মেইন ম্যেনু

হাই ব্লাড প্রেসারের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো জেনে নিন

যেকোন ঔষধেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের ঔষধও এর ব্যতিক্রম নয়। হাইপারটেনশনের ঔষধ গ্রহণ করলে অনেকেরই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়না এবং কখনো কখনো তা হয় মাঝারি ধরণের। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিষয়টি চিকিৎসকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। চুপ করে থেকে সহ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। বর্তমানে হাইপার টেনশনের অনেক ধরণের ঔষধ আছে। হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে সাধারণত যে ঔষধগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো হচ্ছে- বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, লিসিনোপ্রিল, লোসারটেন, অলম্যাসারটেন এবং ম্যাটোপ্রোলন। এই সবগুলো ঔষধই ব্লাড প্রেসার নিরাময়ে কাজ করে। এই ঔষধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার

নিম্ন পা বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হলে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ঔষধ ব্যবহার করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ ঔষধ এটি। এই ধরণের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরানোর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বমি বমি ভাব ও বুক জ্বলার মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

লিসিনোপ্রিল

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরেকটি ঔষধ হচ্ছে লিসিনোপ্রিল। কিডনি অথবা লিভারের সমস্যা আছে এমন মানুষদের এই ঔষধটি গ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়। এই ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় কাশি, মাথাব্যথা ও মাথাঘোরানোর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ম্যাটোপ্রোলন

এটি এক ধরণের বিটা ব্লকার ঔষধ যা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় সাহায্য করে। এটি হৃদস্পন্দন কমায়। হার্টের সমস্যা ও মারাত্মক রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা আছে যাদের তাদের এই ধরণের ঔষধ সেবন করা ঠিক নয়। মাথাঘোরা, কাশি ও ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে ম্যাটোপ্রোলন।

লোসারটেন

প্রেগন্যান্ট নারীদের উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এবং কিডনি রোগীদের লোসারটেন সেবন করা উচিৎ নয়। কারণ এর ফলে কিডনি ক্ষয়ের মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। লোসারটেন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হচ্ছে- ঠান্ডা লাগা, কাশি, পেটে ব্যথা ও মাথাব্যথা হওয়া।

অলম্যাসারটেন আরেকটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঔষধ। এই ঔষধটিও প্রেগন্যান্ট অবস্থায় গ্রহণ করা উচিৎ নয়। কারণ এতে ভ্রুনের ক্ষতি হতে পারে। দুর্বলতা, মাথাঘোরা ও অ্যালার্জির মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় :

অনেক সময় ঔষধের সমন্বয় করে বা পরিবর্তন করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেকোন ধরণের ঔষধ গ্রহণের পূর্বে ডাক্তারের সাথে কথা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ। ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য ডাক্তার হয়তো আপনার ঔষধের ডোজ কমিয়ে দেবেন। প্রাকৃতিক উপায়েও আপনি আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

সাধারণ সতর্কতা :

১। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ গ্রহণ করা বন্ধ করবেন না। কারণ এর ফলে মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে যেমন- হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

২। যদি আপনি প্রেগন্যান্ট হন বা কনসিভ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিরাপদ ঔষধ গ্রহণ করুন। ACE inhibitors / angiotensin II Receptor blockers (ARBS) প্রেগন্যান্ট নারীদের ও গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৩। যদি আপনি ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনার ডাইইউরেটিক বা বিটা ব্লকার এর মত হাই ব্লাড প্রেসারের ঔষধ সেবন করা উচিৎ নয়। কারণ এতে রক্তের সুগার লেভেলে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই