মেইন ম্যেনু

হবিগঞ্জে এক লন্ডনী কন্যার সকালে তালাক-বিকালে বিয়ে!

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে এক লন্ডনী কন্যা রোজিনা বেগম এর সকালে তালাক ও বিকালে বিয়ে নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে আউশকান্দি এলাকা সহ বাজারের বিভিন্ন চায়ের ষ্টলে রসালো আলোচনার ঝড় বইছে।

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের এক লন্ডনী কন্যা রোজিনাকে নিয়ে তার মা রুবিয়া বেগম তার ভাই আউশকান্দি গ্রামের নজমুল মিয়ার বাড়িতে উঠেন। পরদিন থেকে শুরু হয় লন্ডনী ভাগ্নি রোজিনাকে নিয়ে দুই ভাইয়ের টানাহেচড়া। এক ভাই দাবী করছেন তার ছেলের সাথে কয়েক বছর আগে ওই মেয়ের বিয়ের হয়েছে। আর বিয়ের কাবিননামও রয়েছে। অতি সম্প্রতি অপর ভাই নজমুল ওই কণ্যার বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেছেন। এ নিয়ে গত রোববার রাতে আউশকান্দি গ্রামে নজমুল মিয়ার বাড়িতে সালিস বৈঠক হয়েছে।

সালিস বৈঠক সূত্রে জানা গেছে-৪/৫ বছর পূর্বে ওই লন্ডনী কণ্যার মামাতো ভাই আউশকান্দি গ্রামের হাজির মিয়ার ছেলে হায়দার মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর হায়দার মিয়া গ্রীস চলে যান। গত ১ নভেম্বর ওই কন্যাকে নিয়ে মা দেশে আসেন। দেশে আসার পর মেয়েকে নিয়ে মা তার ভাই আউশকান্দি গ্রামে নাজমুল মিয়ার বাড়িতে উঠেন। নাজমুল মিয়া তার ভাগ্নিকে একই এলাকার উমরপুর গ্রামের মেম্বার পুত্র তারেক এর কাছে বিয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে ১০লাখ টাকা আদায় করেন। সোমবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে এ খবর শুনে নাজমুল মিয়ার ভাই হায়দার মিয়ার পিতা হাজির মিয়া গ্রামের লোকজন জড়িত করেন। নাজমুল মিয়ার বাড়িতে এক সালিস বৈঠক বসে। এতে আউশকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার বদরুল ইসলাম বকুলসহ গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বিগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাজির মিয়া তার ছেলের সাথে আগে ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ সময় হাজির মিয়ার ভাই নাজমুল মিয়া ১০ লাখ টাকা আনার কথা স্বীকার করেন।

এ অবস্থায় উপস্থিত মুরুব্বিগণ ওই ১০ লাখ টাকা প্রয়োজনে গ্রামবাসী ফেরত দিবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্যগণ লন্ডনী কন্যাকে বুঝিয়ে হায়দার মিয়ার ঘরে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু লন্ডনী কন্যা রোজিনা কিছুতেই হায়দার মিয়ার ঘর সংসার করতে রাজি নয়। এ অবস্থায় কি আর করার। প্রবাদে আছে “যার বিয়ে তার খোজঁ নাই, পাড়া পড়শির ঘুম নাই”।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে আবারো বৈঠকে বসেন গ্রামবাসী। বৈঠকে জানানো হয় রোজিনা-হায়দার মিয়ার ঘর সংসার করতে রাজি নয়। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় রোজিনাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে হলে হায়দার মিয়া তালাক দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় সালিশ বৈঠকে। পরদিন বুধবার সকালে গ্রীস প্রবাসী স্বামী হায়দার মিয়াকে জানিয়ে দেয়া হয় তার স্ত্রী আর ঘর সংসার করতে রাজি নয়। সে অন্যত্র বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছে ! এত কিছু শুনে হায়দার মিয়া আর চাপাচাপি করতে রাজি নয়। তাই গ্রীস থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয় রোজিনাকে। পরে আউশকান্দি মাহবুবা কমিটি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় রোজিনাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই মাতায় পাগড়ি, গায়ে শেরুয়ানি পড়ে সেন্টারে হাজির হন হবু স্বামী তারেক। এরপর ৫লাখ টাকার দেন মোহরে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয় রোজিনা ও তারেককে।

এব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বদরুল ইসলাম বকুল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আমার ব্যতিগত কাজ নিয়ে সারা দিন ব্যস্ত ছিলাম। তবে শুনেছি সকালে তালাক ও বিকালে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই