মেইন ম্যেনু

ব্লগার নিলয় হত্যাকান্ডঃ

হত্যার দায় স্বীকারের ইমেইল হাটহাজারী থেকে পাঠানো

চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে (নিলয় নীল) হত্যার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকার আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে আনসার আল ইসলাম (আল-কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ শাখা) সংগঠনটির নামে গণমাধ্যমে হত্যার দায় স্বীকার করে ইমেইল বার্তাটি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ফেসবুকেও নিলয় হত্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এই আইপি অ্যাড্রেস থেকে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিলয় হত্যার দায় স্বীকার করে ইমেইল বার্তাটি যে ল্যাপটপ থেকে পাঠানো হয় সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার একটি অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। ঘোষণাপত্রের নিচে লেখা নামের ‘মুফতি আব্দুল্লাহ আশরাফ, মুখপাত্র, আনাসার আল ইসলামের (আল-কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ শাখা) নামটি ছদ্মনাম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে “আল্লাহর রাসূলকে (সা.) কটূক্তিকারী ‘নিলয় নীল’ হত্যাকাণ্ডের দায়ভার গ্রহণ” শিরোনাম দিয়ে ফেসবুকে নিলয়ের ওয়ালে একটি পোস্ট করা হয়। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তদন্তকারীদের কিছু সন্দেহ রয়েছে— হত্যার ঘটনা ঘটেছে দুপুর ১টা ১০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে। এর আগে ১টা ৮ মিনিটে নিলয় তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। আর হত্যার দায় স্বীকার করা সংগঠনটি বলছে— হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১টা ৪৫ মিনিটে। এ তথ্যে গরমিল পাওয়ায় তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন— আসলেই সংগঠনটির অস্তিত্ব রয়েছে কিনা।

হত্যাকারীরা চারজন একটি সিএনজি নিয়ে রাজাধানীর পূর্ব গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বরের পাঁচতলা ভবনের সামনে যান। সেখান থেকে একজন পঞ্চমতলায় নিলয়ের ঘরে যান এবং তার ফোন পেয়ে অন্য তিনজন বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় নিলয়ের স্ত্রী ও শ্যালিকা উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা নিচতলায় পোশাক পরিবর্তন করে সিএনজিতে উঠে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে একজনের চেহারার বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

হত্যাকারীরা আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন। হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা ৫ মিনিট সময় নিয়েছেন।

হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য এরই মধ্যে বেশকিছু স্থানের ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছে ডিবি। ওই ভিডিও ফুটেজ ধরেও তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ব্লগার হাত্যাকারীদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের অচিরেই গ্রেফতার করা হবে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা যে যার ধর্ম পালন করি; আমরা ধর্মান্ধ নই। দেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু আমরা নয়, দেশের মানুষ সমর্থন করে না। হত্যাকারী যেই হোক আমরা তাকে গ্রেফতার করব।’

এদিকে রাজধানীতে দিনদুপুরে বাসায় ঢুকে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে হত্যার ঘটনার প্রধান তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে ডিবি। ডিবির অন্তত ৬টি দলকে পৃথকভাবে তদন্ত করার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে কৌশলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তি শাখার একটি দলকে। তারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও মামলার তদন্ত করবে। এর বাইরে দুটি দলকে সোর্স নির্ভর করে মাঠে নামানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও হত্যাকারীদের আকৃতির বর্ণনা অনুসারে পৃথক আরও তিনটি দল কাজ করছে। এ ছাড়াও নিলয় হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ সদর দফতরের একটি ও র‌্যাবের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে ব্লগার হত্যাকারীদের তথ্য উদ্ঘাটনে আড়ালে থেকে পৃথক দুইটি গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে বলে জানা গেছে।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্লগার নিলয় হত্যার তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও কাজ করছে। যেকোনো সময় মামলাটি অফিসিয়ালি ডিবিতে হস্তান্তর করা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র‌্যাব ও ডিবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সহসাই নিলয় হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।’দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই