মেইন ম্যেনু

`হলিউড ফিল্ম করছি না’

মুম্বাইয়ে জুহু বিচে ‘সান এন স্যান্ড হোটেল’-এর ব্যাঙ্কোয়েট হলে দীপিকা পাড়ুকোনকে পাওয়া গেল৷ ক্রিম রঙের ওপর হালকা সোনালি জরির ফুলস্লিভ টপ আর একই কাপড়ের মিনি স্কার্ট-এ৷ জুয়েলারি প্রায় নেই বললেই চলে৷ আঙুলে পোশাকের সঙ্গে মেলানো একটা আংটি আর একই রঙের নেলপলিশ৷ বলাই ছিল, আমরা ইণ্টারভিউয়ের নাম করে আড্ডা দেব৷ হলোও তাই৷

প্রশ্ন: একই বছরে তিন তিনটে ছবি রিলিজ করার পর বছর শেষের ছুটিতে কী করবেন? কোথায় যাবেন?

দীপিকা: কোথাও যাব না৷ বাবা-মা’র কাছে গিয়ে থাকব৷ ঘরে বাবা, মা’র সঙ্গে সময় কাটাব, ঘুমোব আর হলিডে এনজয় করব৷ এক বছরে তিনটে ছবি টু মাচ লাগছে৷ খুব হেকটিক গিয়েছে৷ এবার ফ্যামিলির মধ্যে বসে সময় কাটাব৷

প্রশ্ন: ‘বাজিরাও’ রিলিজ করে গিয়েছে৷ কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন পরিচিতদের কাছ থেকে?

দীপিকা: অনেক মেসেজ৷ টুইটারে আসছে৷ ফোনে আসছে৷ ভালই প্রতিক্রিয়া৷ করণ জোহরের কথা মনে পড়ছে৷ করণ তো ‘বাজিরাও’-এর ট্রেলার দেখেই ফোন করেছিল৷ বলল, তুমি তো জুয়েলারি প্রায় ব্যবহারই করো না৷ কিন্তু এখানে ‘মস্তানি’-তে এত ভারী ভারী অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করতে হয়েছে, তলোয়ার চালাতে হয়েছে, ঘোড়ার পিঠে উঠে দৌড়তে হয়েছে৷ কীভাবে ম্যানেজ করলে? আমি করণকে থ্যাঙ্কস জানিয়েছি ওর অবজার্ভেশনের জন্য৷ আমার ভালো লেগেছে যে করণ আমার এই ব্যাপারটা অবজার্ভ করেছে৷

প্রশ্ন: ‘মস্তানি’-র চরিত্র আপনাকে কতটা প্রভাবিত করেছে? মানুষ হিসেবে, অভিনেতা হিসাবে?

দীপিকা: খুব ইণ্টারেস্টিং মনে হয়েছে৷ বেশ কনট্রাস্ট আছে এই চরিত্রে৷ একইসঙ্গে একজন নারী, যে হাতে তলোয়ার তুলে নিয়ে নিজের ইচ্ছায়, নিজের প্রতিজ্ঞাকে সফল করতে ছুটে যেতে পিছপা হয় না৷ আবার প্রেমে উদ্বেল হয়ে ওঠে৷ একইসঙ্গে তার চোখে রোষ আর মায়া দু’টো ফুটে ওঠে৷ ‘মস্তানি’ সব সময়ের নারীদের ভেতরকার শক্তিকে জাগিয়ে তোলার কথা বলে৷ আমরা সবাই হয়তো তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাই না৷ কিন্তু আরও অনেক যুদ্ধ আমাদের লড়তে হয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে৷ তাকে ফেস করা, চ্যালেঞ্জ জানানোর সঙ্গে মমতাময়ী হয়ে ওঠা, সবই তো চিরকালীন ব্যাপার৷ চরিত্রের এই বৈপরীত্য নিয়েই ‘মস্তানি’ ভীষণভাবে সময়কে পেরিয়ে যায়৷ বেঁচে থাকে৷

প্রশ্ন: আজ পর্যন্ত দশ বছরে আপনি অনেকরকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷ এই চরিত্রগুলোয় অভিনয় করতে গিয়ে সেই চরিত্রের কিছু আর নিজের চরিত্রের কিছু বৈশিষ্ট্যের আদানপ্রদান হয়েছে বলে মনে হয়?

