মেইন ম্যেনু

হাজীগঞ্জে হিন্দু মৎস্যজীবির গলা কাটা লাশ উদ্ধার ॥ আটক ১

সুজন দাস, চাঁদপুর থেকে  : হাজীগঞ্জে এক হিন্দু মৎস্যজীবিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ডাকাতিয়া নদী থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত ব্যক্তির নাম নিখিল চন্দ্র দাস (৪৮)। হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের দাস বাড়ির ননী গোপাল দাসের বড় ছেলে তিনি। লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিখিলের বাবা ও দুই ভাই পলাতক রয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ হেলেন চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন।

গতকাল বিকালে নিখিলের স্ত্রী রাধা রানী দাস বাদী হয়ে তাঁর শ্বশুর ননী গোপাল দাস (৭০), দুই দেবর সুনীল চন্দ্র দাস (৪২) ও প্রমিন চন্দ্র দাস (৩৬) কে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

থানায় মামলা ও নিখিলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সহায় সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নিখিলের বাবা ও ভাইদের সাথে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে নয় মাস পূর্বে নিখিল হাজীগঞ্জ বাজারে ভাড়া বাসায় উঠেন। গত বছর নিখিলের ছোট ভাই সুনীল চন্দ্র দাস পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর মাথা ফাটিয়েছেন।

গত শনিবার দুপুরে নিখিল হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ গ্রামে লোকনাথ সংঘের কমিটি গঠনের সভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে তাকে মোবাইল ফোনে একজন ডেকে নেয়। তারপর থেকে নিখিল নিখোঁজ হন। রোববার সন্ধ্যায় নিখিলের স্ত্রী রাধা রানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

রাধা রানী অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সকালে নিখিলের লাশ ডাকাতিয়া নদীতে পাওয়া গেছে বলে তাঁর শ্বশুর ননী গোপাল দাস এলাকায় খবর পাঠান। পরে এএসপি (হাজীগঞ্জ সার্কেল) আবু হানিফ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম ও উপ পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান নিখিলের লাশ উদ্ধার করেন। লাশ উদ্ধারের পর নিখিলের বাবা ও দুই ভাই পালিয়ে যায়।

এসআই আবদুল মান্নান বলেন, নিখিলকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর গলায় তিন ইঞ্চি পর্যন্ত কাটা দাগ রয়েছে। লাশ গুম করার জন্য হত্যাকারীরা নদীর মধ্যে ভেসাল জালের খুটির সাথে লাশ বেঁধে রাখেন। তিনি আরো জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম মীর জানান, সোমবার সকালে রাধারানী আমাকে ঘটনাটি জানাতে আমার বাড়িতে আসেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম জানান, নিখিলের সাথে বাড়ির জায়গা সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ছিল। হাজীগঞ্জ বাজারে ভাড়া বাসায় উঠার পর এখানেও বিরোধের খবর শোনা গেছে। দুইটি ঘটনাকে লক্ষ্য করে মামলার তদন্ত চলছে।

নিখিলের বড় মেয়ে স্বর্ণা রানী দাস হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষে ও একমাত্র ছেলে সুবল চন্দ্র দাস অলিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন।






মন্তব্য চালু নেই