মেইন ম্যেনু

স্বার্থপর

কলেজের নবীন বরণের দিন রোকনের ভীষণ ভাল লাগে একটা মেয়েকে।মায়াবী চেহারা।হাসলে টোল পড়ে গালে।অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে রোকন।মেয়েটি ব্যাপারটা বুঝতে পারে। হঠাৎ করে মেয়েটি রোকনের দিকে আসতে থাকে। কিছুটা ভয় হয় রোকনের। সাথে ছিল অনিক,রিয়াদ আর রিপন। তারা সবাই এক মেসে থাকে।ভর্তিও হয়েছে একই ডেপার্টমেন্টে। মেয়েটিকে আসতে দেখে টনক নড়ে বাকিদের।ওরা কেউ ব্যাপারটা লক্ষ্য করে নি।মেয়েটি এসে দাঁড়ালো।তারপর বললো, আমাকে এভাবে দেখছিলেন কেন?লজ্জা করে না?

রিপন,রিয়াদ আর অনিক বোকার মতো টাসকি খেয়ে আছে।উত্তর দিলো রোকনেই।বললো, ‘আপনাকে ভাল লেগেছে তাই দেখছিলাম।’ উত্তরটা দিয়েই কেটে পড়ে রোকন।রোকনের এতো সাহস কিভাবে হলো।তার বন্ধুরা এ কথাই ভাবছিল।মেসে যাওয়ার আগে আর কোন কথা হলো না কারো সাথে রোকনের। মেসে ফিরে রোকনকে ঘিরে জটলা বাঁধলো রিয়াদরা।’কেন চলে আসলি?মেয়েটাকে পছন্দ হয়েছে?’নানা প্রশ্ন করা সত্যও কোন কথা বলে না রোকন। ভয়ে নয়,লজ্জায়।পাশের বেডে অসুস্থ হয়ে শুয়ে থাকা রাব্বির অসময়ের ঘুম ভাঙ্গে ওদের চেঁচামেচিতে।রাব্বিও ভর্তি হয়েছে রোকনের সাথেই।অসুস্থ থাকায় সে আজ যায় নি কলেজে।রিয়াদ তাকে বললো রোকনের কান্ডটা।তা শুনে ভীষণ খুশি হলো রাব্বি।রোকনের সাথে এক রুমেই থাকে রাব্বি।তাদের দুজনাতে গভীর ভালবাসা।রোকনকে একবার রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিল রাব্বি। সেই থেকে রাব্বিকে আপন ভাইয়ের মতো দেখে রোকন।খুব ভালবাসে ওকে।মাঝে মাঝে নিজে না খেয়েও রাব্বিকে খাইয়েছে রোকন।কয়েকদিন পর শুরু হলো ক্লাশ। রাব্বিটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। সবাই মিলে কলেজে গেলো। ক্লাশে গিয়েই রাব্বি সেই মেয়েটির সাথে কথা বললো।কি গভীর মাতামাতি ওদের ! ব্যাপারটা সবাইকে সাময়িকভাবে অবাক করে।তাই সবাই চুপটি মেরে যায়।পড়ে জানা মেলে আসল ঘটনার।মেয়েটি রাব্বির গ্রামের।ছোটবেলা থেকেই চেনা জানা দুজনের।একসাথেই পড়েছে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।তারপর শহরে চলে আসে রাব্বি।কিন্তু ভালবাসাটা বেঁচেছিল দুজনের।এসবের একটা কথাও জানতো না রোকন।রিয়াদরা জানা তো দুরের কথা।কেউ মেয়েটাকে নিয়ে কথা বলে না।সবাই মিলে অনেক ভাবে।কোন উপায় মেলে না।বেশ কিছুদিন কাটে এমনি করেই।অবশেষে উপায় একটা মেলে। মেয়েটার সাথে কথা বলতে চায় রোকন। মেয়েটার নামও জানা গেছে।নাম হৈমন্তী।রোকনের কথা মতো সকালে অনিকরা খবর দেয় হৈমন্তীকে।সে রাজি হয় কথা বলতে।বিকেল গড়িয়ে আসে।রোকন গিটারটা কাঁধে নিয়ে ক্যাম্পাসের পথে পা বাড়ায়।কাশবনে ঢাকা পুকুর পাড়টায় গিয়ে বসে সে।চারপাশটা বড্ড ফাকা।এপাশে তেমন কেউ আসে না। এমন সময় সে দেখতে পেলো হৈমন্তী আসছে।রোকন তো বেশ খুশি।পাশে এসে বসলো সে।বুকপকেট থেকে একটা চিরকুট বের করে হৈমন্তীর হাতে দিতে যাচ্ছিল রোকন।এমন সময় বুকের মাঝখানটায় কি যেন একটা আঘাত করলো। হৈমন্তী বুঝতে পারলো গুলি করা হয়েছে তাকে।সে চিৎকার করছিলো রোকনকে বাঁচাতে। আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়। অদূরে মটরবাইক নিয়ে একজনকে পালাতে দেখলো হৈমন্তী।ভাল করে দেখলো ওটা রাব্বি।তার মানে রোকনকে সেই মেরে ফেললো ! কিভাবে পারলো সে এমনটা করতে।এতক্ষণে রোকনের খোজে বের হয়েছে অনিকরা।কিন্তু হায় যখন তাকে পাওয়া গেলো তখন সে হৈমন্তীর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে চিরতরে।আর জাগবে না সে।নির্বাক অনিক চিরকুটটা পড়ে শোনায় হৈমন্তীকে। ” রাব্বি তোমায় খুব ভালবাসে।তাকে আপন করে রেখো।আর আমাকে ক্ষমা করে দিও।”কার জন্য ভালবাসা বিসর্জন করলো রোকন?যে কিনা তাকেই স্বার্থপরের মতো পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলো?আসলে সবাই স্বার্থপর।সময়ের ব্যবধানে সবাই স্বার্থপর।

লেখক:
আল-আমীন আপেল
শিক্ষার্থী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।






মন্তব্য চালু নেই