দীপিকা: হ্যাঁ৷ হয়েছে৷ আজ পর্যন্ত যতরকম চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি তার মধ্যে বেশ কিছু চরিত্রে এই আদানপ্রদান ঘটেছে৷ এটা হয়ে যায়৷ কিন্তু আমি সেই চরিত্র থেকে পাই৷ আর ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছুটা সেখানে ঢুকে যায়৷

প্রশ্ন: ভিন ডিজেলের সঙ্গে আপনার হলিউড ছবির যে কথা শোনা যাচ্ছে, তার শুটিং কবে থেকে শুরু হবে?

দীপিকা: আমি কোনও হলিউড ফিল্ম করছি না৷ এখনও পর্যন্ত এরকম কোনও খবর তো আমার জানা নেই৷ আমি জানি না, সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ বা পরিচিতদের মধ্যে কেউ হয়তো এই খবরটা রটিয়ে দিয়েছে৷

প্রশ্ন: কিন্তু ভিন ডিজেলের সঙ্গে আপনার আলিঙ্গনের ছবি দেখা গিয়েছে ফেসবুকে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে?

দীপিকা: (হাসতে হাসতে) ওটাও কারও পরিকল্পিত কাজ৷ আমি লিংকিং রোড ধরে হাঁটছিলাম৷ হঠাত্‍ ভিন ডিজেলের একটা ব্যাকস্ট্যাচুর সামনে এসে পড়লাম৷ ব্যস৷ আমার ছবি ছাপা, পোস্ট হতে শুরু করল৷ (হাসি)

প্রশ্ন: এটা আপনার রসিকতা৷ কিন্তু আপনি সিরিয়াসলি করছেন না কোনও হলিউড ছবি তা হলে?

দীপিকা: সিরিয়াসলি বলছি৷ না, করছি না৷

প্রশ্ন: রণবীর সিংয়ের সঙ্গে আপনার নিখাদ বন্ধুত্বের কথা সবাই জানেন৷ ইদানীং দেখলাম রণবীরকে বেশ খোশমেজাজে দেখা যাচ্ছে৷ যখন তখন গান গেয়ে উঠছেন৷ রণবীর কি বরাবরই গান করেন? নাকি এখন করছেন?

দীপিকা: যতদিন ‘বাজিরাও মস্তানি’-র শুটিং চলেছে, সেটা প্রায় দু’বছর হবে, ততদিন ওকে খুব সিরিয়াস থাকতে হয়েছে৷ বিশেষ করে সেটে৷ ওর চরিত্রের আচার আচরণের সঙ্গে মিলিয়ে সবসময় ও ওতেই ডুবে ছিল৷ কিন্তু ইদানীং দেখছি, শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বেশ দিলদরিয়া মেজাজে রয়েছে৷ যখন তখন গান গেয়ে উঠছে৷ গুনগুন করছে৷

প্রশ্ন: আপনিও তো একটা সময় বেশ গান গাইতেন৷ শট দিতে যাওয়ার আগেও আপনাকে গান গুনগুন করা বা রীতিমতো গাইতে শুনেছি৷

দীপিকা: (হাসি) গাইতাম৷ কিছুটা শেমলেসলিই গাইতাম৷ এখন গাই না৷ রণবীর গায়৷ রণবীর র‍্যাপ সং বেশ ভাল গায়৷ নিজেই কথা বসায়৷ র‍্যাপস আবার আমার আসে না৷ সবার মধ্যে তো আর সবকিছু সমানভাবে আসে না৷ আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলাদা৷ রণবীরের আলাদা৷ তা বলে আমি ওর সঙ্গে বেশ এনজয় করি না, তা নয়৷ এনজয় করি৷ ওর আর একটা জিনিস আছে৷ সেটা বেশ মজার৷

প্রশ্ন: বলুন না!

দীপিকা: সেটা হলো ও প্রথমে আমাকে, সামনে যে থাকবে তাকে ইনসিস্ট করবে গান গাওয়ার জন্য৷ এটা ওর একরকমের কৌশল৷ আসলে ওর নিজেরই গান গাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে, তাই ওরকম করবে৷ তারপরে কেউ যদি গুনগুন করে, তখনই নিজেরটা শুরু করে দেবে আর বেশ গলা ছেড়ে৷ (হা-হা)

প্রশ্ন: আমরা যেটা হামেশাই দেখেছি সেটা হল রণবীরের মিমিক্রি৷ নানারকম অঙ্গভঙ্গি করে ও পরিবেশকে মজার করে তোলে৷

দীপিকা: ও ভালো গান লেখে৷ কবিতাও। -ওয়েবসাইট






মন্তব্য চালু নেই