মেইন ম্যেনু

হাবলের চোখে নতুন ছায়াপথ (ভিডিও)

মহাকাশ বিষয়ে যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের কাছে অতি পরিচিত নাম হাবল টেলিস্কোপ। ১৯৯০ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে বসানো এই টেলিস্কোপটি একের পর এক উপহার দিয়ে চলেছে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর সব ছবি।

সম্প্রতি হাবল টেলিস্কোপ যে কাজটি করেছে তাতে হতবাক জ্যোর্তিবিদরা। মহাজাগতিক দূরত্বের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দূরবর্তী ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই টেলিস্কোপ। ছায়াপথটির নাম দেওয়া হয়েছে জিএন-জেড১১। দারুণ এ তথ্যের ফলে গবেষণার নতুন দ্বারও উন্মোচিত হয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হাবল টেলিস্কোপ যে ছায়াপথটি শনাক্ত করেছে, তা ১৩ হাজার চারশো কোটি আলোকবর্ষ দূরে। টেলিস্কোপের মাধ্যমে সন্ধান পাওয়া এ যাবতকালের মধ্যে এ ছায়াপথটির দূরত্ব সবচেয়ে বেশি। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় মহাবিশ্ব কেমন ছিল সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এর থেকে একটি ধারণা পেতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, হাবল টেলিস্কোপে তোলা নতুন এ ছায়াপথটি মহাবিশ্বের মহাবিস্ফোরণ বিগ ব্যাং এর ৪০০ মিলিয়ন বছর পরের অবস্থা। যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। কারণ ছায়াপথ থেকে আলো হাবল টেলিস্কোপে এসে পোঁছাতে ১৩.৪ বিলিয়ন বছর সময় লেগে গেছে!

হাবল টেলিস্কপের জন্য ছায়াপথটিকে হয়তো খুঁজে পাওয়া সহজ হতো না, যদি না এটিতে তখন অনেক বেশি পরিমাণে নক্ষত্র তৈরির কাজ চলতো। বেশি বেশি নক্ষত্র তৈরির প্রাথমিক অবস্থায় থাকার কারণে এটি বেশ উজ্জ্বল অবস্থায় ধরা পড়ে।

নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী, জিএন-জেড১১ ছায়াপথটি আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থেকে ২৫ গুণ ছোট। এবং আমাদের ছায়াপথে যে পরিমাণ নক্ষত্র আছে তার ভরের মাত্র ১% ভর আছে নতুন খুঁজে পাওয়া ছায়াপথটির। কিন্তু এটি আকাশগঙ্গা অপেক্ষা প্রায় ২০ গুণ দ্রুত নতুন নক্ষত্র তৈরি করেছে, যা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে বিগ ব্যাং এর পরপরই জন্ম নেওয়া কোনো ছায়াপথের জন্য খুবই আশ্চর্যের।

নাসা একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নতুন এই ছায়াপথ জিএন-জেড১১ এর অবস্থান চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানী পিটার ভ্যান ডোকাম বলেন, ‘যতদিন না জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের ব্যবহার শুরু হচ্ছে ততদিন হাবলের এই রেকর্ড অক্ষত থাকবে।’

প্রসঙ্গত, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে নাসা ৮৮০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০১৮ সালে চালু করতে যাচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।






মন্তব্য চালু নেই