মেইন ম্যেনু

হলিউডের সর্বোচ্চ বাজেটের ১০ সিনেমা

বিনোদন সাম্রাজ্যের বড় হিস্যা এখন সিনেমার হাতে। নেটফ্লিক্স ও স্ট্রিমিং সার্ভিসের বদৌলতে এখন ঘরে বসেই নিত্য-নতুন সিনেমা দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও সিনেমা হলে দর্শক কমেনি। দর্শক বরাবরই বড়পর্দায় সিনেমা দেখতে চান।

তাই দিন দিন সিনেমার বাজেট বাড়ছে। স্টুডিওগুলো বাজেট নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও করে। যেহেতু আপনি এ সময়ের দর্শক। বলা যেতে এমন অনেক হলিউড সিনেমা ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছেন। সর্বোচ্চ বাজেটের কিছু কিছু সিনেমা ‘অল টাইম ব্লকবাস্টারের’ মর্যাদা পেয়ে গেছে।

একটা কথা না বললেই নয়, হলিউডে বেশি বাজেট মানে বেশি বেশি গ্রাফিক্স ও এ্যানিমেশন। সবচেয়ে বেশি বাজেটের ১০ হলিউড সিনেমার তালিকা দেওয়া হল নিচে। মিলিয়ে নিন আপনার ওয়াচিং লিস্ট—

এক. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান : অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস

জনি ডেপ অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১১ সালের ২০ মে। আর এর নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার। এটি হলিউড তথা সারাবিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাজেটের সিনেমা। সিরিজের চতুর্থ পর্বটি পরিচালনা করেন রব মার্শাল। এ পর্বে তারুণ্যের ঝর্ণার খোঁজ অভিযানে আরও সামিল হন পেনেলোপি ক্রুজ। পাইরেট ব্ল্যাকবেয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করেন ইয়ান ম্যাকশাইন। দৃশ্যায়ন হয় হাওয়াই, যুক্তরাজ্য, পুর্তোরিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ায়। ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে ভেঙে দিয়েছে অনেক বক্স অফিস রেকর্ড। মুদ্রাস্ফীতি বাদ দিয়ে এটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়ের সিনেমার তালিকায় ১৪তম স্থান দখল করেছে। সিরিজের পঞ্চম পর্ব ‘ডেড মেন টেল নো টেইলস’ মুক্তি পাবে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই।

দুই. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান : এট ওয়াল্ডস এন্ড

জনপ্রিয় সিরিজটির তৃতীয় ইনস্টটলমেন্ট এটি। ২০০৭ সালের ১৯ মে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির বাজেট ৩১ কোটি ডলার। সে বছরের অতিপ্রতীক্ষিত মুভি ছিল এটি। প্রায় তিন ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এ সিনেমায় প্রথম অর্ধেকে জ্যাক স্পারো জনি ডেপকে দেখা যায়নি বললেই চলে। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৯৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করে। কিন্তু সমালোচকদের খুব কমই পজেটিভ রিভিউ দিয়েছেন। আরও অভিনয় করেন কিরা নাইটলি ও অরলান্ডো ব্লুম। পরিচালনা করেছেন গোরে ভার্বিনস্কি।

তিন. এ্যাভেঞ্জার্স : এইজ অব অলট্রন

মার্ভেল কমিকসের সুপারহিরোদের নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৫ সালের ১ মে। ‘দ্য এ্যাভেঞ্জার্স’র সিক্যুয়ালটি মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ১১তম ইনস্টটলমেন্ট। জস হিডেনের পরিচালনায় খরচ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার। অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস হেমসওয়র্থ, মার্ক রাফেলো, ক্রিস ইভান্স, স্কারলেট জোহানসন, জেরেমি রেনার, ডন কিয়াডল, এ্যারন টেইলর-জনসন, এলিজাবেথ ওলসেন, পল বিটানি, স্যামুয়েল এল জনসনসহ অনেক তারকা। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিয়ে গড়ে উঠা সিনেমাটি আয় করছে ১০৪ কোটি ডলারে বেশি। ‘এইজ অব অলট্রন’র ছোট একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশে। জনপ্রিয় সিরিজটির সবচেয়ে বেশি আয়ের সিনেমা এটি, যা ২০১৫ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা, সর্বকালের বিবেচনায় এর স্থান ৬ষ্ঠ। সিরিজের পরের দুই পর্ব ‘এ্যাভেঞ্জার্‌স : ইনফিনিটি ওয়ার ১, ২’ মুক্তি পাবে যথাক্রমে ২০১৮ সালের ৪ মে ও ২০১৯ সালের ৩ মে।

