মেইন ম্যেনু

হামলার মাঝে ইন্টারনেটও ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা!

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টা। অভিজাত এলাকা গুলশানে চলছে ব্যস্ত সময়। ঠিক অফিস-আদালতের ব্যস্ততা না। রাতের খাবার, কেনাকাটা কিংবা হালকা ব্যায়ামের জন্য বেড়ানোর ব্যস্ত সময়। রমজানের কারণে এ পাড়ার অফিসগুলো ছুটি হয়ে যায় বিকেলেই।

ঠিক ওই সময়ে স্প্যানিশ হোটেল হলি আর্টিজানে ঢুকে পড়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল। প্রথমে চলে ফাঁকা গুলি, এরপর জিম্মি আর হত্যাকাণ্ড। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গুলির পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রও ব্যবহার করেছে।

ওই হামলায় দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছে ইন্টারনেটও। স্মার্টফোনও ব্যবহার করে থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে পুলিশ জানায়, সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুলির শব্দ শোনার পর।

এরপর ভেতরে কী হয়েছে তা কোনো গণমাধ্যমই জানতে পারেনি। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ঠিকই জানিয়েছে ভেতরের চিত্র। কিছুক্ষণ পরেই ওই রেস্তোরাঁয় হামলা ও জিম্মি করার কথা স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বার্তা সংস্থা ‘আমাক’ হলি আর্টিজানের পরিস্থিতির তথ্য দিয়ে ওই দায় স্বীকারের কথাটি জানায়। যদি আইএসই করে থাকে তবে ভেতরে অবস্থান নিশ্চিত করেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

গত শুক্রবার সারা রাত বলা হয়, ভেতরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে আছেন কেবল দুজন পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে আমাক সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে আইএস জানায়, হলি আর্টিজানের মধ্যে নিহত হয়েছে ২০ জনের বেশি।

বিবিসি বাংলা জানায়, আমাকের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের ঢাকা শহরে বিদেশিদের ঘন ঘন আনাগোনা আছে এমন একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়েছে ইসলামিক স্টেটের কমান্ডোরা।’

কেবল ওই তথ্য জানানো নয়, আমাক টুইটারে একাধিক নিহত জিম্মির রক্তাক্ত লাশের ছবিও প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, মেঝজুড়ে পড়ে আছে লাশ। রক্তে লাল হয়ে আছে মেঝে। আর্টিজানের ভেতর থেকেই ছবিগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় আমাক বা অন্য কোথাও।

বিশ্লষকরা বলছেন, জিম্মি ঘটনা চলার সময় হোটেলে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা। পরিকল্পিতভাবেই তারা তাদের গন্তব্যে ঘটনাস্থলের ছবি ও সংবাদ পাঠাতে পেরেছে।






মন্তব্য চালু নেই