৃত লাশ চেয়ে আদালতে সমন জারি করলেন। স্বামীর এভাবে মৃত্যুকে কিছুতেই তিনি মানতে পারছিলেন না। আদালত তার আকাক্সক্ষা পূরণ করলেন। তিনি তার স্বামীর লাশ ফেরত পেলেন। সারাজীবন স্বামীর মুখ দর্শন করার জন্য এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসলেন থ্রগমর্টন। তিনি একটি সোনার থালায় স্বামীর কর্তনকৃত মাথাটা রেখে দিলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন তার স্বামীর মাথা সোনার থালার উপর ওভাবেই রাখা থাকবে। আর তিনি প্রায় সারাক্ষণই মৃত স্বামীর কাটামুণ্ডুর দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তার চোখ বেয়ে গলগল করে পড়তো জলধারা।

স্যার ওয়াল্টার র‌্যালেকে হত্যার পর ২৯ বছর বেঁচে ছিলেন এলিজাবেথ থ্রগমর্টন। জানা যায়, তিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজটা করে গেছেন। এরপর ঘটে আরো এক বিস্ময়কর ঘটনা। এলিজাবেথ মারা যাবার পর তার সুযোগ্য পুত্র ক্যারিও র‌্যালেও এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মায়ের আদেশমত একাজটা অব্যাহত রেখেছিলেন। এলিজাবেথ পুত্রকে আদেশ দিয়ে বলে গিয়েছিলেন, ‘তার পিতার এই মাথা যেনো ফেলে দেওয়া না হয়।’ ক্যারিও মায়ের বাধ্যগত সন্তান। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত নাবিক। তিনি মায়ের আদেশ পালন করেছিলেন অক্ষরে অক্ষরে। তিনি তার পিতার কাটামুণ্ডু রেখে দিয়েছিলেন তার মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত। ক্যারিও র‌্যালে মারা যান ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে। এ রকম দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আর নেই।






মন্তব্য চালু নেই