চার. জন কার্টার

১৯৩০-এর দশকে ‘জন কার্টার অব মার্স’ নামে একটি এ্যানিমেটেড ফিল্ম রিলিজ করে ডিজনি। এর ৭০ বছর লাইভ এ্যাকশনে বড়পর্দায় ফিরে ‘জন কার্টার’। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১২ সালের ৭ মার্চ। ততদিনে ওই ফিল্মের কাহিনীও কারো মনে নেই। হয়ত সে কারণেই ২৬ কোটি ডলারের বেশি বাজেটের সিনেমা ফ্লপ করেছে দারুণভাবে। কোনো মতে তুলে এনেছে ২৮ কোটি ডলার। ফলে এ সিনেমার কোনো সিক্যুয়ালের আশা নেই।

পাঁচ. ট্যাঙ্গেলড

২০১০ সালে মুক্তি পায় ‘ট্যাঙ্গেলড’। রূপকথাভিত্তিক এ্যানিমেশন সিনেমাটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ডলার। এতে রূপানজেলের কণ্ঠ দেন ম্যান্ডি মুর। সিনেমাটি ৯০ ভাগ ইতিবাচক রিভিউ পায়। বক্স অফিসেও ভাল করে। স্থানীয় বাজারের ২০ কোটিসহ মোট আয় করে ৬০ কোটি ডলারের বেশি। এর কারণে খুলে যায় আরেক হিট সিনেমা ‘ফ্রোজেন’র দরজা। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৫ সালে।

ছয়. স্পাইডারম্যান থ্রি

টবি মাগুইয়ে যোগ দেওয়ার আগে উল্লেখযোগ্য কোনো ‘স্পাইডারম্যান’ সিনেমা নির্মিত হয়নি। এটি ছিল ওয়েভস্লাঙ্গারের গল্প উপর নিখুঁত নির্মাণ। যদিও ‘স্পাইডারম্যান টু’ প্রশংসা পেয়েছে বেশি কিন্তু বাজার মাত করেছেন পরের ইনস্টলমেন্টটি। ২৬ কোটি ডলার বাজেটের সিনেমাটি আয় করে ৮৯ কোটি ডলার। একদম মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা। এর পর সিরিজটির রিবুট হয়। কিন্তু এ্যান্ডু গরফিল্ডের ‘দ্য এ্যামেজিং স্পাইডারম্যান’ সিরিজ দুই পর্বে থমকে যায়। কারণ প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। এবার আসছে রিবুট সিরিজ। তাতে দেখা যাবে স্কুলে পড়া স্পাইডারম্যান।

সাত. হ্যারি পটার এ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স

আটটি পর্বে নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ। তবে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়ে ‘হ্যারি পটার এ্যান্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স’ নির্মাণে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির বাজেট ছিল ২৫ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৯৩ কোটি ডলার। শুধু দর্শকই নয়, সমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছে সিনেমাটি। তারা একে ‘ইমোশনালি স্যাটিসফায়িং’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনও বলা হয়েছে যারা শুধু একটি হ্যারি পটার মুভি দেখতে চান, তারা যেন ‘হ্যারি পটার এ্যান্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স’ দেখেন। প্রথমে সাত পর্বেই শেষ হওয়ার কথা ছিল সিরিজটির। কিন্তু শেষ পর্ব দুটি পর্বে মুক্তি পায়। ফলে বাজেট কমে যায়।

আট. দ্য হবিট : দ্য ব্যাটল অব দ্য ফাইভ আর্মিস

পিটার জ্যাকসনের বিখ্যাত ‘দ্য হবিট’ ট্রিলজির শেষ পর্ব এটি। আবার আরেক বিখ্যাত ট্রিলজি ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’র প্রিক্যুয়াল। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৪ সালে। ২৫ কোটি ডলার বাজেটের ‘দ্য হবিট : দ্য ব্যাটল অব দ্য ফাইভ আর্মিস’ আয় করে ৯৫.৫ কোটি ডলার, যা ওই বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়।

নয়. এভাটার

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা ‘এভাটার’। এর আগে সর্বোচ্চ আয় দখলে ছিল ‘টাইটানিক’র। আর দুই সিনেমার পরিচালকও একই। জেমস ক্যামেরন। সাই-ফাই সিনেমাটি নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে ১০ বছর। ২৪ কোটি ডলারের সিনেমাটি আয় করেছেন ২০০ কোটি ডলারের বেশি। শোনা যাচ্ছে শিগগির দুটি সিক্যুয়াল আসবে।

দশ. দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস

সুপারহিরো মুভির ইতিহাসে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ব্যাটম্যান’ ট্রিলজি বড় একটি অর্জন হিসেবে লেখা থাকবে। সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমায় হিথ লেজার ‘দ্য জোকার’র ভূমিকায় অভিনয় করে মোটামুটি কিংবদন্তি হয়ে যান। আর তৃতীয় ও শেষ পর্ব হল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় ২৩ কোটি ডলার। আয় করে ১০০ কোটি ডলারের বেশি।






মন্তব্য চালু নেই