মেইন ম্যেনু

স্মার্ট কার্ড গ্রহণে ঢাকার ভোটারদের সাড়া কম

উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড গ্রহণে ভোটারদের সাড়া খুব এটা পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে রাজধানীর দুটি স্থানে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু করলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তা বিতরণ হচ্ছে না। প্রতিদিন নির্ধারিত ভোটারদের অর্ধেকেরও কম আসছেন কার্ড নিতে। আবার অনেকে এসেও কার্ড না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কার্ড গ্রহণে ঢাকাবাসীর সাড়া কম হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা না হওয়া, ভোটারদের ঠিকানা পরিবর্তনসহ কর্মব্যস্ততার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। আবার কমিশনের অব্যবস্থাপনা এবং যন্ত্রের ত্রুটি ও নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণেও কার্ড বিতরণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, ঢাকায় ভোটারদের সাড়া না পাওয়া গেলেও কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার ভোটারদের মাঝে স্মার্ট কার্ড গ্রহণে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পরদিন ৩ অক্টোবর রাজধানীর দুইটি ও কুড়িগ্রামের একটি কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিদ্বেশ্বরী গালর্স কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

ক্যাম্প দুটির কার্ড বিতরণের পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম তিন দিনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ভোটার তাদের স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহ করেছে। দেখা গেছে, সোমবার স্মার্টকার্ড বিতরণের প্রথম দিনে উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরার দুটি সেক্টরের ৪ হাজার ৭১৪ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৮০০ জন। একই দিন দক্ষিণ সিটির সিদ্ধেশ্বরী কেন্দ্রে ৪ হাজার ১২৬ ভোটারের মধ্যে ৮৯১ জন স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করেছেন। পরের দিন উত্তরা কেন্দ্রে ২ হাজার ৮০০ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৫৮৭ জন এবং সিদ্ধেশ্বরী কেন্দ্রে ৪ হাজার ২০৩ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৮৩ জন এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন উত্তরা কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ২০০ ভোটারের মধ্যে ৮৯৭ জন স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে, ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে ঢাকায় কার্ড বিতরণের হার কিছুটা বেড়েছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান। এদিকে কুড়িগ্রামের দাশিয়ার ছড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

কার্ড বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, প্রথম দুইদিনে তাদের স্মার্ট কার্ড বিতরণের হার কিছুটা কম ছিলো। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা করতে না ‍পারায় হয়তো এটা হয়েছে। তবে, আস্তে আস্তে ভোটারদের কার্ডগ্রহণের হার বাড়ছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে এটা আরও বাড়বে।

উত্তরার ১ নং ওয়ার্ডের নির্ধারিত এলাকায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার ৪২ শতাংশ ভোটার কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। কার্ডগ্রহণে হার কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকার ভোটারদের বেশিরভাগই ভাড়াটে। তাদের অনেকে বাসা বদল করে ভিন্ন ঠিকানায় চলে গেছেন। অনেকেই আবার ভোটার এলাকাও স্থানান্তর করেছেন। তাছাড়া ঢাকার বেশিরভাগ মানুষই কর্মব্যস্ত। কাজ ফেলে কেউ কার্ড নিতে আসতে চান না। যান্ত্রিক ত্রুটিসহ কিছু অব্যবস্থাপনার কারণেও প্রথম দিকে কার্ড বিতরণ কিছুটা কম হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

রমনা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা মমতা হেনা জানান, প্রথম তিন দিন কার্ড বিতরণ কিছুটা কম হলেও ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার নির্ধারিত ৫ হাজারের বেশি ভোটারের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৭ জন স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। এদিন সমস্যার কারণে ২৪৫ জনকে কার্ড দেওয়া যায়নি।

নির্ধারিত দিনে কার্ড না নিলে পরে এসে কার্ড পাওয়া যাবে কী না জানতে চাইলে মাহবুবা জানান, নির্দিষ্ট দিনে কার্ড নিতে না এলে ওই ওয়ার্ডে বিতরণের বাকি সময়ের মধ্যে এলে তারা কার্ড পাবেন। তবে ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ শেষ হলে তাদের থানায় গিয়ে কার্ড নিতে হবে এবং সকল ওয়ার্ডে বিরতণ শেষ হলে থানায় বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কার্ড বিতরণে অব্যবস্থাপনার জন্য এনআইডি ‍অনুবিভাগকে দায়ী করেছে নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কার্ড বিতরণের প্রথম দিনে সিদ্ধেশ্বরী কেন্দ্রে গিয়ে অব্যবস্থাপনার এক কর্মকর্তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পরে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা বলেন, এনআইডি অনুবিভাগ তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা না করেই কার্ড বিতরণের দিনক্ষণ ঠিক করেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যে কিছু সমস্যা থাকতে পারে এটা তারা নজরেই নেননি। কার্ড বিতরণের আগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনও সমন্বয়সভাও হয়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, প্রথমবারের মতো কার্ড বিতরণ করার কারণে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি আমাদের নজরে এসেছে। এখন তা কাটিয়ে উঠছি। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা অন্যান্য স্থানে কার্ড বিতরণ করবো। আশাকরি তখন খুব একটা সমস্যা থাকবে না।

কার্ড বিতরণের হার কমের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীতে স্থানান্তরিত ভোটার বেশি বলে এসব সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই ভোটার হয়ে পরে বাসা বদল করে অন্য এলাকায় চলে গেছেন। এ কারণে অনুপস্থিতি বেশি।

এদিকে বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করে রকিবউদ্দীন কার্ড গ্রহণে ধীর গতির বিষয়টি স্বীকার করেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে লোক সমাগম কম ছিল। গ্রামের দিকে হলে মুখে মুখে, একজন থেকে আরেকজনে খবর চলে যায়। কিন্তু শহরে সবাই আবদ্ধ থাকায় খবর পায় না। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মসজিদে মাইকিং করতে বলেছি। এ ছাড়াও মোবাইলে এসএমএস করতে বলা হয়েছে।

সিইসি বলেন, রমনা ও উত্তরা থানার কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে যে এলাকা দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোতে কার্ড বিতরণ শেষ হলে যে সব ভুল-ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর কাজ শুরু করার তারিখ জানানো হবে।

আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তরা থানাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড দেওয়া হবে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পে। আর ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রমনা থানাধীন ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড দেওয়া হবে ৩টি ক্যাম্পে। ক্যাম্পগুলো হলো সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, সেগুন বাগিচা হাইস্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।এরপর এ ওয়ার্ডের কেউ চাইলেই আর ক্যাম্প থেকে তার স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে এই থানার সবগুলো ওয়ার্ডের কাজ শেষ হলে থানা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই