মেইন ম্যেনু

হাত বাড়ালেই মিলছে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট!

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট এখন আর অর্জন করতে হচ্ছে না। বরং টাকার বিনিময়ে হাত বাড়ালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি মেডিকেল কলেজেরও জাল সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো মিলছে কোথায়? আর বানাচ্ছেই বা কারা? এসব প্রশ্নের উত্তর ওঠে এসেছে সংবাদ ভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভি-র অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধান বিষয়ক অনুষ্ঠান ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি-তে।

শুক্রবার প্রচারিত ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রির প্রতিবেদনে দেখা যায়, নীলক্ষেতের হযরত বাকুশা হকার্স মার্কেট এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দোকানের খোঁজ পাওয়া যায়। যেখানে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সার্টিফিকেট মিলে। ছদ্মবেশে প্রতিবেদক দোকানের কারিগরদের সাথে কথা বলার ফাঁকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে মো. আরিফ হোসেন আকাশ নামের এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তারা। কার্ডে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ হলে আরিফ সরাসরি যোগাযোগ না করে মার্কেটের পাশের পেট্রোল পাম্পে অপেক্ষা করতে বলেন। এক ঘণ্টা পর আরিফ হাজির হন ওই পেট্রোল পাম্পে। দেখা করে আরিফ বলেন, ‘আপনার নাম ও সাবজেক্টের নাম লেখবেন। এরপর এরপর আমাকে একটা কল দিবেন।’

আরিফ আরও জানান, শুধু জাল সার্টিফিকেট নয়। ব্যাংকের জাল চেক, জাল দলিলসহ সব ধরনের কাজ তিনি করেন। কেউ নকল কিনা ধরতে পারবে না বলেও গ্যারান্টি দেন। তবে এর জন্য টাকা বেশি দিতে হবে।

আরিফ বলেন, ‘কাজ দিয়েন, এটা দিয়ে যদি চাকরি হয় তাহলে আরও কাজ দিয়েন। তবে এর জন্য ছয় হাজার টাকা লাগবে।’

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট চাইলে আরিফ বলেন, ‘বাবা-মায়ের নাম ও হলের নাম কি দিবেন?’

নাম-ঠিকানা একটি কাগজে লিখে দেয়ার পর কীভাবে এগুলো বানানো হবে জানতে চাইলে তিনি তার সাথে একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার কম্পিউটারে রক্ষিত আছে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের ফরমেট ও আসল সার্টিফিকেটের কাগজ (ফটোকপি)। দশ-পনেরো মিনিট পরে তৈরি হয়ে যায় জাল সার্টিফিকেট। কাজ শেষ হয়ে গেলে তার দোকানে এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি চলে যান নিউ মার্কেট থানার সামনে। সেখানেই নিখুঁতভাবে তৈরি করা জাল সার্টিফিকেটগুলো হস্তান্তর করেন আরিফ।

প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, জাল সার্টিফিকেট তৈরির এই চক্র শুধু নীলক্ষেতেই সীমাবদ্ধ না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে তারা। মোহাম্মদপুরের টাউন হল মার্কেটে গিয়েও পাওয়া যায় জাল সার্টিফিকেট তৈরির কারিগরদের। সেখানে মাত্র এক হাজার টাকায় পাওয়া গেল এসএসসি পরীক্ষার জাল সনদ।

এদিকে বনানী সুপার মার্কেটেও খুঁজে পাওয়া গেছে সাজিদ নামের এক কারিগরকে। তিনি চার হাজার টাকার বিনিময়ে দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট বানিয়ে দিতে রাজি হন। মাত্র ২০ মিনিট পর ট্রেসিং পেপারে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে দেন।

রাজধানীর নীলক্ষেত, বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় এমন সক্রিয় কিছু চক্রের তথ্য রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, চক্রগুলো তিন ধাপে কাজ করে থাকে। প্রথম গ্রুপের কাজ হচ্ছে কাস্টমার সংগ্রহ করা। দ্বিতীয় গ্রুপের কাজ আসল সার্টিফিকেটের ফরমেট ও বিশেষ ধরনের কাগজ সংগ্রহ করা এবং তৃতীয় গ্রুপটির কাজ নিখুঁতভাবে কম্পিউটারে সার্টিফিকেট তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে দেখা যায়, এরকম একটি চক্রকে ধরতে অভিযান চালান ঢাকা মহানগরের গোয়ান্দা পুলিশের একটি দল। ছদ্মবেশে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকির নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। নীলক্ষেতের সেই আরিফের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সার্টিফিকেট চেয়ে ফোন করেন লাকি। দশ মিনিট পর আরিফ এসে লাকিকে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে আরিফের সন্দেহ হলে কেটে পরার চেষ্টা করেন কিন্তু তার আগেই গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়তে হয় তাকে।

এরপর আরিফকে নিয়ে জাল সার্টিফিকেট তৈরির দোকানে-দোকানে অভিযান চালান গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে জাল সার্টিফিকেট, জাল চেক, জাল জন্ম সনদসহ আরিফ, ইয়াসিন আলী ও কামাল হোসেন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেসময় তাদের কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই