মেইন ম্যেনু

হটাৎ আকাশে দেখা মিলল ভাসমান আজব শহর!

চীনের আকাশে মেঘের মধ্যে বিশাল অট্টালিকসহ এক ভাসমান শহর দেখা গেছে সম্প্রতি। দুইটি প্রদেশের ভিন্ন দুইটি শহরে দেখা গেছে এই আজব ‘মেঘ শহর’। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন, তারা এই অদ্ভুত জিনিসটির ভিডিও ধারণ করেছেন। আকাশের গায়ে মেঘের ভেতর সুউচ্চ শহর দেখতে পেয়ে তারা পুরোপুরি হতবাক হয়ে গেছেন।

জানা যায়, প্রথমে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ফোশান শহরের আকাশে কয়েক হাজর মানুষ মেঘের মধ্যে ওই আজব শহরের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। এর কয়েক দিন পর জিয়াংজি প্রদেশের লোকেরাও একই রকম ‘মেঘ শহর’ দেখতে পান। অন্তত কয়েক হাজার লোক আজব ওই জিনিস দেখে বিস্মিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

অবশ্য আবহাওয়াবিদরা ওই ঘটনাকে প্রাকৃতিক মরিচীকা বলে ব্যাখা করেছেন। তাদের ভাষায় এটি এক ধরনের দৃষ্টিভ্রম, বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ফাতা মর্গানা। সাধারণত দূরের কোনো বস্তুর দৃষ্টিগত বিকৃতি কিংবা অবস্থানগত কারণে ফাতা মর্গানা দেখা যায়।

গভীর সমুদ্র কিংবা স্থলভাগ উভয় জায়গায়ই এটি দেখা যেতে পারে। সূর্যের আলোকরশ্মি যখন বিভিন্ন তাপমাত্রা বাতাসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, যেমন কখনো তাপ, কখনো কুয়াশা সেই সময় ভূমিতে থাকা কোনো বস্তুর প্রতিবিম্ব আকাশে মেঘের মধ্যে দেখা যেতে পারে।

যেমন গভীর সমুদ্রে ভাসতে থাকা একটি নৌকার চিত্র হঠাৎ করেই মেঘের মধ্যে দেখা যেতে পারে। তবে এই রহস্যটি বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। ২০১১ সালে চীনের ফান্তোম শহরে অনেকটা একই ধরনের বস্তু দেখা গিয়েছিল।

অনেকে অবশ্য মনে করছেন, চীন অত্যন্ত গোপনীয় কোনো হলোগ্রাফিক পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের যুক্তি সরাসরি জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যই জনবহুল এলাকায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কয়েক দশকে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিবেচনায় এটি অসম্ভবও নয়।

প্যারানরমাল ক্রুসিবেল নামক ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিও রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘মেঘের মধ্য ভাসমান বিশাল শহরের ভিডিওটি একজন স্থানীয় বাসিন্দা ধারণ করেছেন। কয়েক শ’ মানুষ এই আজব বস্তুটি দেখতে পেয়েছেন। আকাশে হঠাৎই জেগে উঠে কয়েক মিনিট পর আবার হারিয়ে যায় এটি’।

চ্যানেলটি মনে করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ব্লু বিম প্রকল্পের পরীক্ষার ফলে এমনটি দেখা যেতে পারে। প্রজেক্ট ব্লু বিম এমন একটি তত্ত্ব যাতে মনে করা হয়, নাসা একদিন পৃথিবীর বুকে এলিয়েনের হামলা অথবা যিশুখ্রিষ্ট ঈসা আ:-এর দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমনের নকল আবহ তৈরি করবে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমালোচক সার্জি মোনাস্ট আশির দশকে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, ১৯৮৩, ১৯৯৬ ও ২০০০ সালে নাসার এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হতে পারে।

একটি অনলাইন পোস্টারে বলা হয়েছে, আকাশে ওই ভবনগুলো কি তিনবার দেখা গেছে? যদি এটি কেউ কম্পিউটারে তৈরি করে না থাকে, তাহলে এটি সত্যি ব্লু বিম প্রকল্প হতে পারে। অথবা আমাদের বাস্তবতার মধ্যেই একটি সমান্তরাল মহাবিশ্ব রয়েছে’।

এতে আরো বলা হয়, ‘তবে এটি অত্যন্ত গোপনীয় কোনো হলোগ্রাফিক প্রযুক্তির পরীক্ষা হতে পারে, জনগণের প্রতিক্রিয়া দেয়ার জন্য যা লোকবহুল এলাকায় করা হয়েছে।

এক্সপ্রেস ইউকে অবলম্বনে






মন্তব্য চালু নেই