মেইন ম্যেনু

সংবাদ সম্মেলনে ড. আতিউর রহমান :

বীরের বেশে, মাথা উঁচু করে বিদায় নিয়েছি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্যবিদায়ী গভর্নর ড. আতিউর রহমান তাঁর পদত্যাগ সম্পর্কে বলেছেন, আমি আমার বিবেকের দায়বোধ থেকে বীরের বেশে, মাথা উঁচু করে বিদায় নিয়েছি। আমি চাই না আমার কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক, আমি চাই না আমার কারণে বঙ্গবন্ধু কন্যার ভাবমূর্তি নষ্ট হোক।

আজ মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আতিউর এসব কথা বলেন। নিজের পদত্যাগ সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. আতিউর বলেন, আমি মুরাল রিসপন্সিবিলিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমিও চাই রিজার্ভ চুরির যে ঘটনা ঘটেছে এর তদন্ত হোক। আমিও চাই এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার হোক।

সদ্যবিদায়ী গভর্নর জানান, তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন তখন প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি চলে আসে। তিনি ড. আতিউরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনি আমার রিজার্ভকে ২৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে দিয়ে গেছেন। আপনি যে সাহসী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের দেশে বিরল ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. আতিউর বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে তীলে তীলে গড়ে তুলেছেন। ২৮ বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। প্রতি মুহূর্তে তাঁর গাইড নিয়ে কাজ করেছি। তার সমর্থন না পেলে কাজ করতে পারতাম না। প্রত্যেক চ্যালেঞ্জে আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়।

আতিউর বলেন, যে লেভেল থেকে আমি উঠে এসেছি তা আপনাদের কারো অজানা নয়। আমি ভূমিপুত্র। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাকে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছেন। এজন্য আমি চিরদিন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। যেহেতু তিনি আমাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাই আমি তাঁর হাতেই পদত্যাগপত্র তুলে দিয়েছি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রসঙ্গ টেনে বিদায়ী গভর্নর বলেন, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ, যখন বিদায় নিচ্ছি তখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমাদের রিজার্ভ এখন ২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আমি যখন সাত বছর আগে দায়িত্ব নিই তখন রিজার্ভ ছিল সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার মাত্র। আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি আজ সারা বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. আতিউর বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের সহযোগিতা না পেলে এতদূর যেতে পারতাম না। বিশেষ করে প্রাইভেট সেক্টরের ব্যাংকগুলোর কাছে আমি বেশি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। আমি যখন যা বলেছি তারা তাই করেছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আতিউর বলেন, আমরা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোতেও স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। আমরা যে কাজগুলো সূচনা করে এসেছি তা যেন অব্যাহত থাকে সে প্রত্যাশা থাকবে সরকারের প্রতি।

রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় অনেক ইতিবাচক দিকও আছে বলে মনে করেন সদ্যবিদায়ী গভর্নর। তার মতে, এটা ছিল হাইকেট সাইবার অ্যাটাক। এর মাধ্যমে আমাদের রিজার্ভের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গত সাত বছর দায়িত্ব পালন করা ড. আতিউর সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অনেক সাংবাদিক তার ছাত্র, অনেককে ভালো সাংবাদিক হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তিনি অবসরে আবার শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন বলে জানান।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তিনি কাজ করেন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের বক্তৃতায় বারবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন ড. আতিউর। তবে একবার তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অর্থমন্ত্রী বয়স্ক মানুষ উল্লেখ করে তাঁকে তরুণদের দৃষ্টিতে বর্তমান অর্থনীতিকে দেখার অনুরোধ করেন বিদায়ী গভর্নর।






মন্তব্য চালু নেই