মেইন ম্যেনু

হঠাৎ পেট্রোল বোমার তিন কারণ !

প্রায় তিন মাস পর হঠাৎ করে যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে সাতজনকে মারাত্মকভাবে দগ্ধ করার ঘটনা পুলিশ প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। উদ্বিগ্ন পুলিশ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য তিনটি কারণ মাথায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে সাতজন যাত্রী দগ্ধ হন। তারা এখন ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত মার্চ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি উঠে যাওয়ার পর এই পেট্রোল বোমা সংস্কৃতি আর লক্ষ করা যায়নি। এখন হঠাৎ করে কেন এমন ঘটল তা নিয়ে আমরা ভীষণভাবে চিন্তিত। ইতিমধ্যে পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার মোটিভ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।’

সম্ভাব্য কী ধরনের মোটিভ এ হামলার পেছনে থাকতে পারে তা তদন্ত করতে এরই মধ্যে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছে জানিয়ে চান্দিনা থানার ওসি রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, ‘ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটিগামী ইউনিক পরিবহণের যাত্রীবাহী বাসটি (ঢাকা-মেট্রো-ব ১৪-৭৬৪৮) চান্দিনা পাট গবেষণা কেন্দ্র এলাকা অতিক্রমকালে দুর্বৃত্তদের পেট্রোলবোমার শিকার হয়। যে কারণে ওই এলাকার ওপর আমরা বিশেষ নজর রাখছি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ পেট্রোল বোমার মতো নাশকতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে এবং আগে সংগঠিত এ ধরনের ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই নাশকতার সঙ্গে পূর্বের নাশকতার মিল রয়েছে। আগে যে প্রক্রিয়ায় এসব পেট্রোল বোমা তৈরি করা হতো, সেই একই প্রক্রিয়ায় এগুলোও তৈরি করা হয়েছিল। যে কারণে সন্দেহের তালিকায় একটি ইসলামপন্থি দলকে রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তৃতীয় যে বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত করছে, তা হচ্ছে আক্রান্ত ইউনিক পরিবহণের সঙ্গে অন্য কোনো পরিবহণ সংস্থা বা ব্যক্তির পূর্ব শত্রুতা ছিল কি না?’

কুমিল্লা থেকে প্রতিবেদক জানান, পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের প্রথমে পার্শ্ববর্তী ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়েছে। দগ্ধদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল জানান, সাতজনের মধ্যে দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনজন বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।

বুধবার সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিনজনকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন। সেখানে ভর্তি তিনজনের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

আহতদের মধ্যে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রাঙামাটি সদরের বড়ধোনা এলাকার যুক্তমনি চাকমার ছেলে খোকন চাকমা (৩৩), রাঙামাটি সদরের সুনীল চন্দ্র নাথের ছেলে সুমন চন্দ্রনাথ (৩০), গোপালগঞ্জ সদরের এমরান (২৫)। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম ফারুক (২৫) ও তার স্ত্রী লাভলী আক্তার।

ঢাকায় পাঠানো হয়েছে রাঙামাটি সদরের ভবেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথের ছেলে অঞ্জন কুমার দেবনাথ (৪০) ও হরিপদ শর্মার ছেলে রঞ্জিত শর্মাকে।

ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, অঞ্জন কুমারের শরীরের ২৬ শতাংশ ও সঞ্জিত শর্মার ৪৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা আশঙ্কামুক্ত নন।






মন্তব্য চালু নেই