মেইন ম্যেনু

হঠাৎ আগ্রহ বেড়ে দ্বিগুণ ১৭ বছর বয়সীদের?

চলমান হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ৪২ লাখ ১৭ বছর বয়সী নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে হিসাবে আগামী ২০১৬ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ৪২ লাখ নাগরিক; যা ইসির টার্গেটের দ্বিগুণ। ১৮ বছরের কমবয়সীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর দিকে তাদের অনাগ্রহের কথা বারবার উঠে এলেও এখন এই পরিসংখ্যান দেখে অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে গেছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইসির তথ্য সংগ্রহকারীরা গত ২৫ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু করে। ২২ সেপ্টেম্বর দেশের সব সিটি করপোরেশনসহ ৫১৪ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা ইতিমধ্যে ১৭ বছর বয়সী অন্তত ৪২ লাখ ৪০ হাজার ৬৩১ জন এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। যা ইসির টার্গেটকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই সাংবিধানিক সংস্থাটির।

শুরু হওয়া হালনাগাদ কার্যক্রমে তিন বছরে মোট ৭২ লাখ ভোটারের নিবন্ধন করার টার্গেট নিয়েছে ইসি। সে হিসাবে ২০১৬ সালে ২৪ লাখ (বিদ্যমান ভোটারের ২.৫ শতাংশ) এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ভোটার হওয়ার যোগ্য ৪৮ লাখ (বিদ্যমান ভোটারের ৫ শতাংশ) নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ হবে এবার।

কিন্তু ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহকারীরা ২০১৬ সালে ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকের ‘টার্গেটের’ দ্বিগুণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। আর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ভোটারযোগ্য নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের হিসাব নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। কারণ, প্রকৃতরা ভোটার হতে পারছে। ১৯৯৭ সালের জন্ম নেয়া তথা হালনাগাদের আগে বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা বেশি যোগ হচ্ছে এবার।’

তবে সচেতনতার অভাব, প্রচারণার ঘাটতি, তথ্য সংগ্রহকারী বাড়ি বাড়ি না যাওয়া কিংবা নারীদের অনাগ্রহ ও পরে ভোটার হওয়ার প্রবণতায় ১৫-১৬ বছর বয়সীদের সংখ্যা এবার কম হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান আবু সালেহ বলেন, ‘হালনাগাদে ১৭ বছর বয়সীদের আগ্রহের কারণে তাদের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে বেশি। আর ১৫-১৬ বছর বয়সীদের অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। ফলে তাদের তথ্য সংগ্রহ কম হয়েছে।’

এদিকে ইসি থেকে দ্বৈত্য ভোটার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৭ বছরের যত নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এ চিত্র দেখে মনে হচ্ছে অনেকেই দ্বিতীয়বার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছে। অথবা অনেকেই বয়স বাড়িয়ে তথ্য সরবরাহ করেছে। তা না হলে এত অস্বাভাবিক সংখ্যা দাঁড়াতো না। এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বে গাফলতিকেও দুষছেন তারা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৭ লাখেরও বেশি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ হলেও ১৫-১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র সাড়ে ২৪ লাখের তথ্য সংগ্রহ হয়েছ। এ হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ ও ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ যা টার্গেটের উল্টো।

বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। হালনাগাদে নতুন যোগ হচ্ছে আরো অন্তত ৭২ লাখ ভোটার।






মন্তব্য চালু নেই