মেইন ম্যেনু

হারিয়ে দিন দুঃস্বপ্নকে!

অন্ধকার একটা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন আপনি। হাঁটছেন… হাঁটছেন… হাঁটছেন… হঠাৎ করেই পায়ের নীচের রাস্তাটা চলতে শুরু করল। পেছন থেকে শোনা যেতে লাগল অসম্ভব তীক্ষ্ণ কোন চিৎকার। চারপাশটা কেমন যেন শীতলতায় ভরে যেতে লাগল। কেউ বলে দেয়নি। তবে বুঝতে দেরি হল না আপনার। আবচেতন মন বলে দিল ফিসফিসিয়ে- পালাও! দৌড়াও! ছুটতে আরম্ভ করলেন আপনি। কিন্তু কেথায়? সামনে যে কেবলই অন্ধকার। আর পায়ের নীচের রাস্তাটার গতিও বেড়ে চলেছে প্রতিটা মিনিটে আরো একটু বেশি করে। দৌড়ানোর এক পর্যায়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন আপনি। প্রচন্ড জোরে চিৎকার করে উঠলেন। আর তার পরপরই দেখতে পেলেন- কোথায় রাস্তা? নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে আছেন আপনি। আবার ঘুমের ভেতরে হানা দিয়ে গিয়েছে আপনাকে চিরচেনা দুঃস্বপ্নগুলো।

ঘুমের ভেতরে দুঃস্বপ্ন দেখে রাতে হঠাৎ করে জেগে যাওয়ার এই প্রবণতা কেবল আপনার একার নয়, আছে পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ পূর্ণবয়স্ক মানুষের জীবনেই। কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে, কেন এমন দুঃস্বপ্ন দেখেন আপনি?

দুঃস্বপ্ন মানুষ দেখে বেশ কিছু কারণে। এর পেছনে থাকতে পারে বাজে কোন অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্যের কোন সমস্যা, ঘুমের সমস্যা, জীনগত সমস্যা ও আলঝেইমারের মতন কিছু রোগের উপস্থিতি। এ ব্যাপারে শিকাগোর সেইন্ট লুকস মেডিকেল সেন্টারের ঘুমের সমস্যা সংক্রান্ত ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ডক্টর রোজালিন কার্টরাইট বলেন- দুঃস্বপ্ন মূলত ক্রিয়াহীন স্বপ্ন।

এসময়ে আপনার প্রাত্যাহিক জীবন ঘটে যাওয়া নতুন সব ঘটনার সাথে পুরোন সব অভিজ্ঞতার মিশেলে বাধা সৃষ্টি করে মস্তিষ্ক। অতিরিক্ত স্মৃতি ও চাপের ফলে ঘটে যাওয়া এই বাধাকেই সহজভাবে নিতে পারেনা মস্তিষ্ক। আর তৈরি করে ঘুমের ভেতরে অদ্ভূত সব দুঃস্বপ্ন।

তবে ইচ্ছে করলেই নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এই দুঃস্বপ্নগুলোকে আটকে দিতে পারেন আপনি। আর এ জন্যে-

১. নিজেকে বোঝান

নিজেকে বোঝান যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন। ব্যাপারটা খুব অদ্ভূতরকম শোনালেও বাস্তবে এটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঘুমের ভেতরে দুঃস্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করুন যে, আপনি দুঃস্বপ্ন দেখছেন। এটা সত্যি নয়। দেখবেন নিমিষে আপনার দুঃস্বপ্ন ছেড়ে যাবে আপনার মস্তিষ্ককে। ইচ্ছে হলেও সেটা ইতিবাচক স্বপ্নেও রুপান্তরিত করতে পরেন আপনি। তবে এজন্যে দরকার পড়বে অনুশীলন আর ইচ্ছাশক্তির।

২. স্বপ্ন লিখে রাখুন

প্রতিরাতে ঘুমের ভেতরে দেখা দুঃস্বপ্ন ও স্বপ্ন- সবগুলোই একটি খাতায় লিখে রাখুন। বোঝার চেষ্টা করুন যে কোন কারণে এই স্বপ্নগুলো দেখছেন আপনি। কোন নির্দিষ্ট কারণ যদি প্রতিদিন হাজির থাকে আপনার দুঃস্বপ্ন দেখা দিনগুলোর ভেতরে, তাহলে দুঃস্বপ্নকে বদলাতে না চেষ্টা করে সেই কারণটিকে থামাবার চেষ্টা করুন।

৩. হতাশা দূর করুন

হতাশাকে নিজের জীবন থেকে তাড়িয়ে দিন। অন্তত ঘুমের আগে হলেও নিজেকে দুটো কথা বলে নিন। প্রথমটি হচ্ছে- এখন যা দেখব সেটা কেবলই স্বপ্ন। আর পরেরটি হচ্ছে এই যে, আমি ভালো আছি। ঘুমের আগে অনন্দ নিজেকে খুশি করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। ভালো লাগে এমন কোন কাজ করুন। কারণ চিকিৎসকদের পরীক্ষা অনুযায়ী, এমন অনেক মানুষ আছেন যারা হতাশার কারণে দুঃস্বপ্ন বেশি দেখতেন। হতাশাকে যখন তারা তাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেন তখনই কেবল দুঃস্বপ্ন ছুটি নিয়েছিল তাদের কাছ থেকে।

৪. চিত হয়ে ঘুমোবেন না

চিত হয়ে বা পিঠের দিকে চাপ দিয়ে ঘুমানো থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এভাবে ঘুমোলে মানুষের ভেতরে স্লিপ প্যারালাইসিস দেখা দেয় বেশি। ফলে ঘুমের ভেতরেই শরীর অস্বস্তিবোধ করে এবং নড়াচড়া করতে না পারার দরুন চাপের মুখে পড়ে। দুঃস্বপ্ন দেখে। এছাড়াও ঘুমের আগে কোনকিছু খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন।






মন্তব্য চালু নেই